আইন-বিচারবাংলাদেশ

‘ভারতীয় জেলেরা লুটে নিচ্ছে মৎস্য সম্পদ’

বেলাল হোসেন, বরগুনা : ৬৫ দিনের নিষেধাজ্ঞা শেষে দেশের নদীগুলোতে ইলিশ ধরা শুরু করেছে জেলেরা। দীর্ঘদিন পর নদীতে নামতে পেরে উৎসবের আমেজ বিরাজ করছে জেলেপাড়াগুলোতে। ধরা পড়ছে ঝাঁকে ঝাঁকে রুপালি ইলিশ। ব্যস্ততা বাড়ছে ইলিশের মোকামগুলোতে। তবে তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশের জলসীমায় অবৈধভাবে অনুপ্রবেশ করে মৎস্য সম্পদ লুটে নিচ্ছে ভারতীয় জেলেরা। সরকারের কাছে ভারতীয় ট্রলার অনুপ্রবেশে নিষেধাজ্ঞার দাবী তাদের।

দীর্ঘ ৬৫ দিন পর মাছ ধরা শুরু হচ্ছে, দেশের বৃহত্তম মৎস্য অবতরণ কেন্দ্র বরগুনায়। পাথরঘাটা বিএফডিসি ঘাটে এখন জেলে, ট্রলার মালিক, পাইকার ও আড়ৎদারদের পদচারনায় মুখরিত। সকাল-সন্ধ্যা কিংবা রাতে সমুদ্রে ইলিশ শিকার করে ট্রলার বোঝাই করে ফিরছেন জেলেরা।

মাছ বিক্রি করে আবার ছুটছেন সমুদ্রে। ৩ দিনে ১টি ট্রলারে ৮ হাজার থেকে ১২ হাজার পর্যন্ত ইলিশ পাচ্ছেন। প্রতিমন ১৫ থেকে ১৮ হাজার পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে। গত ৪ দিনে মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রে ২শ ২০ মেট্রিকটন ইলিশ বিক্রি হয়েছে। আর এ থেকে রাজস্ব আদায় হয় ৯ লাখ ৩৭ হাজার ৩শ টাকা।

তবে জেলেরা অভিযোগ জানিয়ে বলেন, সরকারের নিষিদ্ধ কারেন্ট জাল এবং অবৈধ বেহুন্দী ব্যবহার করে ভারতীয় ট্রলার বঙ্গোপসাগরের সোনার চর, রুপার চরে এসে ঝাটকাসহ বিভিন্ন প্রজাতির মাছ শিকার করে নিয়ে যাচ্ছে। যা আমাদের জন্য দুর্দশার কারণ হয়ে দাড়ায়।

ভারতীয় অবৈধ ট্রলারসহ জেলেদের আটকের দাবী জানিয়েছে বরগুনা জেলা মৎস্যজীবী ও ট্রলার মালিক সমিতির সভাপতি গোলাম মোস্তফা চৌধুরী।

উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মাহফুজুল হাসনাইন বলেন, ৬৫ দিনের অবরোধ দেয়ার কারণে এখন মাছের উৎপাদন অনেক বেড়ে গেছে। তবে অবরোধ চলাকালীন সময় জেলেদের বিভিন্নরকম সহায়তা দেয়া হয়েছিলো বলেও জানান তিনি ।

টানা ৬৫ দিনের নিষেধাজ্ঞা কাটিয়ে আবারও সরগরম হয়ে উঠেছে মাছ ঘাটগুলো। সফলভাবে অভিযান পরিচালনা করতে পারায় দেশে ইলিশের উৎপাদন বেড়েছে বলে মনে করছেন মৎস সংশ্লিষ্টরা।

বাংলাটিভি/ নূর

সংশ্লিষ্ট খবর

Back to top button
Close