অন্যান্যআওয়ামী লীগঐক্যফ্রন্টজাতীয় নির্বাচনজাতীয় পার্টিনির্বাচনবাংলাদেশবিএনপিরাজনীতি

নরসিংদী-১ আসনে একজন চায় ভোট অপরজন মুক্তি

|| নরসিংদী সংবাদদাতা ||
একাদশ সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে নরসিংদী-১ (সদর) আসনে নিরোত্তাপ নির্বাচনী হাওয়া। কারণ হিসেবে মাঠে দেখা গেছে মহাজোট প্রার্থী লে: কর্নেল (অব:) মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম (বীরপ্রতিক) নৌকা প্রতিকে ভোট চাচ্ছেন। অপর দিকে ঐক্যফ্রন্ট প্রার্থী বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব খায়রুল কবির খোকন জেলে থাকায় তার মুক্তি কামনা করেন দলের নেতাকর্মী ও সমর্থকরা।
এছাড়া জাতীয় পার্টি থেকে লাঙ্গল প্রতিকে জেলা জাতীয় পার্টির সভাপতি মোঃ শফিকুল ইসলাম প্রতিদ্বন্ধিতা করছেন। তিনি লাঙ্গল প্রতীকে নির্বাচন করলেও শহরেই কোনো পোষ্টার বা প্রচারণা চোখে পরেনি। এছাড়া জাকের পার্টি থেকে গোলাপ ফুল প্রতীক নিয়ে এড. আরিফুল ইসলাম, বাংলাদেশ ইসলামী আন্দোলন থেকে হাত পাখা প্রতীক নিয়ে আশরাফ হোসেন ভূঁইয়া, গণফ্রন্ট থেকে মো. জাকির হোসেন, বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল (বাসদ) থেকে মোবারক হোসেন আকন্দ, ইসলামী ঐক্যজোট থেকে মাওলানা মো. ইসহাক প্রতিদ্বন্ধিতা করলেও নির্বাচনী মাঠে প্রচারণায় চোখে পড়ছেনা এই সকল প্রার্থীদের প্রচারণা।

শিল্পাঞ্চলখ্যাত নরসিংদী-১ আসনটি শিক্ষা নগরী আর বস্ত্রশিল্পের নগরী হওয়ায় সারাদেশে ব্যাপক পরিচিত রয়েছে। তাই এই আসনটির গুরুত্ব অনেকাংশে বেশী। এই আসনটি মরহুমর সামসুদ্দীন আহমেদ এর হাতধরে দীর্ঘদিন বিএনপির দখলে ছিল। সামসুউদ্দীন আহমেদ এর মৃত্যুর পর উপ নির্বাচনে খায়রুল কবির খোকন সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। পরবর্তীদের ২০০৮ সালের নবম সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের হয়ে নৌকা প্রতীক নিয়ে আসেন সেনা বাহিনী থেকে অবসর প্রাপ্ত মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম (বীরপ্রতীক)। তিনি প্রথম বছরেই বিএনপির খায়রুল কবীর খোকনকে পরাজিত করেন। পরবর্তীতে ২০১৪ সালের নির্বাচনে বিএনপি অংশ না নেওয়ায় সহজেই জয়ের পথ উন্মুক্ত হয় নৌকার। এই সুবাদে দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এমপি নির্বাচিত হন মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম। আর এই সুযোগে তিনি পানি সম্পদ প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্বও পেয়ে যান। সাথে সাথে জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও নির্বাচিত হয়ে যান। এই থেকে তাকে আর পেছনে তাকাতে হয়নি। এবার একাদশ সংসদ নির্বাচনে সকল জল্পনা কল্পনার অবসান ঘটিয়ে মহাজোট থেকে নৌকা প্রতীক পেয়ে যান নজরুল ইসলাম। ঐক্যফ্রন্ট থেকে বিএনপির হয়ে খায়রুল কবীর খোকন ধানের শীষ প্রতিক নিয়ে নির্বাচন শুরু করেন। খায়রুল কবীর খোকন মনোনয়ন জমা দানের পর পরই তাকে নাশকতা মামলায় আদালতে জামিন চাইতে গেলে আদালত জামিন নামঞ্জুর করায় জেলে থাকতে হচ্ছে তাকে। শুধু তাই নয়, খায়রুল কবির খোকনের ধানের শীষ প্রতীক যাতে কেউ ভোট চাইতে না পারে সেই জন্যে তার নেতাকর্মী আর কর্মী সমর্থকদেরও বিভিন্ন মামলায় পুলিশ আটক করে জেলে আটকে দিয়েছে বলে অভিযোগ বিএনপি নেতাদের। এখন নির্বাচনী মাঠে মহাজোট প্রার্থী ও তার কর্মী সমর্থকরাই দিন রাত সমানতালে নৌকা প্রতীক ভোট চেয়ে সভা সমাবেশ মিছিল মিটিং করে যাচ্ছেন। অপর দিকে ঐক্যফ্রন্ট প্রার্থী খায়রুল কবির খোকনের স্ত্রী বিএনপির কেন্দ্রীয় নেত্রী শিরিন সুলতানা তার কিছু সংখ্যাক মহিলা কর্মীকে নিয়ে বিভিন্ন মহল্লায় প্রচারণাকালে পুলিশি বাধা ও নৌকার সমর্থকদের বাধার কারনে তারাও মাঠে নামতে পারছেন না বলে তারা অভিযোগ করেন। তাই এখন জনগনের মুখে মুখে একটি কথাই গুঞ্জন উঠেছে একজন চায় ভোট অপরজন চায় মুক্তি।

বাংলাটিভি/প্রিন্স

সংশ্লিষ্ট খবর

Back to top button
Close