অন্যান্যআন্তর্জাতিকবাংলাদেশ

বাংলাদেশ ও চায়না স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী পর্যায়ের ২য় বৈঠক অনুষ্ঠিত

বাংলাদেশ ও চায়নার মধ্যে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী পর্যায়ের ২য় বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়ছে।

মঙ্গলবার বিকেলে চীনের রাজধানী বেইজিংয়ে বাংলাদেশ চীনের মধ্যে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী পর্যায়ের দ্বিতীয় বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে ১৯ সদস্য বিশিষ্ট বাংলাদেশ দলের নেতৃত্ব দেন বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান, এমপি এবং চীনের পক্ষে ১৪ সদস্যের নেতৃত্ব দেন চীনের স্টেট কাউন্সিলর এবং জননিরাপত্তা মন্ত্রী জাহো কিইঝি।

আলোচনা সভার শুরুতে চীনের স্টেট কাউন্সিলর এবং জননিরাপত্তা মন্ত্রী তাঁর গত ২০১৮ সালের অক্টোবরে বাংলাদেশ সফরের সময় বাংলাদেশের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তাঁকে সাক্ষাৎ দানের জন্য তিনি তাঁর কাছে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

বাংলাদেশের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জয়লাভ করে সরকার গঠন করায় মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে অভিনন্দন জানান। দ্বিতীয়বারের মত স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দায়িত্ব গ্রহণ করায় এবং সরকার গঠনের পর চীনের সাথে প্রথম স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠক করায় তিনি বাংলাদেশের মাননীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে অভিনন্দন জানান।

এ সফরের সময় দুপক্ষের মধ্যে সহযোগিতা সম্পর্ক উন্নয়ন সংক্রান্ত ফলপ্রসু আলোচনা এবং একাধিক সহযোগিতা স্মারক স্বাক্ষরিত হওয়ার বিষয়টি স্মরণ করেন। আজকের আলোচনায় চীনের মাননীয় মন্ত্রী দুই দেশের পুলিশ বাহিনীর মধ্যে ক্রমবর্ধমান সহযোগিতা জোরদারের উপর গুরুত্বারোপ করেন।

এসময় তিনি তথ্য প্রযুক্তির ক্ষেত্রে দুই দেশের সহযোগিতা দেশ দুইটির উন্নয়নে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে অভিমত ব্যক্ত করেন এবং সাইবার অপরাধ দমন, সন্ত্রাসবাদ দমনে বন্ধুপ্রতিম দুই দেশের মধ্যে অধিকতর সহযোগিতার প্রয়োজন রয়েছে বলে মনে করেন। 

তিনি উল্লেখ করেন যে, গত ১ বছরে বাংলাদেশের আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর ৭৫ জন কর্মকর্তাকে সন্ত্রাস দমন সংক্রান্ত বিভিন্ন ক্ষেত্রে প্রশিক্ষণ প্রদান করে চীন। এ ধরণের প্রশিক্ষণ সুবিধা ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে। তাছাড়া মাদক ও সাইবার অপরাধ দমনের জন্য বাংলাদেশের কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণ প্রদান করবেন মর্মে উল্লেখ করেন।

বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ২০১৬ সালে চীনের মহামান্য রাষ্ট্রপতি শি জিংপিং এর সফল বাংলাদেশ সফরের কথা উল্লেখ করে সে সময়ে দুই দেশের মধ্যে আলোচিত সহযোগিতার ক্ষেত্র সমূহ আরও এগিয়ে নেয়ার উপর গুরুত্বারুপ করেন, যেখানে সন্ত্রাস দমনে দুদেশের সহযোগিতার বিষয়টি গুরুত্বসহকারে আলোচিত হয়। চীনের মাননীয়মন্ত্রী ভবিষ্যতে চারটি ক্ষেত্রে দুদেশের মধ্যে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। সেগুলি হলঃ

(১) আন্তঃরাষ্ট্রীয় সন্ত্রাস দমন (২) মাদক দমনে প্রশিক্ষণ সুবিধা প্রদান এবং তথ্য বিনিময় (৩) বেল্ট এন্ড রোড এর উদ্যোগে বাংলাদেশের সক্রিয় অংশগ্রহণে চীনের প্রত্যাশা (৪) দুই দেশের মধ্যকার পারস্পরিক সহযোগিতা সংক্রান্ত ওয়ার্কিং গ্রুপের নিয়মিত সভা আয়োজন। 

এ ব্যাপারে প্রয়োজনে যৌথ ওয়ার্কিং গ্রুপ গঠনপূর্বক একটি প্রতিনিধি দল চীনে বাংলাদেশ থেকে প্রেরণ করতে পারবে বলে অভিমত দেন।

চীন বাংলাদেশে অবস্থানরত চীনা নাগরিকদের নিরাপত্তা প্রদানে বাংলাদেশের সহযোগিতা প্রত্যাশা করেন। বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন যে, বাংলাদেশের ভূমিতে যে কোন দেশের সন্ত্রাস এবং বিচ্ছিন্নতাবাদী বিদেশী গ্রুপ কোন কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারবেনা। একইভাবে চীনের ক্ষেত্রেও তা প্রযোজ্য মর্মে অভিমত ব্যক্ত করেন। 

বাংলাদেশের মানীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মিয়ানমার কর্তৃক জোরপূর্বক বাস্তচ্যুত রোহিঙ্গাদের বাংলাদেশ হতে মিয়ামনারে ফেরত পাঠাতে চীনের সক্রিয় সহযোগিতা কামনা করেন এবং এ বিষয়ে চীনের জননিরাপত্তা মন্ত্রী ইতিবাচক মনোভাব পোষণ করেন। 

বাংলাদেশের মাননীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মিয়ানমার থেকে জোরপূর্বক বিতাড়িত রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসনে রাখাইন রাজ্যে দ্রুত প্রত্যাবাসন উপযোগি পরিবেশ সৃষ্টি করার উপর গুরুত্বারোপ করেন। এ বিষয়েও তিনি চীনের আশু হস্তক্ষেপ প্রত্যাশা করেন।

চীনের মাননীয় মন্ত্রী বলেন যে, তাঁরা এ বিষয়ে মিয়ানমারের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করছে। চীন মনে করে বিষয়টি সমাধানে বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের আরও আলোচনা চালিয়ে যাওয়া প্রয়োজন এবং এ বিষয়ে আন্তর্জাতিক সংস্থাসমূহ বিশেষ করে ইউএনএইচসআির এবং ইউএনডপি-র পজেটিভ ভূমিকা পালন করা উচিত। তিনি এ ব্যাপারে আসিয়ান এর পজেটিভ ভূমিকা পালনকেও সাধুবাদ জানান।

 আলোচনায় দুই পক্ষই অভিমত ব্যাক্ত করেন যে, বন্ধুপ্রতিম বাংলাদেশ ও চীনের সামাজিক ও অর্থনৈতিক উন্নয়নে পারস্পরিক সহযোগিতা ভবিষ্যতে অব্যাহত থাকবে এবং বাংলাদেশের অন্যতম উন্নয়ন সহযোগি দেশ হিসেবে চীন বাংলাদেশের পাশে থাকবে।

বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের মধ্যে ঢাকায় অনুষ্ঠিত স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী পর্যায়ের প্রথম বৈঠকে আলোচিত বিষয়গুলি বাস্তবায়নের লক্ষ্যে উভয় পক্ষ অভিমত ব্যক্ত করেন।

সভা শেষে দুই দেশের মাননীয় মন্ত্রীর উপস্থিতিতে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ এবং বেইজিং মিউনিসিপাল পাবলিক সিকিউরিটি ব্যুরো এর মধ্যে বন্ধুত্বপূর্ণ সহযোগিতার লক্ষ্যে একটি সমঝোতা স্মারক স্মাক্ষরিত হয়।

উল্লেখ্য, ২০১৮ সালের অক্টোবর মাসে ঢাকায় দুই দেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী পর্যায়ের ১ম বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয়। সভায় ১৯ সদস্যের বাংলাদেশ দলের অন্যান্যরা হলেন মোস্তাফা কামাল উদ্দীন, সচিব, জননিরাপত্তা বিভাগ; এম. ফজলুল করিম, চীনে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত; ড. মোঃ জাবেদ পাটোয়ারী, আইজিপি; মোঃ শহিদুজ্জামান, সচিব, সুরক্ষা সেবা বিভাগ; মেজর জেনারেল মোঃ সাফিনুল ইসলাম, ডিজি, বিজিবি; মোঃ আসাদুজ্জামান মিয়া, ডিএমপি কমিশনার; মোঃ আবু বকর সিদ্দিক, অতিঃ সচিব, জননিরাপত্তা বিভাগ; বিগ্রেডিয়ার জেনারেল মোঃ সাজ্জাদ হোসেন, ডিজি, ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স; ড. মোঃ হারুন-অর-রশিদ বিশ্বাস, যুগ্ম সচিব, জননিরাপত্তা বিভাগ প্রমুখ।

 বাংলাটিভি/রাজ

 

সংশ্লিষ্ট খবর

Back to top button
Close