দেশবাংলা

মানব সম্পদ উন্নয়নে বিশেষ ভূমিকা রাখছে ঝিনাইদহ টিটিসি

একটি দেশের সার্বিক উন্নয়নের জন্য প্রয়োজনীয় উপাদান গুলির মধ্যে মানব সম্পদ অন্যতম। অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, টেকসই ও দীর্ঘমেয়াদী উন্নয়নের জন্য দক্ষ মানব সম্পদের ভূমিকা বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ। কেননা মানুষের জন্যই উন্নয়ন এবং মানুষই উন্নয়ন করে। তাই অর্থ সম্পদ ও ভৌত সম্পদের প্রাচুর্য থাকা সত্ত্বেও যদি মানব সম্পদের অভাব থাকে তবে সেক্ষেত্রে উন্নয়ন প্রক্রিয়া মন্থর হয়ে পড়ে।

সাধারণ মানুষ বিভিন্ন বিষয়ে জ্ঞান ও দক্ষতা অর্জন করে তবেই মানব সম্পদে পরিণত হতে পারে।মানুষ যখন সুস্বাস্থ্যের অধিকারী হবে তখন সে সম্পদে পরিণত হওয়ার যোগ্যতা রাখে। বাংলাদেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নের জন্য মানব সম্পদ উন্নয়ন ছাড়া আর কোন বিকল্প নাই।

ঝিনাইদহ শহরে ক্যাডেট কলেজের সামনে ৩ একর জমির উপর ২০০৬ সলে অত্যাধুনিক ঝিনাইদহ কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রটি প্রতিষ্ঠিত হয়।এখানে রয়েছে আধুনিক অবকাঠামো শিক্ষা সহায়ক।

দারিদ্র বিমোচন, স্কিল ডেভলপমেন্ট সহ দেশের ক্রমবর্ধমান বেকার সমস্যা দূরীকরণ, আর্থ-সামাজিক অবকাঠামোর উন্নয়ন, দ্রুত শিল্পায়নের সহায়ক দক্ষ জনশক্তি সৃষ্টি ও আন্তর্জাতিক শ্রম বাজারে দক্ষ জনশক্তি সরবরাহ বৃদ্ধি প্রভৃতি উদ্দেশ্য সামনে রেখে কারিগরি ও বৃত্তিমূলক বিভিন্ন প্রশিক্ষণ কর্মকান্ড কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে পরিচালনা করা হচ্ছে।

তারই ধারবাহিকতায় প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের অধীনস্থ জনশক্তি,কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর নিয়ন্ত্রণাধীন ঝিনাইদহ শহরে এই কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র ২০০৬ সনে স্থাপিত হয়েছে এবং ২০০৭ সাল হতে স্বল্প ও দীর্ঘ মেয়াদী প্রশিক্ষণ কার্যক্রম চলমান রয়েছে।

বিদেশ গমনেচ্ছু পুরুষ/মহিলা কর্মীদের প্রি-ডিপার্চার ওরিয়েন্টেশন ট্রেইনিং কোর্সে প্রশিক্ষণ শেষে প্রশিক্ষণার্থীদের (বিএমইটি) এর মহাপরিচালক কর্তৃক স্বাক্ষরিত সার্টিফিকেট প্রদান করা হয় এবং প্রশিক্ষণ  প্রাপ্ত সকল প্রশিক্ষণার্থী বিদেশে গমন করেন। বিদেশ গমনেচ্ছু মহিলা কর্মীদের জন্য ১ মাস মেয়াদী হাউজ কিপিং কোর্সে প্রশিক্ষণ প্রদান করে (বিএমইটি) এর মহাপরিচালক কর্তৃক স্বাক্ষরিত সাটিফিকেট প্রদান করা হয় এবং প্রশিক্ষণ প্রাপ্ত সকল প্রশিক্ষণার্থী বিদেশে গমন করেন।

ঝিনাইদহ কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র থেকে প্রশিক্ষন নিয়ে দক্ষতা অর্জন করে ১৫৬৮০ জনেরও বেশি পুরুষ ও মহিলা বিদেশে গিয়ে তারা ভাল চাকরীও পেয়েছেন। এর মধ্যে সৌদি গেছে ৫৩৪৫জন পুরুষ কর্মী, মালায়েশীয়া ৭০৬০জন, বাহারাইন ৭০ জন, সিজি৬৮জন, সাইপ্রাস ৩৫জন পুরুষ কর্মী প্রশিক্ষণ নিয়ে বিদেশে গিয়ে স্বাবলম্বী হয়েছেন।

এছাড়াও সৌদিআরবে ৪৭৮০জন, কুয়েত ২০৪০, ওমান ৭৫০জন ইরাক ৪৮০জন, লেবানন ১৩০ জন, মালদ্বীপ ২৪০জন এবং  দুবাই ৭৫০ মহিলা কর্মী বিদেশ পাড়ি জমিয়েছেন।

৬ মাস মেয়াদী বেসিক কম্পিউটার কোর্সে প্রশিক্ষণ শেষে প্রশিক্ষণার্থীগণ সার্টিফিকেট গ্রহণ করে দেশের সরকারী/বেসরকারী বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে চাকুরীর সুযোগ পান। অর্থ মন্ত্রনালয়ের অর্থ বিভাগ কর্তৃক পরিচালিত প্রকল্পের অধীনে চার মাস মেয়াদী বিভিন্ন ট্রেডে সর্ম্পূন সরকারী খরচে প্রশিক্ষণ ও ভাতা প্রদান করে আত্মকর্মসংস্থানসহ দেশের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে/ ইন্ডাস্ট্রিতে চাকুরীর ব্যবস্থা করা হয়।

অভিজ্ঞ জাপানী ভাষা প্রশিক্ষক দ্বারা প্রশিক্ষণ দেওয়া হয় এবং প্রশিক্ষণ শেষে বিএমইটি ও জাপান কর্তৃক গঠিত কমিটি দ্বারা নির্বাচিত হলে প্রশিক্ষণার্থীগন সর্ম্পূন সরকারী খরচে জাপান যাওয়া সুযোগ পায়।

এছাড়া ও অত্র প্রতিষ্ঠানটি বিগত ২০১৮ সনের জাতীয় উন্নয়ন মেলায় ঝিনাইদহ জেলার ১২০ টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে প্রথম স্থান অর্জন করে জেলার শ্রেষ্ঠ প্রতিষ্ঠান হিসাবে পরিচিতি লাভ করে।

আব্দুল্লাহ আল মামুন, ঝিনাইহদ প্রতিনিধি

সংশ্লিষ্ট খবর

Back to top button
Close