বিশ্ববাংলা

আফ্রিকায় বাংলাদেশিদের দোকান উচ্ছেদের আল্টিমেটাম কৃষনাঙ্গদের

ভেজাল ও মেয়াদ উত্তীর্ণ পণ্য বিক্রির অভিযোগ এনে গত ২৯ এবং ৩০ সেপ্টেম্বর বিদেশীদের দোকানে হামলা, ভাংচুর ও লুটপাট চালায় দক্ষিণ আফ্রিকার জোহানেসবার্গ সংলগ্ন সোয়েটো লোকেশনের স্থানীয় কৃষ্ণাঙ্গরা। এই ঘটনায় এখন পর্যন্ত ২ জন স্কুলছাত্রসহ ৪ জন কৃষ্ণাঙ্গ নিহত হয়েছেন।

দক্ষিণ আফ্রিকার সোয়েটো লোকেশনে চলতে থাকা সংঘর্ষের ঘটনায় আতংকিত হয়ে পড়েছেন বাংলাদেশী প্রবাসীরা। গত ২৯ এবং ৩০ আগস্ট ঘটে যাওয়ায় জেনোপোবিয়ায় অন্তত ১৫০০ বিদেশীর দোকান ভাংচুর ও লুট করে স্থানীয় আফ্রিকান কৃষ্ণাঙ্গরা। যার মধ্যে ৭ শতাধিক বাংলাদেশী মালিকানাধীন দোকান রয়েছে। এই ঘটনায় এখন পর্যন্ত ২ জন স্কুলছাত্রসহ ৪ জন কৃষ্ণাঙ্গ নিহত হয়েছেন। এরপরই সেভ এন্ড ক্লিন সাউথ আফ্রিকা নামে একটি সংগঠন ৮ সেপ্টেম্বরের মধ্যে সব বিদেশীদের দোকান থেকে বের করে দেয়ার আল্টিমেটাম দেয়। ঘোষণার পর থেকে এখন পর্যন্ত আতংকিত ব্যবসায়ীরা দোকানে ফিরে যাননি। বিস্তারিত দেখুন নুরুল আলমের রির্পোটে।

দক্ষিণ আফ্রিকার সোয়েটো লোকেশনে চলতে থাকা সংঘর্ষের মাঝে কিভাবে আবার নিজ দোকানে ফিরে যাওয়া যায় এবং এই ঘটনার রেশ ধরে আর কি কি হতে পারে…. এসব বিষয় নিয়ে সোয়েটো ডিপলোফ পুলিশ স্টেশনে বাংলাদেশ হাইকমিশন এবং ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের সাথে এক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। স্থানীয় ব্যবসায়ী ও কমিউনিটি নেতা আবু নাসের শামীম এই সভার আয়োজন করেন।

এতে উপস্থিত ছিলেন,ডিপলোফ পুলিশ স্টেশনের কর্নেল নিজিমান্ডি, কেপ্টেইন মেত্তো, ইন্টিলিজেন্স ব্রাঞ্চ কেপ্টেইন মেজেলো, বাংলাদেশ হাইকমিশনের কাউন্সিলর খালেদা বেগম, দক্ষিণ আফ্রিকা আওয়ামীলগের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল আওয়াল তানসেন, সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুল আওয়াল সোহেল এবং প্রেসক্লাব সাধারণ সাধারণ সম্পাদক নুরুল আলম।

এসময় কর্নেল নিজিমান্ডে বলেন,জেনোপোবিয়ায় নিহতদের দুইজন স্কুল ছাত্র। তাদের শেষকৃত্য শেষে যেকোনো ধরণের সহিংস ঘটনা ঘটতে পারে। অতএব পরিস্থিতি শান্ত হওয়ার আগে কোন অবস্থাতেই দোকান  না খোলার পরামর্শ দেন তিনি।

কেপ্টেইন মেত্তো বলেন,স্থানীয় কৃষ্ণাঙ্গদের ক্ষোভ সোমালিয়ান এবং ইথোপিয়ানদের উপর হলেও লুটপাট এবং ভাংচুর শুরু হলে সেটা সবার উপর গিয়ে পড়ে। সুতরাং দোকান বন্ধ থাকবে।

এসময় বাংলাদেশীদের প্রশংসা করেন পুলিশ কর্মকর্তারা। ইন্টিলিজেন্স ব্রাঞ্চের কেপটেইন মেজেলো জানান, পুলিশের পক্ষ থেকে সবুজ সংকেত না পাওয়া পর্যন্ত সবাইকে নিরাপদ স্থানে থাকতে হবে।

বাংলাদেশ হাইকমিশনের পক্ষ থেকে সমবেদনা জানিয়ে বলা হয়েছে,পরিস্থিতি পর্যবেক্ষন করা হচ্ছে। এসময় দক্ষিণ আফ্রিকা আওয়ামীলগের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল আওয়াল তানসেন,ভেজাল ও মেয়াদ উত্তীর্ণ পন্য বিক্রি না করার আনুরোধ জানান ব্যবসায়ীদের প্রতি।

 

সংশ্লিষ্ট খবর

Back to top button
Close