বিশ্ববাংলা

অসুস্থতার ভান করে আর্থিক সাহায্য আদায় করছিলো সৌদি প্রবাসী সুমন

গত ১১ মাস আগে জীবিকার তাগিদে সৌদি আরব পাড়ি দেন জামালপুরের সুমন আলী। পরিচিত এক লোকের কাছ থেকে ভিসা নিয়ে সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদে আসেন সুমন। এর প্রায় ৩ মাস পর আকামা হাতে পেয়ে কাজের সন্ধানে সুমন পবিত্র নগরী মদিনায় এসেছিলেন।

সৌদি আরবে দীর্ঘ ৬ মাস ধরে মানবেতর জীবন কাটাচ্ছে বাংলাদেশী সুমন -এমন শিরোনামে প্রকাশিত একটি সংবাদ দ্রুত ভাইরাল হয় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে। তার কষ্টের কথা শুনে স্থানীয়রা নানাভাবে সহায়তা করেছেন তাকে। পাশাপাশি বাংলাদেশ কনস্যুলেট জেদ্দাও বিষয়টি জানতে পেরে তাকে পূর্ণ সহায়তার আশ্বাস দেন এবং সেটি তারা বাস্তবায়নও করেন। এখন সুমন দেশে ফিরছেন, চিকিৎসা করে সুস্থ হয়ে উঠবেন-এমনটাই প্রত্যাশা লাখো প্রবাসীর। কিন্তু বিপত্তি বাধায় জেদ্দা কনস্যুলেট থেকে পাঠানো একটি প্রতিবাদ বিজ্ঞপ্তি। এরপর শুরু হয় অনুসন্ধান। যা জানা যায় তা শুনলে হতবাক হয়ে যাবেন আপনি।

সুমনের এরকম মানবেতর জীবনের কথা শুনে তার কাছে ছুঁটে যান গণমাধ্যমকর্মী,সাধারণ প্রবাসীসহ দেশ থেকে হজ করতে আসা প্রভাবশালী ব্যক্তিরাও। সবাই তার পাশে দাড়ান, সহায়তার হাত বাড়িয়ে দেন। বাংলাদেশের জেদ্দা কনস্যুলেট থেকেও তাকে দেশে ফেরার পূর্ণ সহায়তা দেওয়া হয়।

সুমন বাড়ি যাবেন চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ হয়ে উঠবেন গল্পটা এরকমই হওয়ার কথা ছিলো। কিন্তু জেদ্দা কনস্যুলেটের একটি প্রতিবাদ বিজ্ঞপ্তি পাল্টে দেয় দৃশ্যপট। শুরু হয় অনুসন্ধান। জানা যায়, সুমন সুস্থ সবল একজন মানুষ। তাকে প্রায় সময়ই হাটা চলা করতে দেখেছেন অনেকে। কিন্তু প্রমাণের অভাবে তাকে কিছুই বলা যাচ্ছিলো না। ঘটনার সাথে লেগে থাকেন এই প্রতিবেদক।

অনেকটা হঠাৎ করেই আবিষ্কার করেন, সুমন গত ৬ মাস ধরে যে জায়গায় পড়ে ছিলেন সেখানে তিনি নেই। খোঁজ নিয়ে জানা যায় পাশের মার্কেটে চিকিৎসার জন্য টাকা সংগ্রহে গেছেন সুমন। কিছুক্ষণ পর সুমন তার জায়গায় ফিরে আসলে সবকিছু দিনের আলোর মতো পরিষ্কার হয়ে উঠে।

যেসব অসুখের কথা বলে সুমন মানুষের কাছ থেকে করুণা ভিক্ষা করতো তার পুরোটাই ছিলো ভুয়া। আর একাজে সুমনকে যারা সহায়তা করেছেন তাদের আর খুজে পাওয়া যাচ্ছে না।

দেশে ফিরেছে সুমন। প্রচলিত আইনে তার সাজা হবে। কিন্তু দেশের নষ্ট হওয়া ভাবমূর্তি কি ফিরে আসবে?

 

সংশ্লিষ্ট খবর

Back to top button
Close