‘ওরা ৯ জন বেড়াতে এসেছিল, তিনজন বেঁচে আছে’

বাংলা টিভি ডেস্ক: ‘আমার ভাগনে-ভাগনিসহ ছয়জন মারা গেছে। আমার তিন বোন। আমি একমাত্র ভাই। আমার তিন বোনের পাঁচ ছেলে-মেয়ে মারা গেছে। বড় ভাগনিরও বাচ্চা মারা গেছে। ওরা ৯ জন বেড়াতে এসেছিল। তিনজন বেঁচে আছে।’ কক্সবাজার সদর হাসপাতালে দাঁড়িয়ে স্বজনদের হারানোর বেদনায় এভাবেই কান্নায় ভেঙে পড়েন আমিনুল ইসলাম।
শনিবার (১৭ অক্টোবর) সকালে কক্সবাজারের উখিয়ার ইনানী পাটুয়ারটেক এলাকার টুপটুপ রিসোর্টে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে তাঁর পরিবারের ছয় সদস্যসহ ১০ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় স্বজনদের হারিয়ে শোকস্তব্ধ হয়ে পড়েছেন তিনি।
নিহতদের মধ্যে রয়েছেন ফারিয়া কবির (৩৩) ও তাঁর পাঁচ বছর বয়সী সন্তান ফাইজান নূর, নাসির উদ্দিন (২৫), ইসরাত জাহান মালিহা (৩০), লায়লা জাহান নাবিলা (২৭), মিলিতা মেহেজাবিন আলভী (২৩) এবং নাফিসতা মীম (২৭)।
রাজধানী ঢাকার বাসিন্দা আমিনুল ইসলাম জানান, অগ্নিকাণ্ডে তাঁর পরিবারের ছয়জন প্রাণ হারিয়েছেন। তাঁদের মৃত্যুর খবর পেয়ে ঢাকা থেকে উড়োজাহাজে কক্সবাজারে আসেন তিনি।
শনিবার বেলা দুইটার দিকে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে সাংবাদিকদের আমিনুল বলেন, শনিবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে তাঁদের ঢাকায় ফিরে যাওয়ার কথা ছিল। গত বৃহস্পতিবার তাঁরা বেড়াতে কক্সবাজারে এসেছিলেন। আগুন লাগার সময় তাঁদের দুজন রিসোর্টের বাইরে ছিলেন। পরে তাঁরাই ফোন করে আগুনের খবর জানান।
স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, শনিবার সকাল সাড়ে সাতটার দিকে মেরিন ড্রাইভ সড়কসংলগ্ন টুপটুপ রিসোর্টে আগুন লাগে। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছান। পরে পুলিশ ও স্থানীয় বাসিন্দারা উদ্ধারকাজে সহায়তা করেন।
বেলা সোয়া দুইটার দিকে ফায়ার সার্ভিসের কক্সবাজারের উপসহকারী পরিচালক সৈয়দ মোরশেদ হোসেন ১০ জনের মরদেহ উদ্ধারের বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, আরও মরদেহ থাকতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে এবং উদ্ধার অভিযান চলছিল।
ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের চট্টগ্রাম বিভাগের উপপরিচালক মো. তৌফিকুল ইসলাম ভূঁইয়া জানান, শনিবার সকাল ৭টা ২৩ মিনিটে কক্সবাজার ফায়ার সার্ভিসে আগুন লাগার খবর আসে। সকাল ৮টার দিকে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছান। সকাল ৮টা ১৫ মিনিটে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা হয়।
তিনি আরও জানান, রিসোর্টের তৃতীয় তলার দুটি শৌচাগার থেকে চারজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
ফায়ার সার্ভিস কর্মকর্তা তৌফিকুল ইসলাম ভূঁইয়া বলেন, সমুদ্রের তীব্র বাতাসের কারণে কাঠের তৈরি রিসোর্টটিতে আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, রিসোর্টটিতে বহনযোগ্য অগ্নিনির্বাপক যন্ত্র, অগ্নিসংকেত ব্যবস্থা, হোসপাইপ ও অগ্নিনিরাপত্তা পরিকল্পনা ছিল না। প্রতিষ্ঠানটির ফায়ার লাইসেন্সও ছিল না বলে জানান তিনি।
তাঁর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, মাত্র সাত থেকে আট মাস আগে রিসোর্টটি নির্মাণ করা হয়েছিল। এ ছাড়া জায়গাটির মালিকানা নিয়েও বিরোধ ছিল।
ভ্রমণের আনন্দ ভাগাভাগি করতে কক্সবাজারে আসা একটি পরিবারের জন্য এই অগ্নিকাণ্ড বয়ে এনেছে অপূরণীয় ক্ষতি। স্বজনদের হারিয়ে আমিনুল ইসলামের আহাজারি যেন ভয়াবহ দুর্ঘটনার পরিণতি ও অগ্নিনিরাপত্তার গুরুত্বকেই আবার সামনে নিয়ে এসেছে।



