বিশ্ববাংলা

আদমব্যাবসায়ী সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে সাড়ে পাঁচ হাজার কোটি টাকা হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগ দুদকের

মালয়েশিয়ায় কর্মী পাঠানোর সঙ্গে জড়িত ১০ সদস্যের একটি সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে অনুসন্ধানে নেমেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। জিটুজি প্লাস পদ্ধতিতে সরকার নির্ধারিত টাকার বাইরে অতিরিক্ত টাকা নিয়ে সিন্ডিকেটের মাধ্যমে বাড়তি সাড়ে পাঁচ হাজার কোটি টাকা হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগের বিষয়টি অনুসন্ধান করছে দুদক।

 

রাজধানীর সেগুনবাগিচায় দুদকের প্রধান কার্যালয়ে আসা অভিযোগ এবং বাংলা টিভিসহ গণ্যমাধ্যমে উঠে আসা সংবাদ যাচাই-বাছাই শেষে অভিযোগটি অনুসন্ধানের সিদ্ধান্ত নেয় কমিশন। ইতোমধ্যে দুদকের সহকারী পরিচালক মো.শফিউল্লাহকে প্রধান করে এক সদস্যবিশিষ্ট একটি অনুসন্ধান কমিটিও গঠন করা হয়েছে। দুদক সূত্রে জানা যায়, প্রাথমিক অনুসন্ধানে বেশ কিছু তথ্য-উপাত্ত পেয়েছেন অনুসন্ধান কর্মকর্তা। রনক হাসানের বিশেষ রির্পোট।

দেশে সরকার নিবন্ধিত প্রায় এক হাজারের মতো রিক্রুটিং এজেন্সি রয়েছে। এসব রিক্রুটিং এজেন্সির সংগঠন হচ্ছে বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ইন্টারন্যাশনাল রিক্রুটিং এজেন্সি বা বায়রা। অভিযোগ উঠেছে,বিশালসংখ্যক রিক্রুটিং এজেন্সিকে বাদ দিয়েই ১০টি এজেন্সি এতদিন একচেটিয়া বাজার নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে ‘জিটুজি প্লাস’ পদ্ধতিতে মালয়েশিয়ায় কর্মী পাঠিয়েছে। তাদের সঙ্গে যুক্ত ছিল মালয়েশিয়া ও বাংলাদেশের প্রভাবশালী ব্যক্তিদের নিয়ে গড়া একটি সংঘবদ্ধ চক্র।

সরকারিভাবে ৩৭ হাজার ৫০০ টাকায় মালয়েশিয়ায় কর্মী পাঠানোর নিয়ম থাকলেও ওই সিন্ডিকেটের সদস্যরা তিন থেকে সাড়ে তিন লাখ টাকায় কর্মী পাঠিয়েছে। এভাবে প্রায় পাঁচ হাজার কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগে গত ১ সেপ্টেম্বর থেকে জিটুজি পদ্ধতিতে বাংলাদেশ থেকে জনশক্তি নেওয়া বন্ধ করে দেয় মালয়েশিয়ার সরকার।

অভিযোগ রয়েছে,বাংলাদেশ থেকে ১০টি রিক্রুটিং এজেন্সির মাধ্যমে কর্মী পাঠানো হলেও মালয়েশিয়া সরকারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী নাজিব রাজাকসহ সরকারের উচ্চ মহলের সঙ্গে আঁতাত করে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত মালয়েশিয়ান দাতুক শ্রী আমিন বিন আব্দুন নূর সিনারফ্ল্যাক্স নামে একটি কম্পানির মাধ্যমে পুরো বিষয়টি নিয়ন্ত্রণ করেছেন।

এ অবস্থায় রাজধানীর সেগুনবাগিচায় দুদকের প্রধান কার্যালয়ে আসা অভিযোগ এবং বাংলা টিভিসহ গণ্যমাধ্যমে উঠে আসা বেশ কিছু সংবাদ যাচাই-বাছাই শেষে অভিযোগটি অনুসন্ধানের সিদ্ধান্ত নেয় কমিশন। ইতোমধ্যে দুদকের সহকারী পরিচালক মো.শফিউল্লাহকে প্রধান করে এক সদস্যবিশিষ্ট একটি অনুসন্ধান কমিটিও গঠন করা হয়েছে। দুদক সূত্রে জানা যায়, প্রাথমিক অনুসন্ধানে বেশ কিছু তথ্য-উপাত্ত পেয়েছেন অনুসন্ধান কর্মকর্তা।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে,বিগত বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের আমলে মালয়েশিয়ায় কর্মী প্রেরণে অনিয়ম ও দুর্নীতির কারণে ২০০৭ সালে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে হঠাৎ করে মালয়েশীয় সরকার বাংলাদেশ থেকে কর্মী নেওয়া বন্ধ করে দেয়। দীর্ঘদিন বন্ধ থাকার পর বর্তমান সরকারের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ও সাবেক প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রীর ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় জিটুজি পদ্ধতিতে বাংলাদেশ থেকে কর্মী নেওয়া শুরু হয়। ২০১৬ সালে দুই দেশের মধ্যে জিটুজি প্লাস সমঝোতা স্বাক্ষরের এক বছর পর থেকে শুরু হয় কর্মী পাঠানো। এখন পর্যন্ত এই প্রক্রিয়ায় বাংলাদেশ থেকে প্রায় দুই লাখ কর্মী মালয়েশিয়া গেছেন।

সংশ্লিষ্ট খবর

Back to top button
Close