
৪৪ বছরের অপেক্ষার অবসান হলো ইংল্যান্ড ক্রিকেটের। বিশ্বফুটবলে একবার শিরোপা জিতলেও, ক্রিকেটে অধরা ছিলো সেই সাফল্য। এবার হতাশ হতে হয়নি স্বাগতিকদের। নুতন প্রজন্মের হাতেই উঠলো বিশ্বকাপ ট্রফি। রুদ্ধশ্বাস এক ফাইনালে নিজজিল্যান্ডকে বাউন্ডারি ব্যবধানে হারিয়ে শিরোপা জিতে থ্রি-লায়ন্সরা। যা বিশ্বকাপ ইতিহাসে এই প্রথম কোনো ম্যাচের ফলাফল।
লক্ষ্যটা মাঝারি, শিরোপা জিততে ইংল্যান্ডের প্রয়োজন ২৪২ রান। ঘরের মাঠে তেমন কোনো বড় স্কোর না। কিন্তু কে জানতো ফাইনালের পরতে পরতে অপেক্ষা করছে নাটকীয়তা। শ্বাসরুদ্ধকর ম্যাচটি শেষ পর্যন্ত হয় টাই। খেলা গড়ায় সুপার ওভারে।
লর্ডসে সুপার ওভারে নিউজিল্যান্ডের সামনে লক্ষ্য দাঁড়ায় ১৬ রান। জবাবে কিউইরা করে ১৫ রান। আবারো একই ফলাফল, টাই হয় ম্যাচ। অনেকটা আড়ালেই জয়ের ভিতটা গড়ে রেখেছিলো ইংলিশরা। বাউন্ডারি ব্যবধানে ইংল্যান্ড জিতে যায় ম্যাচটি।
ম্যাচে আগে ব্যাট করা নিউজিল্যান্ড ১৪টি চার ও ২টি ছক্কায় মোট বাউন্ডারি পায় ১৬টি। অন্যদিকে দ্বিতীয় ইনিংসে ২২টি চারের সঙ্গে ২টি ছয় মারে ইংল্যান্ড। যে কারণে সুপার ওভারের নিয়মানুযায়ী চ্যাম্পিয়ন হয় থ্রি-লায়ন্সরা।
১৯৭৯ এবং ১৯৮৭ সালের পর ১৯৯২ সালে শেষবার ফাইনাল খেলে ইংল্যান্ড। ২৭ বছর পর ফের বিশ্বকাপের ফাইনালে তারা। ম্যাচ শুরু হওয়ার আগে গণমাধ্যমে ছিলো প্রশ্ন, পারবে কি তারা।? শেষ পর্যন্ত পেরেছে, অবসান হয়েছে দীর্ঘ অপেক্ষার।
টুর্নামেন্ট শুরুর আগে থেকেই বলা হচ্ছিল, ব্যাটিং-বোলিংয়ের ব্যালেন্স এক দল ইংল্যান্ড। শুরুটাও জয় দিয়ে। যদিও মাঝে কিছুটা ছন্দ পতনে স্বাগতিক দর্শকদের হতাশ করেন নি ইয়ুর মরগানের দল। তবে বড় ম্যাচে চাপ সামলে বারবার হিমশিম খেতে হয় তাদের। নয়তো ছোট টার্গেটে খেলতে নেমেও ৮৬ রানে চার উইকেট হারিয়ে রীতিমত পেন্ডুলামের পথে ইংলিশরা। সেখান থেকে বেন স্টোকসের ৮৪ রানের হার নাম মানা ইনিংস, মান বাঁচায় তাদের। যা চিরকাল মনে রাখবে থ্রি-লায়ন্সরা। ম্যাচ সেরা পুরস্কারটা তার হাতে।
কে হতে যাচ্ছেন ম্যান অব দ্য টুর্নামেন্ট? এমন প্রশ্ন ছিল, বাংলাদেশের সাকিব আল হাসান হতে পারেন এমন ধারণাও ছিল, টুর্নামেন্ট সেরার জন্য নিউজিল্যান্ডের কেন উইলিয়ামসনের সাথে মনোনীত হন সাকিবও। কিন্তু শেষ পর্যন্ত সেরার পুরষ্কার পান উইলিয়ামসন।
ব্যাটিং এভারেজে এক নম্বরে ছিলেন নিউজিল্যান্ডের কেন উইলিয়ামসন, যিনি একাই দলকে টেনে তুলেছেন ফাইনালে।
তার পুরস্কারও পেয়েছেন উইলিয়ামসন। হয়েছেন বিশ্বকাপের সেরা ক্রিকেটার। নয় ম্যাচে ৫৭৮ রান করে সেরা হন তিনি। যদিও তার চেয়ে এক ম্যাচ কম খেলে ২৮ রান বেশি নিয়ে উইলিয়ামসনের এক ধাপ উপরে আছেন বাংলাদেশের সাকিব আল হাসান, তার রান ৬০৬। কিন্তু বিশ্বআসরে ব্যক্তিগত রানের ব্যবধানে সাকিবের চেয়ে ২৪ রান বেশি থাকায় টুর্নামেন্ট সেরা হন তিনি। সাকিবের সংগ্রহ ১২৪ এবং উইলিয়ামসনের ঝুলিতে ১৪৮ রান।
বাংলাটিভি/প্রিন্স



