‘ইরান যুদ্ধে ৪২টি যুদ্ধবিমান ও ড্রোন হারিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র’

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: চলমান ইরান যুদ্ধকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্রের বড় ধরনের সামরিক ক্ষয়ক্ষতির তথ্য সামনে এসেছে। মার্কিন কংগ্রেসের স্বাধীন গবেষণা সংস্থা কংগ্রেসনাল রিসার্চ সার্ভিস-সিআরএস এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের অন্তত ৪২টি অত্যাধুনিক সামরিক বিমান ও ড্রোন ধ্বংস হয়েছে অথবা গুরুতরভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, যুদ্ধ পরিস্থিতি চলমান থাকায় এবং অনেক তথ্য এখনো গোপন থাকায় প্রকৃত ক্ষয়ক্ষতির সংখ্যা আরও বাড়তে পারে।
এর আগে মার্কিন প্রতিরক্ষা সদর দপ্তর পেন্টাগন জানিয়েছিল, ইরানে পরিচালিত ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ অভিযানে প্রায় ২৯ বিলিয়ন মার্কিন ডলার ব্যয় হয়েছে। পেন্টাগনের ভারপ্রাপ্ত অর্থপ্রধান জুলস ডব্লিউ হার্স্ট তৃতীয় বলেন, ক্ষতিগ্রস্ত সামরিক সরঞ্জাম মেরামত এবং ধ্বংস হওয়া যুদ্ধবিমান প্রতিস্থাপনের কারণেই ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।
সিআরএসের তালিকা অনুযায়ী ক্ষতিগ্রস্ত বা ধ্বংস হওয়া সামরিক সম্পদের মধ্যে রয়েছে—
- ২৪টি এমকিউ-৯ রিপার ড্রোন
- ৪টি এফ-১৫ই স্ট্রাইক ইগল যুদ্ধবিমান
- ১টি এফ-৩৫এ লাইটনিং-২ স্টিলথ ফাইটার জেট
- ১টি এ-১০ থান্ডারবোল্ট-২ গ্রাউন্ড অ্যাটাক বিমান
- ৭টি কেসি-১৩৫ স্ট্রাটোট্যাংকার রিফুয়েলিং বিমান
- ১টি ই-৩ সেন্ট্রি এওয়াকস নজরদারি বিমান
- ২টি এমসি-১৩০জে কমান্ডো-২ বিশেষ অভিযান বিমান
- ১টি এইচএইচ-৬০ডব্লিউ জলি গ্রিন-২ উদ্ধারকারী হেলিকপ্টার
- ১টি এমকিউ-৪সি ট্রাইটন নজরদারি ড্রোন।
তবে এখন পর্যন্ত পেন্টাগন বা মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড আনুষ্ঠানিকভাবে পূর্ণাঙ্গ ক্ষয়ক্ষতির তালিকা প্রকাশ করেনি। সিআরএস মূলত পেন্টাগন, মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড এবং বিভিন্ন গণমাধ্যমের তথ্য বিশ্লেষণ করে এই প্রতিবেদন তৈরি করেছে।
উল্লেখ্য, চলতি বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যৌথভাবে ইরানের বিরুদ্ধে বিমান হামলা শুরু করলে সংঘাতের সূত্রপাত হয়। পরে এপ্রিল মাসে দুই পক্ষের মধ্যে সাময়িক যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়।
এদিকে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সৈয়দ আব্বাস আরাঘচি এই প্রতিবেদন প্রকাশের পর যুক্তরাষ্ট্রকে হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, যুদ্ধ চলাকালে ইরান মার্কিন সামরিক শক্তির দুর্বলতা সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ অভিজ্ঞতা অর্জন করেছে। তার দাবি, ভবিষ্যতে নতুন করে সংঘাত শুরু হলে যুক্তরাষ্ট্র আরও বড় ধরনের “সারপ্রাইজ”-এর মুখোমুখি হতে পারে।



