অপরাধবাংলাদেশ

একটি স্বার্থবাদী মহলের হাতে জিম্মি বাংলাদেশ ব্যাংক : টিআইবি

সৌরভ নূর : শীর্ষ ঋণখেলাপিদের ঋণ পুনঃতফসিলিকরণে বাংলাদেশ ব্যাংকের সম্মতির খবরে টিআইবির ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে। শুক্রবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে টিআইবি এই প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছে। একইসাথে সংকটে পড়া ব্যাংকিং খাতের সুরক্ষায় কর্তৃত্বের আইনগত অপব্যবহার আর না করার আহ্বান জানায়।

বাংলাদেশ ব্যাংক তাদের নিজেদের নীতিমালাকে পাশ কাটিয়ে দেশের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় ঋণখেলাপি প্রতিষ্ঠানকে প্রায় চারশ ত্রিশ কোটি টাকা ঋণ পুনঃতফসিলিকরণের সুযোগ দিতে সম্মত হয়েছে বলে গণমাধ্যমে যে সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে তাতে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)।

সংস্থাটির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ‘এই পদক্ষেপ প্রমাণ করে যে, বাংলাদেশ ব্যাংক একটি কায়েমি স্বার্থবাদী মহলের হাতে কার্যত জিম্মি হয়ে পড়েছে এবং সংকটে জর্জরিত ব্যাংকিং খাতকে পুনরুজ্জীবিত করার পরিবর্তে তা ব্যাংকিং খাতকে আরও বেহাল অবস্থার দিকে ঠেলে দিচ্ছে’।

সংস্থাটির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামানকে উদ্ধৃত করে বলা হয়, যেভাবে বেক্সিমকো লিমিটেডকে ঋণ পুনঃতফসিলিকরণের সুযোগ দেওয়া হচ্ছে তা নজিরবিহীন এবং বাংলাদেশ ব্যাংক যে ব্যাংকিং খাতের নিয়ন্ত্রকের ভূমিকা পালন করতে পুরোপুরি ব্যর্থ হচ্ছে তারই প্রমাণ।

তিনি বলেন, বেক্সিমকো লিমিটেডের যে ঋণ পুনঃতফসিলিকরণের খবর বেরিয়েছে তা চাহিদা ঋণ, সংজ্ঞাগতভাবেই যা পরিশোধের মেয়াদ এক বছরের বেশি হওয়ার নিয়ম নেই। অথচ বাংলাদেশ ব্যাংকের বৃহৎ ঋণ পুনঃতফসিলিকরণ নীতিমালায় তারা এক দফা অন্যায্য সুবিধা পেয়েছে। এখন আবার সেই নীতিমালাকে পাশ কাটিয়ে তাদের ছয় বছরের জায়গায় বারো বছরে ঋণ পরিশোধের সুযোগ দেওয়া হচ্ছে, যেন প্রতিষ্ঠানটি খেলাপি হিসাবে চিহ্নিত হওয়া থেকে বেঁচে যেতে পারে।

সংবাদ মাধ্যম থেকে আমরা আরো জানা গেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক বিষয়টি গোপন রাখতে কোন সার্কুলারও দেয়নি। এভাবে জনগণকে অন্ধকারে রেখে একটি বিশেষ গোষ্ঠীকে সুবিধা দেওয়ার ঘটনায় আমরা রীতিমতো আতঙ্কিত বোধ করছি।

টিআইবির নির্বাহী পরিচালক মনে করেন, “কাগজে কলমে উচ্চ প্রবৃদ্ধি, তীব্র তারল্য সংকট আর ব্যাংকিং খাতের এই দুরবস্থার মধ্যে দেশের সামষ্টিক অর্থনীতিতে একধরণের বুদবুদ তৈরি হয়েছে, যা যে কোনো সময় বিস্ফোরিত হতে পারে। ফলশ্রুতিতে দেশের অর্থনীতি মুখ থুবড়ে পড়বে।

দেশের অর্থনীতি উল্টো পথে হাঁটছে যে এখনই এর রাশ টেনে ধরা না গেলে ফিরিয়ে আনার আর কোনো পথ থাকবে না। এমন পরিস্থিতি মোকাবিলায় ব্যাংকিং খাতের সংস্কার আর শুধু কাগুজে আর প্রতিশ্রুতিতে সীমাবদ্ধ রাখার সুযোগ নেই। তাই কেন্দ্রীয় ব্যাংক ও সরকারের উচিত কায়েমি স্বার্থের ঊর্ধ্বে উঠে করণীয় কাজটি বাস্তবায়ন করা।

সংশ্লিষ্ট খবর

Back to top button
Close