অন্যান্যঅর্থনীতিআন্তর্জাতিকবাংলাদেশ

বাংলাদেশ বিশ্বের শীর্ষ ৫ দ্রুত বর্ধনশীল অর্থনীতির দেশ

বাংলাদেশকে বিশ্বের শীর্ষ পাঁচ দ্রুত বর্ধনশীল অর্থনীতির একটি দেশ এমন তথ্য জানিয়েছে বিশ্ব ব্যাংক। এ বিষয়ে ‘দ্য বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট আপডেট এপ্রিল ২০১৯ টুওয়ার্ডস রেগুলেটরি প্রেডিকটেবিলিটি’-শীর্ষক এক প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়। ওই প্রতিবেদনে বাংলাদেশের অবস্থান পঞ্চমে। একই সঙ্গে চলতি অর্থবছরে বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধি ৭ দশমিক ৩ শতাংশ হওয়ার পূর্বাভাসও  দিয়েছে বিশ্বব্যাংক।

বৃহস্পতিবার  সকালে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে এ প্রতিবেদনটি প্রকাশ করা হয়।

এতে বলা হয়, অর্থনীতিতে বাংলাদেশের ওপরে থাকা চার দেশ হচ্ছে যথাক্রমে ইথিওপিয়া,রুয়ান্ডা,ভারত ও ভুটান।পঞ্চম অবস্থানে রয়েছে যথাক্রমে জিবুতি, আইভরি কোস্ট,ঘানা ও বাংলাদেশ।

বিশ্ব ব্যাংকের প্রতিবেদনে বলা হয়,বেসরকারি খাতে বিনিয়োগের পরিমাণ অপর্যাপ্ত হলেও বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধিতে অবদান রেখেছে স্থিতিশীল ব্যষ্টিক ও রপ্তানিনির্ভর শিল্প প্রতিষ্ঠানগুলো।

এতে আরো বলা হয়,শিল্প খাতে উৎপাদন,অবকাঠামো,ফসলের বাম্পার ফলন,ব্যক্তিগত ব্যয়,রেমিটেন্স ও গ্রামীণ অর্থনৈতিক আয় বেড়ে যাওয়ায় এই প্রবৃদ্ধি সম্ভব হয়েছে।

তবে বাংলাদেশে এখনও বেসরকারি খাতে বিনিয়োগ দুর্বল অবস্থায় রয়ে গেছে। ২০১৯ অর্থ বছরের প্রথম অর্ধাংশে এ খাত থেকে এসেছে ৯১ কোটি ১০ লাখ ডলার।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে,বাংলাদেশকে শিল্প খাতে আরও আকর্ষণীয় গন্তব্য হয়ে উঠতে ভূমি,বিদ্যুৎ ও গ্যাসের পর্যাপ্ততার মতো বিষয়গুলো খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

চলতি অর্থবছরে বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধি ৭ দশমিক ৩ শতাংশ হওয়ার পূর্বাভাসও  দিয়েছে বিশ্বব্যাংক। তবে,দীর্ঘমেয়াদে প্রবৃদ্ধি টেকসই করতে আর্থিক খাত,মুদ্রা বিনিময় হার এবং রাজস্ব ব্যবস্থাপনায় মনোযোগ দেয়ার পরামর্শ দিয়েছে সংস্থাটি।

২০১৮-১৯ অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসে বিদেশি বিনিয়োগ আসে ৮২ কোটি ডলার। আর চলতি অর্থবছরের একই সময়ে এসেছে ৯১ কোটি মার্কিন ডলার। বেড়েছে মাত্র ৯ কোটি ডলার। যা জিডিপি’র এক শতাংশেরও কম। গত বছরের জুলাই থেকে নভেম্বরে মোট আমদানির মাত্র ৩২ শতাংশ ছিল মেশিনারি পণ্য। যা ২০০৯ এ ছিল অর্ধেকেরও বেশি।

প্রতিবেদনে বলা হয়,বাংলাদেশের সামষ্টিক অর্থনীতির সবগুলো সূচকে উন্নয়নের বিপরীত বিনিয়োগেই সবচেয়ে বড় অসন্তুষ্টি। অথচ ৮ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জনে সবচেয়ে বেশি জরুরি বিনিয়োগ।

বিশ্বব্যাংকের ঢাকা অফিসের প্রধান অর্থনীতিবিদ ড. জাহিদ হোসেন বলেন, ‘প্রতি মাসে এক শতাংশ করে শিল্প খাতে প্রবৃদ্ধি বেড়েছে। আমাদের কাছে তথ্য এসেছে, প্রবৃদ্ধি ঠিকই হচ্ছে কিন্তু ব্যক্তি খাতে এখনও তেমন বিনিয়োগ হচ্ছে না।’

অর্থনীতির পর্যালোচনায় ড.জাহিদ বলেন,‘খেলাপি ঋণ ৩ শতাংশ বাড়লে মূলধন ঘাটতিতে পড়বে ৬টি ব্যাংক। আর খেলাপি ঋণ ১৫ শতাংশ বাড়লে বিপদে পড়বে ৩৫টি ব্যাংক। তাই আর্থিক খাতের সংস্কারকে গুরুত্ব দিচ্ছে বিশ্বব্যাংক।’

বাংলাদেশের মানবসম্পদ ও আর্থিক খাতের সংস্কার ধারাবাহিকভাবে হলে  ২০২১ সাল নাগাদ উচ্চমধ্যম আয় এবং ২০৪১ সালে উন্নত দেশে পরিণত হবার যাত্রা মসৃণ হবে বলে মনে করছে বিশ্বব্যাংক।

বাংলাটিভি/ফাতেমা

সংশ্লিষ্ট খবর

Back to top button
Close