আইন-বিচারআওয়ামী লীগবাংলাদেশ

আওয়ামী লীগের জনসভায় নৃশংস গ্রেনেড হামলার পঞ্চদশ বার্ষিকী আজ

 

আওয়ামী লীগের জনসভায় নৃশংস গ্রেনেড হামলার পঞ্চদশ বার্ষিকী আজ।  ২০০৪ সালের এই দিনে বঙ্গবন্ধু এভিনিউতে তৎকালীন বিরোধী দলীয় নেতা শেখ হাসিনাকে হত্যার উদ্দেশে আওয়ামী লীগের সন্ত্রাসবিরোধী শান্তি সমাবেশে এ হামলা চালানো হয়।  এতে দলীয় প্রধান শেখ হাসিনাসহ শীর্ষ কয়েক নেতা অল্পের জন্য প্রাণে বাঁচলেও, নিহত হন ২৪ জন।  আহত হন প্রায় চার শতাধিক।  তবে ইতিহাসের বর্বোরচিত এই গ্রেনেড হামলার ১৫ বছরেও শেষ হয়নি এর বিচারকাজ।  গত বছর বিচারিক আদালত এ মামলার রায় ঘোষণা করেন।  এরপর ডেথ রেফারেন্সসহ আসামিদের আপিল আবেদনের ৯ মাস পেরিয়ে গেলেও, শুরু হয়নি সেই আপিলের শুনানি।

২০০৪ সালের ২১ আগস্ট বঙ্গবন্ধু এভিনিউতে তৎকালীন বিরোধী দল আওয়ামী লীগের সন্ত্রাসবিরোধী শান্তি সমাবেশ চলছিল।  এতে আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার বক্তব্য শেষে হঠাৎ বিকট শব্দে বোমার বিস্ফোরণ ঘটে।
পরপর ১৩টি গ্রেনেডের বিস্ফোরণে মুহূর্তের মধ্যে রক্তাক্ত হয়ে পড়ে সমাবেশস্থল।  শ’ শ’ মানুষের আর্তচিৎকার, ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা নিথর দেহ আর বারুদের ঝাঁজালো গন্ধে বিভীষিকাময় পরিস্থিতির সৃষ্টি হয় গোটা বঙ্গবন্ধু এভিনিউ এলাকায়।

ওই হামলায় শেখ হাসিনাসহ আওয়ামী লীগের শীর্ষ কয়েকজন নেতা অল্পের জন্য বেঁচে গেলেও, নিহত হন প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিল্লুর রহমানের সহধর্মিনী ও আওয়ামী লীগের মহিলা বিষয়ক সম্পাদক আইভি রহমানসহ ২৪ জন।  আহত হন অন্তত চার’শ মানুষ।
হামলার কয়েক ঘন্টা পর বিবিসি রেডিওতে একটি সাক্ষাৎকার দিয়েছিলেন শেখ হাসিনা।

এদিকে, এ হামলার ঘটনায় করা মামলা নিয়ে চলে নানা নাটকীয়তা।  বিএনপি সরকারের আমলে জজ মিয়া নাটক সাজিয়ে মামলাকে ভিন্নখাতে নেয়ার অভিযোগ ওঠে।  বারবার তদন্ত কর্মকর্তা বদলের পর ২০০৮ সালে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় প্রথম অভিযোগপত্র জমা দেয়া হয়।  পরে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর ১৩ দফা সময় বাড়িয়ে ২০১১ সালের ৩ জুলাই দেয়া সম্পূরক অভিযোগপত্রে তারেক রহমান, হারিছ চৌধুরী, লুৎফুজ্জামান বাবরসহ ৫২ জনকে আসামি করা হয়। যার মধ্যে পলাতক আছেন ১৯ জন।  তবে অন্য দু’টি মামলায় জামায়াত নেতা আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদ এবং হরকাতুল জিহাদ নেতা মুফতি হান্নান ও তার সহযোগী শরীফ শাহেদের ফাঁসি কার্যকর হওয়ায়, মামলা থেকে বাদ দেয়া হয় তাদের নাম।

গত বছরের ১০ অক্টোবর চাঞ্চল্যকর এ মামলার রায় দেন বিচারিক আদালত।  রায়ে সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবর ও বিএনপি নেতা আবদুস সালাম পিন্টুসহ ১৯ জনের মৃত্যুদণ্ড দেয়া হয়। একইসঙ্গে বিএনপির বর্তমানে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানসহ ১৯ জনকে দেয়া হয় যাবজ্জীবন কারাদণ্ড।  আরও ১১ জন আসামিকে বিভিন্ন মেয়াদে সাজা দেওয়া হয়।

রায় ঘোষণার দেড় মাস পর গত বছরের ২৭ নভেম্বর দুই মামলার রায়সহ প্রায় ৩৭ হাজার ৩৮৫ পৃষ্ঠার নথি হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় এসে পৌঁছায়।  এরপর এ মামলার পেপারবুক তৈরি করার নির্দেশ দেন প্রধান বিচারপতি।  এরপর ডেথ রেফারেন্সসহ আসামিদের আপিল আবেদনের ৯ মাস পেরিয়ে গেলেও  শুরু হয়নি সেই আপিলের শুনানি।

বাংলাটিভি/শহীদ

সংশ্লিষ্ট খবর

Back to top button
Close