অন্যান্যঅপরাধ

সাগর-রুনি হত্যার ৭ বছর, প্রতিবেদন জমা পড়েনি ৬২ বারেও

সাংবাদিক দম্পতি সাগর সরওয়ার ও মেহেরুন রুনি নাহার হত্যা মামলার প্রতিবেদন ৬২ বারেও দাখিল করতে পারেননি মামলার তদন্ত কর্মকর্তা । সংশ্লিষ্ট আদালতের সাধারণ নিবন্ধন কর্মকর্তা (জিআরও) এ বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

মামলাটির বাদী নিহত রুনির ছোট ভাই নওশের আলম রোমান বলেন, দীর্ঘ সময়েও এই হত্যা রহস্য উদ্ঘাটন করতে পারেনি র‌্যাব। তদন্তে কোনো ধরনের অগ্রগতি না থাকলেও গত ৭ বছরে ৬২টি অগ্রগতি প্রতিবেদন আদালতে জমা দিয়েছেন মামলাটির তদন্ত কর্মকর্তা। আদালতের কাছ থেকে দফায় দফায় সময় নেওয়া হয়েছে।

২০১২ সালের বছর ১১ ফেব্রুয়ারি রাতে রাজধানীর পশ্চিম রাজাবাজারে সাংবাদিক দম্পতি মাছরাঙা টেলিভিশনের বার্তা সম্পাদক সাগর সরওয়ার এবং এটিএন বাংলার জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক রুনি তাদের ভাড়া বাসায় নির্মমভাবে খুন হন। পরদিন ভোরে তাদের ক্ষত-বিক্ষত লাশ উদ্ধার করা হয়। ঘটনার দিন তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সাহারা খাতুন ঘটনাস্থলে এসে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে খুনিদের গ্রেফতারের আশ্বাস দেন। কিন্তু সেই ৪৮ ঘণ্টার ফল এখনও আট বছরেও শূন্য রয়েছে।

২০১২ সালের ১৬ ফেব্রুয়ারি মামলাটির তদন্তের জন্য প্রথম ডিবি উত্তরের পুলিশ পরিদর্শক মো. রবিউল আলম তদন্তভার নেন। এরপর ২০১৪ সালের ৩০ ডিসেম্বর, ২০১৫ সালের ২ ফেব্রুয়ারি, ওই বছরের ৭ জুন, ২০১৬ সালের ২ অক্টোবর ও সর্বশেষ ২০১৭ বছরের ২১ মার্চ তদন্ত অগ্রগতি প্রতিবেদন দাখিল করা হয়। তদন্ত অগ্রগতি সংক্রান্ত প্রতিটি প্রতিবেদনে প্রায় একই ধরনের তথ্য উল্লেখ করা হয়েছে।

এ মামলায় সন্দেহভাজন হিসেবে গ্রেফতার ৮ জনের কেউই এখন পর্যন্ত হত্যাকাণ্ডের দায় স্বীকার করেনি। মামলার আসামিদের মধ্যে দুই জন বাড়ির দারোয়ান পলাশ রুদ্র পাল ও কথিত বন্ধু তানভীর রহমান জামিনে আছেন। অন্য ছয় আসামি মিন্টু ওরফে বারগিরা মিন্টু, বকুল মিয়া, কামরুল হাসান অরুন, রফিকুল ইসলাম, এনাম আহমেদ ওরফে হুমায়ুন কবিল ও আবু সাঈদ কারাগারে আটক আছেন।

২০১৫ সালের জানুয়ারিতে সাগর-রুনির ভাড়া বাসার নিরাপত্তা প্রহরী এনামুল হক ও পলাশ রুদ্র পাল ১৬১ ধারায় জবানবন্দি দেন।

বাংলাটিভি/রাজ

সংশ্লিষ্ট খবর

Back to top button
Close