অন্যান্যআইন-বিচারবাংলাদেশ

দুধে সীসা: বিএসটিআইএ’র কার্যক্রমে হাইকোর্টের অসন্তোষ

রিপোর্ট পাওয়ার পরও দুধে সীসা পরীক্ষা না করানোয় বিএসটিআইএর কার্যক্রমে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন হাইকোর্ট।

এর আগে, ন্যাশনাল ফুড সেফটি ল্যাবরেটরির প্রধান অধ্যাপক শাহনীলা ফেরদৌসি হাইকোর্টকে জানান,নির্ধারিত সময়ে দুধে সীসা থাকার প্রতিবেদন নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হলেও তারা কোন ব্যবস্থা নেয়নি।

তিনি জানান, দুধ-দইয়ের নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে ঢাকা এবং এর আশপাশের এলাকা থেকে।

তরল দুধে সীসাসহ বিষাক্ত পদার্থ রয়েছে,এই তথ্যের সত্যতা ও নির্ভরযোগ্যতার বিষয়ে হাইকোর্টে ব্যাখ্যা দিয়েছেন নিরাপদ খাদ্য গবেষণাগারের প্রধান গবেষক অধ্যাপক ডক্টর শাহনীলা ফেরদৌসি।

এ ব্যাখ্যায় বিচারপতি নজরুল ইসলাম তালুকদার ও বিচারপতি কে এম হাফিজুল আলমের বেঞ্চ এ অসন্তোষ জানান।তরল দুধের ৯৬টি নমুনার মধ্যে ৯৩টিতেই ক্ষতিকর উপাদান পাওয়া গেছে বলে হাইকোর্টে জমা দেয়া নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ। এর ভিত্তিতে আদালত স্বপ্রণোদিত রুল ও তিন মাসের মধ্যে কমিটি করে ব্যবস্থা নেয়ার আদেশ দেয় হাইকোর্ট।

গত ১৫মে কোন কোম্পানির তরল দুধে বিষাক্ত পদার্থ আছে,সীসা আছে, তার বিস্তারিত তালিকা এক মাসের মধ্যে চেয়েছে হাইকোর্ট, একই সাথে নমুনা পরীক্ষাকারী গবেষক অধ্যাপক শাহনীলাকে ২১মে হাইকোর্টে হাজির হতে বলা হয়। বিচারপতি নজরুল ইসলাম তালুকদার ও বিচারপতি কে এম হাফিজুল আলমের হাইকোর্ট বেঞ্চ এই আদেশ দেন।

এর আগে, ৮মে বাজারে প্যাকেটজাত ৯৬টি তরল দুধের নমুনা পরীক্ষা করে ৯৩টিতেই সীসাসহ মানবদেহের জন্য ক্ষতিকর উপাদান পায় বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ। হাইকোর্টে দাখিলকৃত রিপোর্টে মানবদেহের জন্য ক্ষতিকর সীসা ও বিষাক্ত উপাদান পাওয়ার কথা জানায় নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ।

রিপোর্টে বলা হয়, বাজারজাত করা প্যাকেট দুধে সীসা এবং বিষাক্ত পদার্থ মেশানো হয়, হাইকোর্টের দেয়া এমন রুলের জবাবে বিএসটিআই ১৬ সদস্যের কমিটি গঠন করে। দুধে বিষাক্ত উপাদান মেশানোর সঙ্গে যারা জড়িত তাদের চিহ্নিত করে প্রতিবেদন দিতে নির্দেশ দেন আদালত। তবে, কোন কোম্পানির দুধে এসব ক্ষতিকর উপাদান রয়েছে তা সুনির্দিষ্ট না করায় ওইসব কোম্পানির নাম আদালতে উপস্থাপন করতে বলা হয়।

আদালতে দাখিল করা প্রতিবেদনের বিষয়ে ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল এ কে এম আমিন উদ্দিন মানিক জানান, বাজার থেকে সংগৃহীত কাঁচা তরল দুধের ৯৬টি নমুনার মধ্যে ৯৩টিতেই সীসা, অ্যান্টিবায়েটিক অনুজীব পাওয়া গেছে। প্যাকেটজাত দুধের ৩১টি নমুনার মধ্যে ১৮টিতেই ভেজাল পাওয়া গেছে। এছাড়া দুধে ও দইয়ে উচ্চমাত্রার বিভিন্ন রাসায়নিক পাওয়া গেছে। কোন কোন কোম্পানি দুধে এই ভেজাল বা রাসায়নিক দ্রব্য মেশানোর সাথে জড়িত প্রতিবেদনে তাদের নাম-ঠিকানা না দেওয়ায় আদালত ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।

এদিকে কোন কোন প্রতিষ্ঠানের দুধে মাত্রাতিরিক্ত সীসা আছে তা জানতে চেয়ে বিএসটিআই ও নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষকে চিঠি দিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন -দুদক।

বাংলাটিভি/ফাতেমা

সংশ্লিষ্ট খবর

Back to top button
Close