অন্যান্যআইন-বিচারদেশবাংলাবাংলাদেশ

বিজিএমইএ ভবন ভাঙতে আধুনিক প্রযুক্তি

গৃহায়ন ও গণপূর্তমন্ত্রী অ্যাডভোকেট শ ম রেজাউল করিম বলেছেন, ‘ম্যানুয়াল পদ্ধতিতে নয়— আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে বিজিএমইএ ভবন ভাঙা হবে। তবে কী পদ্ধতিতে ভবনটি ভাঙা হবে,তা চূড়ান্ত করা হবে আগামী ২৫ এপ্রিল।’

দুপুরে সচিবালয়ে নিজ দফতরে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে গৃহায়ন ও গণপূর্তমন্ত্রী এসব কথা জানান।

এদিকে ঢাকার উত্তরায় ১১০ কাঠা জমির ওপর ১৩তলা নতুন ভবন তৈরি করছে বিজিএমইএ। গত সপ্তাহে তা উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

তিনি বলেন,‘এই ভবন ভাঙার ক্ষেত্রে আগ্রহীদের কাছ থেকে দরপত্র আহ্বান করা হয়েছে এবং বিভিন্ন জাতীয় দৈনিক পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছে। ২৪ এপ্রিলের মধ্যে আগ্রহীদেরকে তাদের প্রস্তাব জমা দিতে বলা হয়েছে।’

তিনি আরোও বলেন,‘২৫ এপ্রিলের পরবর্তী এক সপ্তাহের মধ্যে বিজিএমইএ ভবন ভাঙা হবে এবং তার পরবর্তী ৯০ দিনের মধ্যে স্থানটি সম্পূর্ণ খালি করে দেওয়া হবে।’

এদিকে মন্ত্রী বলেন , গার্মেন্টস কারখানার মালিকদের বিজিএমইএ ভবনটি, অ্যাসোসিয়েশনের কর্ণধাররা রাজউকের নিষেধাজ্ঞা না মেনে হাতিরঝিল ও বেগুনবাড়ি খালের মাঝখানে ১৫ তলা ভবনটি নির্মাণ করেন। ভাঙার পক্ষে আদালতে মামলা হলে,আদালত বিজিএমইএ’র নিজ খরচে ভবনটি ভাঙার পক্ষে রায় দেন।

এসময়  বিভিন্ন পরিবেশবাদী সংগঠন শুরুতেই অভিযোগ তুলেছিল, গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের অনুমতি না নিয়ে এবং উন্মুক্ত স্থান ও প্রাকৃতিক জলাধার সংরক্ষণ আইন-২০০০ ভঙ্গ করে বেগুনবাড়ি খালের একাংশ ভরাট করার মাধ্যমে ১৫ তলা ভবনটি নির্মাণ করেন।

সংবাদপত্রের প্রতিবেদন নজরে আনা হলে ২০১০ সালের ৩ অক্টোবর হাইকোর্টের একটি বেঞ্চ স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে রুল দেন। চূড়ান্ত শুনানি শেষে ২০১১ সালের ৩ এপ্রিল বিজিএমইএ ভবন অবৈধ ঘোষণা করে রায় দেন হাইকোর্ট।

হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে বিজিএমইএ কর্তৃপক্ষ আপিল করলে ২০১৬ সালের ২ জুন তা খারিজ হয়ে যায়।

মুচলেকায় থাকা ৩টি শর্তের পরিপ্রেক্ষিতে প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনের নেতৃত্বাধীন ৪সদস্যের আপিল বেঞ্চ আদেশ দেন। এই আদেশে বিজিএমইএ ভবন ভাঙতে চলতি বছরের ১২ এপ্রিল পর্যন্ত সময় দেন আদালত। যার ধারাবাহিকতায় গত ১২ এপ্রিল বিজিএমইএ’কে বেঁধে দেওয়া সময় শেষ হয়। এরপর মঙ্গলবার  সকালে ভবনটি ভাঙার প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম নিয়ে হাজির হয় রাজউক।

বাংলাটিভি/ফাতেমা/হাকিম

 

সংশ্লিষ্ট খবর

Back to top button
Close