অন্যান্যবাংলাদেশ

আজ ঐতিহাসিক গণঅভ্যুত্থান দিবস

২৪ জানুয়ারি (শুক্রবার), ঐতিহাসিক গণঅভ্যুত্থান দিবস। ১৯৬৯ সালের এই দিনে পাকিস্তানী সামরিক শাসক উত্খাতের লক্ষ্যে কারফিউ উপেক্ষা করে মিছিল বের করে সংগ্রামী জনতা। এতে পুলিশের গুলিতে নিহত হয় নবকুমার ইনস্টিটিউশনের দশম শ্রেণির ছাত্র মতিউর রহমানসহ আরও তিনজন।

আর, এর মধ্য দিয়েই পতন ঘটে আইয়ুব শাহীর। আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা থেকে মুক্তি দেয়া হয়, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানসহ সকলকে। বাংলাদেশ রাষ্ট্র গঠন ও স্বাধীনতা যুদ্ধের ইতিহাসে মাইলফলক হিসেবে বিবেচনা করা হয় এই গণআন্দোলনকে।

১৯৬৬ সালে শেখ মুজিবের ঐতিহাসিক ছয় দফা ঘোষণার মাধ্যমে আরও তীব্র হয়ে ওঠে স্বাধিকার আন্দোলনের গতি। ছিষট্টির মে থেকে কারাবন্দী থাকা শেখ মুজিবকে ১৯৬৮’র ১৮ জানুয়ারি তথাকথিত মুক্তি দিয়ে কারাফটক থেকেই আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলায় বন্দী করা হয়।

এ মামলার বিরুদ্ধে সারা দেশে ছাত্র-শ্রমিক-জনতা দুর্বার আন্দোলন গড়ে তোলে। এরই ধারাবাহিকতায় ১৯৬৯-এর ৪ জানুয়ারি পাকিস্তানি স্বৈরশাসকের বিরুদ্ধে ১১ দফা কর্মসূচি ঘোষণা করে সর্বদলীয় ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ। শহীদ আসাদের রক্তের সিঁড়ি বেয়ে সারাদেশে জ্বলে ওঠে আন্দোলনের আগুন- ২৪ জানুয়ারি যা রূপ নেয় গণঅভ্যুত্থানে।

এই আন্দোলনের সূচনা করেছিল দেশের প্রগতিশীল ছাত্রসংগঠনগুলো, যার নেতৃত্বে ছিল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র সংসদ বা ডাসু। ওই সময় ডাসুর ভিপি ছিলেন তোফায়েল আহমেদ। জনতার রুদ্ররোষ ও গণঅভ্যুত্থানের জোয়ারেই পতন ঘটে আইয়ুবের স্বৈরতন্ত্রের।

পরবর্তীতে স্বৈরাচারী আইয়ুব সরকার আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলার প্রধান অভিযুক্ত বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানসহ সকলকে মুক্তি দিতেও বাধ্য হয়।

ইতিহাসবিদ মেসবাহ কামাল মনে করেন, বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের ইতিহাসে ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থান এক তাত্পর্যপূর্ণ মাইলফলক। যার পথ বেয়েই সশস্ত্র যুদ্ধের মাধ্যমে বাঙালি জাতি অর্জন করে মহান স্বাধীনতা।

আসাদ রিয়েল, বাংলা টিভি

সংশ্লিষ্ট খবর

Back to top button
Close