বাংলাদেশ

খোলা আকাশের নিচে নষ্ট হচ্ছে ৫৬ কোটি টাকার সার

জামালপুরের সরিষাবাড়িতে গুদামের অভাবে আমদানি করা ২৮ হাজার মেট্রিক টন সার প্রশাসনিক ভবনের সামনে খোলা আকাশের নিচে ত্রিপল ও পলিথিন দিয়ে ঢেকে রাখা হয়েছে, যার বাজার মূল্য ৫৬ কোটি ১১ লাখ ৩৪ হাজার টাকা। কৃষক ও ডিলারদের অভিযোগ, অরক্ষিত অবস্থায় রাখায় রোদ, বৃষ্টিতে ভিজে ও গলে জমাট বেঁধে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে সার।

এরআগে যমুনা সার কারখানায় অগ্নিকাণ্ডের কারণে গত ১০ মাস ধরে উৎপাদন বন্ধ রয়েছে। ফলে জামালপুর, শেরপুর, টাঙ্গাইল ও উত্তরবঙ্গের ১৬ জেলাসহ ১৯ জেলার কৃষকদের চাহিদা পূরণ করতে বিদেশ থেকে ইউরিয়া সার আমদানি করা হচ্ছে।

কারখানার সূত্রে জানা গেছে, যমুনা সার কারখানায় দু’টি নিজস্ব গুদাম রয়েছে। এই গুদাম দু’টির ধারণ ক্ষমতা ১২ হাজার মেট্রিক টন। বাকি ২৮ হাজার ৮১ মেট্রিক টন সার প্রশাসনিক ভবনের সামনে রাস্তায় খোলা আকাশের নিচে ত্রিপল ও পলিথিন দিয়ে ঢেকে রাখা হয়েছে।

সরেজমিনে দেখা যায়, বাইরে স্তূপ করে রাখা সারের বস্তা রোদে পুড়ে, বৃষ্টিতে ভিজে ও গলে জমাট বেঁধে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। আমদানি করা এই বিপুল পরিমাণ সার নষ্ট হয়ে যাওয়ায় সরকার যেমন আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে, তেমনই দুর্ভোগে পড়েছেন বিসিআইসির ডিলারসহ কৃষকরা।

বিসিআইসি’র ডিলার সরকার আবুল হোসেন, ওসমান গণিসহ অনেকেই জানান, তিন মাসের বেশি সময় মজুত রাখলে বস্তার ভেতরে পঁচে-গলে ও জমাট বেঁধে সারের গুণাগুণ নষ্ট হয়ে যায়। তারা আরও বলেন, খুচরা বিক্রেতাসহ কৃষকেরা জমাট বাঁধা নষ্ট সার নিতে চান না।

একই অভিযোগ করেন জামালপুর জেলা ট্রাক ও ট্যাংক লরি মালিক সমিতির তারাকান্দি শাখার সভাপতি আশরাফুল আলম মানিক। তিনি বলেন, ‘আমদানি করা ইউরিয়া সারের মান অত্যন্ত খারাপ। ট্রাকে তোলার সময় অনেক বস্তা থেকে পানি পড়ে। এসব সার ডিলারদের গুদামে নিয়ে গেলে তারা নিতে চায় না।’

খোলা আকাশের নিচে অরক্ষিত অবস্থায় সার রাখার বিষয়ে জানতে চাইলে যমুনা সার কারখানার ব্যবস্থাপক (বাণিজ্যিক) ওয়ায়েছুর রহমান বলেন, ‘কয়েক মাস সার রাখা হলে নিচের কিছু বস্তা নষ্ট হতে পারে। সার জমাট বেঁধে গেলেও এর গুণগত মান নষ্ট হয় না। চলতি আমন মৌসুমের মিনি পিক মৌসুমের জন্য ১৯ জেলায় চাহিদা ১৪ হাজার ১৮৮ মেট্রিক টন। চাহিদানুযায়ী ইউরিয়া সার মজুত রয়েছে।’ খরব:

বাংলাটিভি/ সৌরভ নূর

সংশ্লিষ্ট খবর

Back to top button
Close