আইন-বিচারবাংলাদেশ

মামলার ভুল থেকে মুক্তি মিলল জাহালমের

ভুল আসামি করায় টাঙ্গাইল জেলার নাগরপুরের ডুমুরিয়া গ্রামের জাহালমকে ২৬ মামলায় অব্যাহতি দিয়েছেন হাইকোর্ট। তবে তার বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া আরো ৭ মামলায় অভিযোগপত্র দাখিল না হওয়ায় ওসব মামলায় তার অব্যাহতির বিষয়ে আদেশ দেননি আদালত। দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) দায়ের করা এই মামলায় ভুল আসামি জাহালমকে সব অভিযোগ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হলো। একইসঙ্গে তাৎক্ষণিকভাবে তাকে মুক্তির নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

আজ রোববার হাইকোর্টের বিচারপতি এফআরএম নাজমুল আহসান ও বিচারপতি কেএম কামরুল কাদেরের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ এই আদেশ দেন। নিরীহ শ্রমিক জাহালমকে গ্রেফতার ও কারাগারে রাখার ঘটনায় দুদকের তদন্ত নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন হাইকোর্ট। আদালত বলেন, বিনা দোষে জাহালামকে কারাগারে রাখা আরেকটি জজ মিয়ার নাটকের মতো ঘটনা।

এ বিষয়টির প্রতি কড়া পদক্ষেপ গ্রহণ করার জন্য সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দেন আদালত। আদালত আরও বলেন, ঘটনার সঙ্গে কোনো সিন্ডিকেট জড়িত থাকলে খুঁজে বের করতে হবে।

আদালতে দুদকের পক্ষে শুনানিতে ছিলেন আইনজীবী মো. খুরশিদ আলম খান। আর জাহালমের পক্ষে শুনানিতে ছিলেন আইনজীবী অমিত দাস গুপ্ত।

পরে অমিত দাস গুপ্ত বলেন, জাহালমকে ২৬ মামলায় অব্যাহতি দিয়েছেন হাইকোর্ট। তবে তার বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া আরো ৭ মামলায় অভিযোগপত্র দাখিল না হওয়ায় ওসব মামলার তার অব্যাহতির বিষয়ে আদেশ দেননি আদালত। ফলে তার মুক্তিতে আর বাধা থাকছে না। সম্প্রতি একটি জাতীয় দৈনিকে ‘৩৩ মামলায় ‘ভুল’ আসামি জেলে : ‘স্যার, আমি জাহালম, সালেক না’ প্রকাশিত শিরোনামের ওই প্রতিবেদনটি গত সোমবার আদালতের নজরে আনেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী অ্যাডভোকেট অমিত দাসগুপ্ত।

এর পরিপ্রেক্ষিতে আজ দুদকের মহাপরিচালক (আইন) মইনুল ইসলাম, দুদকের মামলার বাদী পরিচালক আব্দুল্লাহ আল জাহিদ, আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়রে সচিবের একজন প্রতিনিধি ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সুরক্ষা সেবা বিভাগের সচিবের মনোনীত প্রতিনিধিকে তলব করে।

আজ রোববার সকালে ওই চারজন হাইকোর্টে হাজির হন।

দৈনিক পত্রিকায় প্রকাশিত প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, আবু সালেক নামের এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে সোনালী ব্যাংকের প্রায় সাড়ে ১৮ কোটি টাকা জালিয়াতির দায়ে ৩৩টি মামলা হয়েছে। কিন্তু আবু সালেকের বদলে জেল খাটছেন, আদালতে হাজিরা দিয়ে চলেছেন জাহালম। তিনি পেশায় পাটকল শ্রমিক।

বাংলাটিভি/কায়েস

সংশ্লিষ্ট খবর

Back to top button