অপরাধবাংলাদেশ

জিসানের সিনেমাটিক গ্রেফতার

সৌরভ নূর : দীর্ঘ ১৩ বছর পলাতক থাকার পর তালিকাভুক্ত শীর্ষ সন্ত্রাসী জিসান আহমেদকে সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাই শহরে গ্রেফতার করেছে দুবাই পুলিশের সহযোগিতায় বাংলাদেশ পুলিশ সদর দফতরের এনসিবি শাখা ও এনসিবি (ইন্টারপোল)।

২০০৩ সালে মালিবাগের একটি হোটেলে দুজন ডিবি পুলিশকে হত্যার পর আলোচনায় আসেন জিসান। ২০০৫ সালে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযানের মুখে সে দেশ ছেড়ে পালিয়ে যায়। এরপর ২০০৫ সালে পালিয়ে ভারতে প্রবেশ করে জিসান। নিজের নাম পরিবর্তন করে আলী আকবর চৌধুরী নামে পাসপোর্ট সংগ্রহ করে এবং দুবায়ে নতুন করে আস্তানা গড়ে তোলেন।

সম্প্রতি দুর্নীতি বিরোধী অভিযানে দুই যুবলীগ নেতা জিকে শামীম ও খালেদ মাহমুদ ভূঁইয়াকে গ্রেফতারে পর জিসানের নাম আলোচনায় আসে। তাছাড়া সরকারের পুরস্কার ঘোষিত ২৩ শীর্ষ সন্ত্রাসীর মধ্যে জিসান অন্যতম।

জিসানের গাড়ির শো রুমের ম্যানেজার শাকিল। তার বাড়ি ঢাকার ওয়ারীতে। এক সময় ছাত্রলীগ করতো সে। ওয়ারীর রাজিব হত্যা মামলার আসামী শাকিল। নাদিমের কাছের লোক হওয়ায় শাকিল দুবাইয়ে জিসানের গাড়ির শোরুম দেখা শোনার দায়িত্ব পায়। দুবাইয়ের ডেরাতে জিসানের গাড়ির শোরুম আর বুর্জ খলিফা টাওয়ারে স্বর্ণের দোকান রয়েছে। ডেরাতে মস্কো নামের একটি নাইট ক্লাবও পরিচালনা করে জিসান।

এর দুই মাস আগে থেকে ন্যাশনাল সেন্ট্রাল ব্যুরো দুবাইয়ের সঙ্গে ন্যাশনাল সেন্ট্রাল ব্যুরো ঢাকা যোগাযোগ শুরু করে। গোয়েন্দা পুলিশ-ডিবি থেকে জিসানের লেটেস্ট ছবি ও তথ্য পাঠানোর পর তারা (এনসিবি দুবাই) জিসানকে শনাক্তের কাজ শুরু করে। এরপর দুবাই এনসিবি ঢাকাকে জানায়, তারা জিসানকে নজরদারির মধ্যে রাখা হয়েছে।

নিশ্চিত হওয়ার জন্য এনসিবি দুবাই জিসানের সম্পর্কে আরও কিছু তথ্য পাঠায় এবং ঢাকাকে জানায়, সে ভিন্ন নাম ব্যবহার করে দুবাইতে আছে। একইসঙ্গে অন্য দেশের পাসপোর্টও ব্যবহার করছে। এ তথ্য জানার পর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) মাধ্যমে সেগুলো যাচাই করে বাংলাদেশ।

জিসান যখন জার্মানি থেকে দুবাই এয়ারপোর্টে নামে তখন থেকেই ইমিগ্রেশন পুলিশ ফলো করতে থাকে তাকে। এরপর গভীর রাতে দুবাই পুলিশ গ্রেফতার করে। তবে তাকে কোথায় রাখা হয়েছে তা আপাতত কেউ জানে না। এর আগে সন্ধায় গাড়ির শোরুমে বসে টিএনটি নাদিম ও জিসান একই সাথে বৈঠক করে। কিন্তু তাদের ধরা সম্ভব হয়নি।

দুবাই পুলিশের হাতে গ্রেফতার হওয়ার পর শীর্ষ সন্ত্রাসী জিসানকে ছাড়াতে এখন দৌড়ঝাঁপ শুরু করেছে তার সহযোগীরা। এতে সহযোগিতা করছে দুবাইয়ে থাকা আরেক শীর্ষ সন্ত্রাসী টিএনটি নাদিম। এরইমধ্যে সে এরাবিয়ান সিআইডির সাথে যোগাযোগ করেছে বলে জানা গেছে। টিএনটি নাদিম ছাড়াও, হত্যা মামলার আসামী শাকিলসহ বেশ কয়েকজন চেষ্টা করছে জিসানকে পুলিশের হাত থেকে ছাড়াতে।

সংশ্লিষ্ট খবর

Back to top button
Close