Uncategorized

বিশ্ব মুক্ত গণমাধ্যম দিবসে সমষ্টির আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত

সাংবাদিকদের সুরক্ষা নিশ্চিত করা না গেলে গণমাধ্যমের স্বাধীনতার পথ সংকুচিত হয়ে পড়বে বলে মন্তব্য করেছেন বিশিষ্টজনেরা। বিশ্ব মুক্ত গণমাধ্যম দিবস উপলক্ষে গণমাধ্যমবিষয়ক উন্নয়ন সংস্থা ‘সমষ্টি’র আয়োজিত আলোচনা সভায় তারা এ কথা বলেন।

বক্তারা বলেন, জনস্বার্থে সাংবাদিকতা করতে গিয়ে কেউ যেন নিরাপত্তাহীনতায় না ভোগেন, সে বিষয়ে সরকার, গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠান, সাংবাদিক সংগঠন এবং সিভিল সোসাইটি—সবারই সুনির্দিষ্ট দায়িত্ব রয়েছে।

প্রতিবছরের মতো এবারও আয়োজনে অংশ নেন সম্পাদক, সিনিয়র সাংবাদিক, সাংবাদিক সংগঠনের নেতা, আইনগত সহায়তাদানকারী প্রতিনিধি এবং সিভিল সোসাইটির সদস্যরা। আলোচনার বিষয় ছিল—স্বাধীন ও দায়িত্বশীল সাংবাদিকতার জন্য সাংবাদিকদের সুরক্ষা নিশ্চিত করার প্রয়োজনীয়তা।

সমষ্টি’র নির্বাহী পরিচালক মীর মাসরুরুজ্জামানের সঞ্চালনায় আলোচনায় অংশ নেন চর্চা ডটকম সম্পাদক সোহরাব হাসান, চ্যানেল আইয়ের প্রধান নির্বাহী সম্পাদক জাহিদ নেওয়াজ খান, বাংলাদেশ মানবাধিকার সাংবাদিক ফোরামের নির্বাহী পরিচালক খায়রুজ্জামান কামাল, দৈনিক যুগান্তরের সহকারী সম্পাদক শুচি সৈয়দ, স্বাধীন মিডিয়ার সম্পাদক শারমীন রিনভী, জাতীয় প্রেসক্লাবের ব্যবস্থাপনা কমিটির সদস্য শাহনাজ পলি, একাত্তর টিভির বিশেষ প্রতিনিধি শাহনাজ শারমীন, বাংলা অ্যাফেয়ার্সের সিনিয়র রিপোর্টার ও প্রেসেঞ্জোর স্টাফ করেসপন্ডেন্ট রীতা ভৌমিক, বাংলাদেশ জাতীয় মহিলা আইনজীবী সমিতির অ্যাডভোকেট নিগার সুলতানা, আয়কর বার্তার অ্যাডভোকেট মামুনুর রশীদ মামুন, সমষ্টির পরিচালক রেজাউল হক ও কর্মসূচি সমন্বয়ক জাহিদুল হক খান প্রমুখ।

WhatsApp Image 2026 05 03 at 5.53.31 PM 1

সোহরাব হাসান জানান, যখন যে সরকার আসে, সাংবাদিকদের একটি অংশ সরকারদলীয় ছত্রছায়ায় দাপট দেখান। এটি সভ্য সাংবাদিকতার পরিবেশ নয়। এমন পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে সাংবাদিকতার বিকাশ সম্ভব নয়। এ ক্ষেত্রে সাংবাদিক সংগঠনগুলোর পাশাপাশি সরকারকেও দায়িত্ব নিতে হবে।

জাহিদ নেওয়াজ খান বলেন, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর প্রায় ৫০০ সাংবাদিক বিভিন্নভাবে নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। কমপক্ষে ২৫০ সাংবাদিকের নামে হত্যা মামলা হয়েছে। ওই দিন বিকেল ৪টায় বঙ্গভবনের সামনে দায়িত্ব পালন করা এক রিপোর্টারের নামেও হত্যা মামলা হয়েছে। গত বছরের মে থেকে চলতি বছরের এপ্রিল পর্যন্ত প্রায় ৪০০ সংবাদমাধ্যমের নিবন্ধন বাতিল ও সাংবাদিক নির্যাতনের ঘটনা ঘটেছে।

খায়রুজ্জামান কামাল জানান, সাংবাদিকরা নাগরিকদের মানবাধিকার প্রতিষ্ঠায় কাজ করেন। তাই সাংবাদিকদের মানবাধিকার রক্ষায় সব মহলের ভূমিকা প্রয়োজন।

শুচি সৈয়দ বলেন, সাংবাদিকদের ওপর বিভিন্ন মহলের অযাচিত হস্তক্ষেপ যেমন গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ক্ষুণ্ন করে, তেমনি অপসাংবাদিকতা ও সঠিক জ্ঞানচর্চার অভাবেও গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ঝুঁকির মুখে পড়ে।

শারমীন রিনভী জানান, অনেক সময় গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠান সাংবাদিকদের কাছে এমন কিছু প্রত্যাশা করে, যা পূরণ করতে গিয়ে সংবাদকর্মীরা নীতি–নৈতিকতা থেকে বিচ্যুত হন। দায়িত্বশীল ও স্বাধীন সাংবাদিকতার জন্য সাংবাদিকদের পেশাগত সুরক্ষার পাশাপাশি বেতন–ভাতাসহ অনুষঙ্গিক বিষয়ও নিশ্চিত করতে হবে।

শাহনাজ পলি বলেন, সাংবাদিকদের কাছে মানুষের প্রত্যাশা অনেক, কিন্তু সাংবাদিকরা কোনো ঝুঁকিতে পড়লে তাদের পাশে খুব কম মানুষই দাঁড়ান। এ বিষয়ে তিনি সিভিল সোসাইটি সংগঠনগুলোর দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।

ওএফ

সংশ্লিষ্ট খবর

Back to top button