
শরীয়তপুর সদর উপজেলায় কুকুর পোষা নিয়ে বিরোধের জের ধরে শুকুমার মণ্ডল (৫৫) নামে এক কাঠমিস্ত্রিকে কুপিয়ে ও পিটিয়ে হত্যা করার অভিযোগ উঠেছে প্রতিবেশীর বিরুদ্ধে । গত (১৩ জুন) ওই কাঠমিস্ত্রির মাথায় দা ও হাতুড়ি দিয়ে আঘাত করে মারাত্মক জখম করা হয় । বৃহস্পতিবার (২০ জুন) রাতে ঢাকার মুগদা মেডিকেল কলেজ অ্যান্ড হসপিটালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়েছে । নিহত শুকুমার মন্ডল উপজেলার পালং ইউনিয়নের পাটুনিগাঁও গ্রামের মৃত ক্ষেত্রমোহন মণ্ডলের ছেলে ।
এ ঘটনায় ৬ জনকে আসামি করে পালং মডেল থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছে নিহতের পরিবার । পরে পুলিশ দুই জনকে গ্রেফতার করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠায় ।
নিহতের ছেলে চন্দন মণ্ডল ও স্থানীয় সূত্র জানায়, শুকুমারের কুকুর পালা নিয়ে প্রতিবেশী জয়দেব মন্ডলের সাথে প্রায়ই ঝগরা হতো । এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় শরীয়তপুর পৌরসভার আটং এলাকার বটগাছের নিচে জয়দেব, সনাতন, চঞ্চল, কালু, যাদব, অনাথসহ আরও কয়েকজন মিলে শুকুমারকে দা ও হাতুড়ি দিয়ে মাথায় কুপিয়ে ও পিটিয়ে গুরুতর জখম করে । পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে ভর্তি করে ।
ওই দিন রাতেই শুকুমারের অবস্থার অবনতি হলে কর্তব্যরত চিকিৎসকরা তাকে ঢাকায় প্রেরণ করেন । পরে ঢাকা মেডিকেল থেকে চিকিৎসকরা তাকে মহাখালী আয়শা মেমোরিয়াল হসপিটালে প্রেরণ করে । সেখানে আইসিইউতে ভর্তি থাকা অবস্থায় শুকুমারের অবস্থা আশঙ্কাজনক দেখে চিকিৎসকরা তাকে ঢাকা মুগদা মেডিকেল কলেজ অ্যান্ড হসপিটালে পাঠায় । সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত দেড়টার দিকে তার মৃত্যু হয় ।
পালং মডেল থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো.আসলাম উদ্দিন জানান, এ ঘটনায় ৬ জনকে আসামি করে একটি মামলা দায়ের হয়েছে । পুলিশ অভিযান চালিয়ে মামলার প্রধান আসামি সনাতন মণ্ডলকে বৃহস্পতিবার রাতে গোপালগঞ্জের সাতপার এলাকা থেকে আটক করেছে । তিনি আরও জানায়, ঘটনার পরদিন মামলার আরেক আসামি অনাথ মণ্ডলকে আটক করা হয়েছিল । সে বর্তমানে কারাগারে রয়েছে । এছাড়াও অন্যান্য আসামিদের গ্রেপ্তার চেষ্টা চলছে ।
বাংলা টিভি



