জনদুর্ভোগবাংলাদেশ

পাহাড়ি ঢল অব্যাহত থাকায় দেশের বিভিন্ন স্থানে বন্যা পরিস্থিতির অবনতি

 

টানা বর্ষণ আর উজানের পাহাড়ি ঢল অব্যাহত থাকায় দেশের বিভিন্ন স্থানে বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে।  আকস্মিক বন্যায় পানিবন্দী হয়ে পড়েছে লাখো মানুষ।  ত্রাণ সংকটে অনাহারে-অর্ধাহারে দিন পার করছেন তারা।  বন্যাকবলিত এলাকায় দেখা দিয়েছে বিশুদ্ধ পানির সংকটও।

যমুনাসহ সিরাজগঞ্জের সকল নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকায় জেলার সার্বিক বন্যা পরিস্থিতির আরো অবনতি হয়েছে। যমুনা ছাড়াও বেড়েছে হুড়াসাগর, ফুলজোড় ও করতোয়া নদীর পানি।  এতে নিম্নাঞ্চলে পানিবন্দী হয়ে পড়েছে ৫৫ হাজার পরিবারের দুই লক্ষাধিক মানুষ।  এদের মধ্যে ৩৫৪টি আশ্রয় কেন্দ্রে ঠাঁই পেয়েছে মাত্র সাড়ে ১১ হাজার।  ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ১৪টি বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ ।  এ ছাড়াও, নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে ৬টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান।

ব্রহ্মপুত্র নদে পানি বৃদ্ধির ফলে শেরপুরে বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতি হয়েছে। এতে শেরপুর-জামালপুর মহাসড়কের ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে বন্যার পানি।  যেকোন সময় বিচ্ছিন্ন হতে পারে শেরপুরের সঙ্গে সারাদেশের সড়ক যোগাযোগ।

নরসিংদীর রায়পুরায় মেঘনার অব্যাহত ভাঙ্গনে বিলীন হয়ে গেছে ২০টি পরিবারের বসতঘর। ভাঙ্গনের আশংকায় আতঙ্কে রয়েছে চরমধূয়া গ্রামবাসীও। এ ছাড়াও নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে এখানকার স্কুল, বাজার ও কবরস্থানসহ গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা।

গত ১০ দিনেরও বেশি সময় ধরে ব্রহ্মপুত্র, ধরলা,জিঞ্জিরামসহ বেশির ভাগ নদ-নদীর পানি বিপদসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হওয়ায় কুড়িগ্রামে সার্বিক বন্যা পরিস্থিতির আরো অবনতি হয়েছে। এতে পানিবন্দী হয়ে খাবার ও জলের সঙ্কটে রয়েছে জেলার ৯ উপজেলার প্রায় সাড়ে ৭ লাখ মানুষ।

এদিকে, জামালপুরের সার্বিক বন্যা পরিস্থিতি অপরিবর্তিত রয়েছে।  এতে পানিবন্দী হয়ে পড়েছে জেলার ৫৯টি ইউনিয়নের অন্তত ৫ লাখ মানুষ।

টাঙ্গাইলের ভূঞাপুরে ভূঞাপুর-তারাকান্দি বাঁধ ভেঙে নতুন করে আরো ২৫টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। জেলার সঙ্গে তারাকান্দি ও সরিষাবাড়ির সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে।

বাংলাটিভি/শহীদ

সংশ্লিষ্ট খবর

Back to top button
Close