বিশ্ববাংলা

সৌদীকরণ নীতিমালায় হারাতে বসেছে সব চেয়ে বড় শ্রমবাজার

গোলাম কিবরিয়া, সৌদি আরব : বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় শ্রমবাজার মরভূমির দেশ সৌদি আরবে বৈধ অবৈধ মিলিয়ে প্রায় ২১ লাখ বাংলাদেশী বিভিন্ন পেশায় নিয়োজিত রয়েছেন। স্থানীয় নাগরিকদের কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষে, ২০১৭ সালে দেশটির সরকারের সৌদীকরণ নীতিমালার ঘোষণা অনুযারী তা আংশিক বাস্তবায়ন হওয়ায় চরম বিপাকে পড়েছেন বাংলাদেশীসহ বিভিন্ন দেশের অভিবাসীরা।

২০১৭ সালের শেষের দিকে সৌদি শ্রম মন্ত্রণালয়ের দেওয়া এক বিবৃতিতে দেখা যায়, সৌদি নাগরিকদের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করতে সরকার ১২ টি সেক্টরকে সৌদিকরণ করার ঘোষণা দেয়ার পর থেকেই বাংলাদেশী সহ বিভিন্ন দেশের নাগরিকরা তাদের কর্মসংস্থান হারিয়ে ফেলেন এবং অনেকেরই চাকরি চলে যায়।

তার মধ্যে আবার নতুন করে ২০১৮ সালের পহেলা জানুয়ারী থেকে দেশটিতে হঠাৎ করে সৌদীকরণ নীতিমালা প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন করায় কর্মসংস্থান হারিয়ে চরম বিপাকে পড়ে যায় বাংলাদেশী সহ অন্যান অভিবাসীরা। বছরের শেষের দিকে ঘুরে দাঁড়ানোর ইচ্ছে থাকলে ও নতুন করে আবারো হতাশ করলেন সৌদি আরবের শ্রম মন্ত্রণালয়,জানিয়েছে নতুন করে আরো ২০ টি পেশা হচ্ছে শতভাগ সৌদি করণ।

একের পর এক সেক্টর সৌদীকরণের ঘোষণা দেবার পর থেকেই চরম হতাশায় পড়ছেন বাংলাদেশী সহ অন্যান্য দেশের অভিবাসীরা। মোবাইল, ঘড়ি,চশমা, বোরখা, স্বর্ণের দোকান, ঘরের আসবাবপত্র বিক্রি করে এরকম দোকান, বিল্ডিং কনস্ট্রাকশন কাজে ব্যবহৃত দোকান, মেডিকেল সামগ্রী, বেকারি, গাড়ির যন্ত্রাংশ বিক্রে করে এরকম দোকান, ইলেক্ট্রনিক দোকানের এর পর এবার হসপিটালিটি ও টুরিজম সেক্টরের নতুন করে আরো ২০টি পেশায় শতভাগ সৌদিকরণ করার ঘোষণা দিয়েছেন দেশটির সরকার।

যা আগামী ১৮ মাসের মধ্যে কার্যকর করা হবে, আর এতে করে নতুন করে কর্মসংস্থান হারাবেন বিপূল সংখ্যক প্রবসী বাংলাদেশী। গত ২৬ জুলাই ২০১৯ দেশটির সংবাদ মাধ্যম সৌদি গ্রেজেট প্রকাশিত সংবাদে জানা যায় তিন তারকা হোটেল, রিসোর্ট এবং হোটেল জাতীয় কর্মস্থলের রিজার্ভেশন ক্রয়, মার্কেটিং এবং ফ্রন্ট ডেস্ক, হোটেল ডেপুটি ম্যানেজার, আইটি প্রশাসনের সহকারী প্রধান, প্রশাসন পরিচালক ও বিক্রয় প্রশাসনের সহকারী পরিচালক; বিক্রয় প্রতিনিধি এবং বিক্রয় ব্যবস্থাপক, ফিটনেস ক্লাব সুপারভাইজার, হোটেল পাবলিক সার্ভিস সুপারভাইজার, পণ্য ক্লার্ক, গ্রহণ, রুম সার্ভিস অর্ডার ক্লার্ক, রেস্টুরেন্ট বা ক্যাফে ওয়েটার, পর্যটন অনুসন্ধান ক্লার্ক, নির্বাহী সচিব, সাধারণ প্রশাসনিক ক্লার্ক, প্রশাসনিক কর্মচারী এবং প্রশাসনিক সমন্বয়কারী, খাদ্য ও পানীয় সুপারভাইজার, রুম সার্ভিস সুপারভাইজার, এবং লন্ড্রি সুপারভাইজার পেশা সমুহে আর কোন বিদেশী কাজ করতে পারবেনা।

সেই সাথে এই সব পেশায় নন সাউদি নিয়োগ ও ট্রান্সফার নিষিদ্ধ করা হয়েছে এই সব পেশায় নিয়োজিত প্রবাসীরা বুঝে উঠতে পারছেন না কি করবেন তারা এই ভাবে চলতে থাকলে বাংলাদেশ হারাবে সব চেয়ে বড় শ্রমবাজার, তাই বাংলাদেশ সরকারের কাছে প্রবাসীদের দাবি শীঘ্রই নিজ দেশে তাদের কর্মসংস্থান তৈরি অথবা অন্য কোন দেশে নতুন শ্রমবাজার তৈরী করা।

বাংলাটিভি/ এসনূর

সংশ্লিষ্ট খবর

Back to top button
Close