বাংলাদেশ

‘চট্টগ্রামে পর্যাপ্ত বিমান শক্তি থাকলে হয়ত রোহিঙ্গা সংকট সৃষ্টি হত না’

সেনাপ্রধান ওয়াকার-উজ-জামান বলেছেন, দেশের দক্ষিণ-পূর্ব উপকূল—বিশেষ করে কক্সবাজার ও চট্টগ্রাম অঞ্চলে যদি শক্তিশালী বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা থাকত, তাহলে রোহিঙ্গা সংকট হয়তো এভাবে তৈরি হতো না।

বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) ন্যাশনাল ডিফেন্স কলেজ-এর ‘ক্যাপস্টোন কোর্স ২০২৬/১’ সমাপনী অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি মূলত দেশের সামরিক সক্ষমতার সীমাবদ্ধতা তুলে ধরে বলেন, যুদ্ধ এড়াতেও শক্তিশালী প্রতিরক্ষা প্রস্তুতি জরুরি। তার বক্তব্যে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক উঠে আসে:

১. বিমান ও নৌবাহিনীর সক্ষমতা ঘাটতি
তিনি বলেন, দীর্ঘদিন ধরে আধুনিক মাল্টি-রোল যুদ্ধবিমান কেনা হয়নি। একইভাবে বাংলাদেশ নৌবাহিনী-এর পর্যাপ্ত ওপিভি (Offshore Patrol Vessel) না থাকায় ছোট জাহাজ দিয়ে টহল দিতে হচ্ছে, যা কার্যকর ও সাশ্রয়ী নয়।

২. প্রতিরক্ষা বিনিয়োগের গুরুত্ব
তার মতে, সময়মতো প্রতিরক্ষায় বিনিয়োগ করলে ভবিষ্যতের বড় ক্ষতি এড়ানো সম্ভব। “যুদ্ধের প্রস্তুতি যুদ্ধ করার জন্য নয়, বরং যুদ্ধ ঠেকানোর জন্য”—এই নীতিই তিনি গুরুত্ব দেন।

৩. জ্বালানি নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ
দেশের একমাত্র তেল শোধনাগার ইস্টার্ন রিফাইনারি মোট চাহিদার মাত্র ১০–১৫% পরিশোধন করতে পারে বলে তিনি উল্লেখ করেন। ফলে অধিকাংশ জ্বালানি পরিশোধিত অবস্থায় আমদানি করতে হয়, যা ব্যয়বহুল।

৪. সমুদ্রপথ ও অর্থনীতি
বাংলাদেশের আমদানি-রপ্তানি সমুদ্রনির্ভর হওয়ায় নৌপথের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে শক্তিশালী নৌবাহিনী অপরিহার্য বলে তিনি মন্তব্য করেন।

সংশ্লিষ্ট খবর

Back to top button