আইন-বিচারবাংলাদেশ

ঘুষ লেনদেনের অভিযোগে মিজান-বাছিরের বিরুদ্ধে দুদকের মামলা

 

৪০ লাখ টাকা ঘুষ লেনদেনের অভিযোগে পুলিশের ডিআইজি মিজানুর রহমান ও দুর্নীতি দমন কমিশন-দুদকের পরিচালক খন্দকার এনামুল বাছিরের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে।

আজ মঙ্গলবার, দুদক পরিচালক শেখ মো. ফানাফিল্যা ঢাকার এক নম্বর সমন্বিত জেলা কার্যালয়ে এ মামলা করেন। দুই ধাপে এই দুইজনের মধ্যে ৪০ লাখ টাকা ঘুষ লেনদেন হয়েছে।দুদক সচিব দিলোয়ার বখত জানান, ফরেনসিক পরীক্ষায় ঘুষ লেনদেনের কথোপকথনের অডিওর সত্যতা পাওয়ায় মামলা করা হয়েছে।

মামলার এজাহারে দুদক পরিচালক খন্দকার এনামুল বাছিরের সম্পর্কে বলা হয়, ‘খন্দকার এনামুল বাছির সরকারি কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে অসৎ উদ্দেশ্যে নিজে আর্থিকভাবে লাভবান হওয়ার আশায় ক্ষমতা অপব্যবহারের মাধ্যমে ডিআইজি মিজানুর রহমানকে অবৈধ সুযোগ প্রদানের উদ্দেশ্যে তার কাছ থেকে তার অবৈধ পন্থায় অর্জিত অপরাধলব্ধ ৪০ লাখ টাকা ঘুষ হিসেবে গ্রহণ করে উক্ত টাকার অবস্থান গোপন করেন।’

অন্যদিকে ডিআইজি মিজান সম্পর্কে এজাহারে বলা হয়, ‘তিনি সরকারি কর্মকর্তা হয়ে নিজের বিরুদ্ধে আনীত অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ থেকে অব্যাহতি পাওয়ার আশায়, অনুসন্ধানের ফলাফল নিজের পক্ষে নেয়ার অসৎ উদ্দেশ্যে খন্দকার এনামুল বাছিরকে অবৈধভাবে প্রভাবিত করার জন্য অবৈধ পন্থায় উপার্জন করা আয় থেকে ৪০ লাখ টাকা ঘুষ প্রদান করেন।’
ঘুষ লেনদেনের চিত্র তুলে ধরে মামলায় বলা হয়, ডিআইজি মিজান গত ১৫ই জানুয়ারি একটি বাজারের ব্যাগে করে কিছু বইসহ ২৫ লাখ টাকা এনামুল বাছিরকে দেয়ার জন্য রমনা পার্কে দু’জনে আলাপ আলোচনা করেন। এরপর, তারা রমনা পার্ক থেকে একসঙ্গে বের হয়ে ঢাকার শাহজাহানপুর এলাকায় খন্দকার এনামুল বাছিরের কাছে ২৫ লাখ টাকার ব্যাগসহ হস্তান্তর করেন। তখন ব্যাগটি নিয়ে এনামুল বাছির তার বাসায় চলে যান।

এরপর ২৫শে ফেব্রুয়ারি একইভাবে মিজান একটি শপিং ব্যাগে করে ১৫ লাখ টাকা এনামুল বাছিরকে দেয়ার জন্য রমনা পার্কে আসেন উল্লেখ করে এজাহারে বলা হয়, ‘তারা রমনা পার্কে আলোচনা শেষ করে একসঙ্গে পার্ক থেকে বের হয়ে শান্তিনগর এলাকায় ডিআইজি মিজান, এনামুল বাছিরের কাছে ১৫ লাখ টাকাসহ ব্যাগটি হস্তান্তর করলে তিনি ব্যাগটি নিয়ে চলে যান।’ এর আগেই এই দুই কর্মকর্তাকে নিজ নিজ প্রতিষ্ঠান থেকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়। গত ২৪শে জুন মিজান, তার স্ত্রী সোহেলিয়া আনার রত্না, ভাগ্নে মাহমুদুল হাসান ও ছোট ভাই মাহবুবুর রহমানকে আসামি করে মামলা করে দুদক। এরপর মিজান এ মামলায় আগাম জামিনের আবেদন করলে, আদালত তা নাকচ করে কারাগারে পাঠায়।

বাংলাটিভি/শহীদ

সংশ্লিষ্ট খবর

Back to top button
Close