বাংলাদেশ

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রোগীদের চরম বিড়ম্বনা

বাংলাদেশের যেকোন হাসপাতালে গেলে দেখা যায় কোন মানুষই সুস্থ নেই। ঢাকা মেডিকেল কলেজ ও বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে হাজার হাজার রোগীকে বিভিন্ন ডাক্তারের কাছে দীর্ঘ লাইনে ঘন্টার পর ঘন্টা অপেক্ষা অপেক্ষা করতে হয়। শুধু যে সরকারী হাসপাতাল গুলোতে এমন অবস্থা তা নয়, বেসরকারী ক্লিনিক গুলোতেও একই চিত্র দেখা যায়। সবচেয়ে বেশী রোগী যে হাসপাতালে সমাগম হয় সেটি হলো-বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে।

বঙ্গবন্ধু শেখ মজিব মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চতুর্থ শ্রেণীর কর্মচারীদের দৌরাত্বে সাধারণ রোগীরা চরম বিড়ম্বনার শিকার হচ্ছেন। একজন রোগীকে ডাক্তার দেখাতে হলে কমপক্ষে ৫/৬ ঘন্টা সময় ব্যয় করতে হয়। একজন রোগীকে ডাক্তার দেখাতে হলে ঘন্টা ব্যাপী অপেক্ষা করে টিকিট সংগ্রহ করতে হয়। তারপর ডাক্তার দেখানোর জন্য সেখানেও প্রায় দু’ঘন্টা অপেক্ষা করতে হয়। ডাক্তার একজন রোগীকে কোন ঔষধ না দিয়ে প্রথমেই কিছু পরীক্ষার জন্য পাঠান। সেখানে আবার ঘন্টাব্যাপী লাইনে দাঁড়িয়ে বিল তৈয়ার করতে হয়। বিল তৈয়ার করার পর দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে ব্যাংকে টাকা জমা দিতে হয়। টাকা জমার দেয়ার পর আবার দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে রক্ত দিতে হয়। এবং যতগুলো পরীক্ষা হবে ততগুলো স্থানে গিয়ে রক্ত দিতে হবে। শুধু তাই নয়, পরদিন রিপোর্ট নেয়ার জন্য একই যন্ত্রণা পোহাতে হয়।

প্রতিটি স্থানে চতুর্থ শ্রেণীর কর্মচারীরা হাসপাতাল স্টাফ বলে সাধারণ রোগীদের লাইনে রেখেই তারা নিজেরাই আগে কাজ করিয়ে নেন। টিকিট সংগ্রহ থেকে শুরু করে ডাক্তার দেখানো ও পরীক্ষা সব স্থানেই চতুর্থ শ্রেণীর কর্মচারীদের দৌড়াত্বে রোগীদের চরম দুর্বিসহ যন্ত্রনা পোহাতে হয়। বিভিন্নজনদের কাজ থেকে টাকা নিয়ে কর্মচারীরা এসব কাজ করছেন। সুইপার ও আয়ারাই এই কাজটি বেশী করছেন। তারা প্রতিদিন হাজার হাজার টাকা ইনকাম করছেন। অথচ প্রতিটি কাউন্টারে হাসপাতাল স্টাফদের জন্য আলাদা কাউন্টার থাকা সত্ত্বেও সাধারণ রোগীদের কাউন্টারে এসে তারা নিজেদের কাজ করিয়ে নিচ্ছেন। অনেক রোগী আছেন এভাবে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করে আরো বেশী দুর্বল হয়ে পড়েন। যেখানে প্রতিদিন লাখ লাখ রোগীর সমাগম হয় সেখানে অর্থনৈতিক দিক থেকে আয়ের পরিমানটাও অনেক বেশি। সেদিক বিবেচনা করে সরকার রোগীদের আরো সহজে চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করবেন এমনটাই সাধারণ রোগীরা আশা করেন।
এম হাবিল-বাংলা টিভি ঢাকা।

সংশ্লিষ্ট খবর

Back to top button
Close