দেশবাংলা

টানা বর্ষণে দেশের বিভিন্ন এলাকা প্লাবিত, পানিবন্দি লাখো মানুষ

গত চার দিনের প্রবল বর্ষণ ও পাহাড়ী ঢলে শেরপুরের ঝিনাইগাতীর পাঁচটি ইউনিয়নের ৪০টি গ্রামের নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। এতে পানি বন্দী হয়েছে পড়েছে ১০ হাজার পরিবার। এছাড়া, সুনামগঞ্জ,কুড়িগ্রাম ও নেত্রকোণা জেলার বিভিন্ন নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকায় নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে । এতে পানি বন্ধী হয়েছে পড়েছে কয়েক হাজার মানুষ। যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে চরম দুর্ভোগে রয়েছে পানি বন্ধীরা। স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে বন্যা দুর্গতদের জন্য ত্রাণ সামগ্রী ব্যবস্থা করার আশ্বাস দেয়া হয়েছে।

সোমবার থেকে শুরু হওয়া অবিরাম বর্ষণ ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ী ঢলে শেরপুরের ঝিনাইগাতী সদরসহ প্রায় ৪০টি গ্রামের প্রায় দশ হাজার পরিবার পানিবন্দী হয়ে পড়েছে। প্লাবিত গ্রামের রাস্তাঘাট,আমন ধানের বীজতলা ও সবজি ক্ষেত,ভেসে গেছে শতাধিক পুকুরের মাছ। এতে,চরম বিপাকে রয়েছে এসব এলাকার মানুষ।

পাহাড়ি ঢল আর মৌসুমি বৃষ্টি অব্যাহত থাকার কারনে সুনামগঞ্জের সুরমা  ও কুশিয়ারা নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়ে  জেলার পাঁচ উপজেলার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে । এতে,জেলার জগন্নাথপুর উপজেলার বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধের বাহিরে থাকা কয়েকটি ইউনিয়নের রাস্তাঘাট,বসতবাড়িসহ কয়েকটি বাজার তলিয়ে গেছে । বন্ধ হয়ে গেছে রানীগঞ্জ-রৌয়াইল সড়কে গাড়ী চলাচল।

কয়েকদিনের টানা বর্ষণ ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে নেত্রকোনার সোমেশ্বরী, কংস, ভোগাই, ধনুসহ বিভিন্ন নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে। এতে কলমাকান্দা, দুর্গাপুর ও বারহাট্টার প্রায় শতাধিক গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। পানিবন্ধী হয়ে পড়েছে বহু।

কুড়িগ্রামে সেতু পয়েন্টে ধরলা নদীর পানি বিপদসীমার ৯ সেন্টিমিটার ও ব্রহ্মপুত্রের পানি চিলমারী পয়েন্টে বিপদসীমার ১২ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। পানিবন্দী হয়ে পড়েছে এসব এলাকার অন্তত ১৫ হাজার মানুষ।

এদিকে,কুড়িগ্রামের রৌমারী উপজেলার পশ্চিম তীরে ব্রহ্মপুত্র নদে ভাঙ্গনের কারণের নিঃস্ব হয়ে গেছে  প্রায় ২০ হাজার পরিবার। কয়েক সপ্তাহে নদের ভাঙ্গনে  ৫টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসহ,অনেক মানুষের বসতভিটা ইতোমধ্যে নদী গর্ভে বিলিন হয়ে গেছে। অব্যাহত ভাঙ্গণে সহায় সম্বল হারিয়ে খোলা আকাশের নীচে বসবাস করছেন ক্ষতিগ্রস্তরা।

নদী ভাঙ্গন প্রতিরোধের ব্যবস্থা গ্রহনের কথা জানিয়ে, ক্ষতিগ্রস্তদে তালিকা করে উর্ধ্বতন কতৃপক্ষের কাছে  পাঠানো হয়েছে বলে জানিয়েছেন কুড়িগ্রামের রোমারী  উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা।

বাংলাটিভি/ রিয়েল

সংশ্লিষ্ট খবর

Back to top button
Close