
ঘূর্ণিঝড় ফণির বিপদ কেটে যাওয়ায় আশ্রয় কেন্দ্র থেকে মানুষ ঘরে ফিরে গেছেন বলে জানিয়েছেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী ডা.এনামুর রহমান। এর আঘাতে দেশে চারজন নিহত এবং ৬৩ জন আহত হয়েছে বলেও জানান তিনি। আগামী ২৪ ঘন্টার মধ্যে সার্বিক ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণ করে সরকার আর্থিক সহায়তাসহ ক্ষতিগ্রস্থদের পূনর্বাসনে সব ধরণের ব্যবস্থা নেবে বলেও জানান প্রতিমন্ত্রী। এদিকে লন্ডন সফররত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি না হওয়ায় মহান আল্লাহর দরবারে শুকরিয়া আদায় করেছেন বলে জানিয়েছেন তার মূখ্য সচিব নজিবুর রহমান।
গভীর সমুদ্রে সৃষ্ট নিম্নচাপ ক্রমশঃ ভয়াবহ ঘূর্ণিঝড় ফণিতে রূপ নিয়ে কয়েকদিন সাগরে অবস্থানের পর শুক্রবার ভারতে ওড়িশার পুরীতে তান্ডব চালায়। পরে তা আঘাত হানে পশ্চিমবঙ্গে। ক্রমশঃ দুর্বল হয়ে সেটি শনিবার সকালে প্রবেশ করে বাংলাদেশে। সাতক্ষীরা ও খুলনা অঞ্চল দিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করে দিনভর বিভিন্ন স্থানে অবস্থান করে উত্তরাঞ্চলে গিয়ে দুর্বল হয়ে যায় প্রলঙ্ককারী ঘূর্ণিঝড় ফণি।
শনিবার দুপুরে সচিবালয়ে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে ঘূর্ণিঝড় ফণির সর্বশেষ পরিস্থিতি তুলে ধরা হয়।এতে জানানো হয়,শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড় ফণি ক্রমশ দুর্বল হয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করায় বিপদ কেটে গেছে।৭ নম্বর বিপদ সংকেত নামিয়ে এখন সমুদ্র বন্দরগুলোতে ৩ নম্বর সতর্ক সংকেত দেখানোর পরামর্শ দিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।
এ সময় ঘূর্ণিঝড় ফণির প্রভাবে ৪ জনের মৃত্যুর কথা নিশ্চিত করেন ত্রাণ সচিব শাহ কামাল।
সরকারের সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা ও সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় ভয়াবহ এই ঘূর্ণিঝড়ের ক্ষতি মোকাবেলায় সাফল্য এসেছে বলে জানান, প্রধানমন্ত্রীর মূখ্য সচিব। প্রধানমন্ত্রী লন্ডন থেকে যথাযথ নির্দেশনা দিয়েছেন বলেও জানান তিনি।
ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তায় পর্যাপ্ত ত্রাণসামগ্রী মজুদের কথা জানান খাদ্যমন্ত্রী। আর দুর্যোগ পরবর্তী উদ্ধার তৎপরতা ও ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণে সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তর কাজ করছে বলে জানালেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত সংসদীয় কমিটির সভাপতি।
একই সঙ্গে, নিহত চার জনের পরবিারকে আর্থিক সহায়তা ও আহতের প্রয়োজনী চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করার পাশাপাশি, ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসনের কথা জানালেন,ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী।
এ সময় জনগণকে সচেতন করতে এবং জনগণের দুর্ভোগ কমাতে মিডিয়ার ভূমিকারও প্রশংসা করেন প্রতিমন্ত্রী।
বাংলাটিভি/ফাতেমা



