বিশ্ববাংলা

মোবাইল ফোনে পরিচয় অতপর লাশ উদ্ধার প্রবাসীর

আড়াই বছর আগে মোবাইল ফোনে অপরিচিত নাম্বারে সুমি আক্তার প্রকাশ শারমিন নামে এক বিবাহিত নারীর সঙ্গে যোগাযোগ হয় প্রবাসী মো. রায়হানুল ইসলাম চৌধুরী সজীবের। বিদেশ থেকে এসে সেই নারীর সঙ্গে দেখাও করতে গিয়েছিলেন তিনি।

কিন্তু বুঝতে পারেননি বান্ধবীর বেশে এতদিন অভিনয় করা সেই নারী অপহরণকারী দলের সদস্য এবং তার হাতেই নিজের প্রাণ দিতে হবে। গত সপ্তাহে চট্টগ্রামের কর্ণফুলী থানার বৈদ্দ্যার বাড়ি এলাকা থেকে প্রবাসী সজীবের মরদেহ উদ্ধারের পর, হত্যাকান্ডের বিষয়ে পুলিশি তদন্তে এসব তথ্য বেরিয়ে আসে।

বিদেশে থাকতে মোবাইলে রং নাম্বারে পরিচয় থেকে বন্ধুত্ব হয় সুমির সাথে সজীবের। এরপর দেশে ফিরে তার সাথে দেখা করতে গিয়ে আটকে যান তিনি। সুমিসহ অপহরণকারী দলের সদস্যরা সজীবকে আটকে রেখে আদায় করতে চেয়েছিলেন ১০ লাখ টাকা মুক্তিপণ।

তাদের জিম্মিদশা থেকে মুক্তি পেতে টাকা দিতে রাজিও হয়েছিলেন তিনি।  কিন্তু বাঁচার আকুতি জানিয়ে চিৎকার করায়, গলায় মাফলার পেঁচিয়ে তাকে হত্যার পর মানিব্যাগে থাকা ৯ হাজার ৮০০ টাকা, হাতঘড়ি ও দুটি মোবাইল নিয়ে যায় অপহরণকারীরা।

এরপর প্রযুক্তির মাধ্যমে রহস্য উদঘাটনের পাশাপাশি, হত্যাকান্ডের সাথে জড়িত বাদশা মিয়া ও সুমি আক্তার প্রকাশ শারমিন নামে দুই জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে বলে জানান, অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার শ্যামল কুমার নাথ।

এদিকে গ্রেফতার বাদশা মিয়া ও সুমি আক্তার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট শফি উদ্দিন এবং মেহনাজ রহমানের পৃথক আদালতে হত্যাকান্ডের দায় স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছেন।

গত বছরের ১৯ ডিসেম্বর আফরিন নামে এক মেয়ের সাথে আকদ হয় রায়হানের। এ মাসেই তার বিবাহোত্তর সংবর্ধনা অনুষ্ঠান হওয়ার কথা ছিল।

আবু মুছা জীবন, চট্টগ্রাম প্রতিনিধি

সংশ্লিষ্ট খবর

Back to top button