দেশবাংলা

ফরিদপুর ও রংপুরের পর এবার শেখ হাসিনা মেডিকেল কলেজ

ফরিদপুর ও রংপুরের পর এবার ১৫ কোটি টাকার চুরি হয়েছে হবিগঞ্জ শেখ হাসিনা মেডিকেল কলেজে। সেখানে ৪২ হাজার টাকার ল্যাপটপের দাম ধরা হয়েছে প্রায় দেড় লাখ টাকা। আর  ৬০ হাজার টাকা দামের প্রিন্টারের মূল্য দেখানো হয় আড়াই লাখ টাকা।

একই সাথে অন্যান্য মালামাল ক্রয়ে রয়েছে সিমাহীন দূর্নীতি। এমন দূর্নীতিতে বাকশুন্য  সুশীল সমাজ। তাঁরা এর সঠিক তদন্ত করে দায়ীদের অনুকরণীয় শাস্তির দাবি করেছেন।

হবিগঞ্জ শেখ হাসিনা মেডিকেল কলেজের একাডেমিক কার্যক্রম শুরু হয় চলতি শিক্ষাবর্ষে। কিন্তু এরইমধ্যে সরঞ্জাম ক্রয়ের প্রায় ১৫ কোটি টাকার অর্ধেকই নেয়া হয় অসাধু উপায়ে। সরঞ্জাম ক্রয়ের জন্য বরাদ্দ ছিল ১৫ কোটি ৫০ লাখ টাকা। ভ্যাট ও আয়কর খাতে সরকারি কোষাগারে জমা হয়, ১ কোটি ৬১ লাখ ৯৭ হাজার ৭শ টাকা। কিন্তু মালামাল ক্রয় বাবদ ব্যায় দেখানো হয় ১৩ কোটি ৮৭ লাখ ৮১ হাজার ১শ টাকা।

সরবরাহকৃত মালামালের মধ্যে ৬৭টি লেনেভো ল্যাপটপের মূল্য নেয়া হয় ৯৯ লাখ ৪৯ হাজার ৫শ টাকা। প্রতিটির মূল্য পড়েছে ১ লাখ ৪৮ হাজার ৫শ টাকা। অথচ এ মডেলের ল্যাপটপ বিক্রি হচ্ছে, মাত্র ৪২ হাজার টাকায়। ৬০ হাজার টাকা মূল্যের এইচপি কালার প্রিন্টার এর দাম ধরা হয়েছে ২ লাখ ৪৮হাজার ৯শ টাকা।

আবার চেয়ারগুলোতে ইয়ামিন ফার্নিচার লেখা থাকলেও, সেগুলো কোন প্রতিষ্ঠানের স্টিকার লাগানো নেই। এগুলোরও মূল্য ধরা হয়েছে, অস্বাভাবিক। এছাড়াও নানা দূর্নীতির অভিযোগ মিলছে হবিগঞ্জবাসীর স্বপ্নের মেডিকেল কলেজে। এমন দূর্নীতিতে সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে দোষীদের কঠোর শাস্তির দাবি সুশীল সমাজের।

সময় সল্পতার কারণে এত বিশাল সংখ্যক সরঞ্জামের প্রকৃত বাজারমূল্য যাচাই করা সম্ভব হয়নি বলে দায়সারা জবাব দিলেন, বাজার দর নির্ধারণ কমিটির সভাপতি ডা. মো. শাহীন ভূইয়া ।

এ বিষয়ে জানতে মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষের সাথে কথা বলতে চাইলে তিনি ঢাকায় অবস্থান করায় তার বক্তব্য নেয়া সম্ভব হয়নি।

কাজল সরকার, হবিগঞ্জ প্রতিনিধি

সংশ্লিষ্ট খবর

Back to top button
Close