অন্যান্যবাংলাদেশ

শরীরে নির্যাতনের চিহ্ন সৌদি ফেরত গৃহকর্মীদের

ভাগ্য ফেরানোর আশায় গৃহস্থালীর কাজ করতে সৌদি আরব গিয়েছিলেন দেশের অনেক নারীই কিন্তু বিরূপ পরিবেশ, খাবারের সমস্যার সঙ্গে কথায় কথায় গৃহকর্তার মারধরের কারণে টিকতে পারছেন না তাদের কেউই। গতকাল ফিরেছেন আরও ১৮ নারী গৃহকর্মী। সাড়ে আট মাসে ফিরেছেন ৮৫০ নারী। গত বছর ফিরেছেন ১ হাজার ৩৫৩ নারী।

তাদের অনেকেই যাওয়ার মাত্র তিন থেকে পাঁচ মাস পরই দেশে ফিরে আসতে বাধ্য হয়েছেন। অথচ চুক্তি অনুযায়ী তাদের বিভিন্ন মেয়াদে অন্তত দুই বছর সৌদি আরবে থাকার কথা ছিলো। নির্যাতনে টিকতে না পেরে তাঁরা সবাই আশ্রয় নিয়েছিলেন সৌদি আরবে বাংলাদেশ দূতাবাসের সেফহোমে (নিরাপদ আশ্রয়কেন্দ্র)। তাঁদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, তাঁরা সবাই সেখানে শারীরিক-মানসিক নির্যাতনের শিকার হয়েছেন।

তবে ফিরে আসা কর্মীদের সব অভিযোগ সত্য নয় বলে দাবি করেন বেসরকারি খাতে জনশক্তি রপ্তানিকারকদের সংগঠন বায়রার মহাসচিব শামীম আহমেদ চৌধুরী। তিনি বলেন, তদন্ত করা হলে প্রকৃত তথ্য বেরিয়ে আসবে।

অভিবাসন খাতসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, সৌদিতে নারী কর্মী পাঠানোর আগে এক মাসের প্রশিক্ষণ (ভাষা, কাজের ধরন, আবহাওয়া পরিস্থিতি) বাধ্যতামূলক থাকলেও তা মানা হয় না। গৃহকর্মী খাতে নারীদের না পাঠিয়ে অন্য কাজে পাঠানোর চেষ্টা করা উচিত বলে মনে করেন তাঁরা।

সার্বিক বিষয়ে বাংলাদেশ নারী শ্রমিক কেন্দ্রের নির্বাহী পরিচালক সুমাইয়া ইসলাম বলেন, নারীর নিরাপত্তা ও সুরক্ষা নিশ্চিত না করে সৌদি আরব কেন, কোনো দেশেই পাঠানো ঠিক নয়। নারীদের কাজের পরিবেশ নিশ্চিত করতে সরকারের নিয়মিত নজরদারি থাকতে হবে। না হলে কোনো কিছু করেই লাভ হবে না।

নির্যাতনের অভিযোগ পেলে সঙ্গে সঙ্গে নারীদের দেশে ফিরিয়ে আনার ব্যবস্থা করা হয় বলে জানান জনশক্তি, কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর পরিচালক (কর্মসংস্থান) ডি এম আতিকুর রহমান। তিনি বলেন, নির্যাতনসহ নানা কারণে এ বছর ফিরে আসা ২৬০ নারীকে ক্ষতিপূরণ দেওয়া হয়েছে।

সৌদি দূতাবাসের শ্রম বিভাগের কাউন্সেলর আমিনুল ইসলাম বলেন, আসলে কাজের চাপ, খাবারের সমস্যা, আবহাওয়া, ভাষা ও পরিবেশের সঙ্গে খাপ খাওয়াতে না পেরে অনেক নারী কর্মী সেখানে থাকতে চান না। তাঁরা যে বাসায় কাজের জন্য যান, সেখান থেকে পালিয়ে সেফহোমে চলে আসেন। তবে আগের চেয়ে এই প্রবণতা অনেকটা কমেছে। খবর : প্রথম আলো

সংশ্লিষ্ট খবর

Back to top button
Close