আন্তর্জাতিকএশিয়া

‘ভাইরাসে আক্রান্তের প্রকৃত তথ্য গোপন করছে চীন’

চীনে প্রাণঘাতী করোনা ভাইরাসে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ১৩২ জনে দাঁড়িয়েছে। আর আক্রান্তের সংখ্যা প্রায় ছয় হাজার। দেশটির কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে, কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে এ খবর জানানো হয়েছে।

এমন পরিস্থিতে সেখানে অবস্থান করা এক বাংলাদেশি শিক্ষার্থী বর্ণ সিদ্দিকী এক ভিডিও বার্তায় চীনের বর্তমান পরিস্থিতি সম্পর্কে তুলে ধরেছেন। তিনি বলেন, আমি আমার চাইনিজ বন্ধুদের মাধ্যমে জানতে পেরেছি, চীনে এই ভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা অনেক বেশি যা বহির্বিশ্বের গণমাধ্যমে তেমন খবর প্রকাশ পাচ্ছে না। এছাড়া ইতোমধ্যে এই প্রভাব চীনের অর্থনীতিতেও পড়েছে।

আমি অনেকগুলো বাজার ঘুরেছি, আগে এসব বাজারে শাক-সবজির কোনো ঘাটতি না থাকলেও এখন কোনো কাঁচা তরকারি পাওয়া যাচ্ছে না। যা পেয়েছি তা শুষ্ক খাবার তাও পরিমাণে খুবই অল্প।

এদিকে, চীনের উহান নগরী থেকে ছড়ানো করোনা ভাইরাসের বিস্তারে প্রাণে বাঁচতে যেসব বাংলাদেশি দেশে ফিরতে চান তাদের আরও ১৪ দিন অপেক্ষা করতে হবে। এছাড়াও উহান শহরে থাকা বিদেশি নাগরিকদের আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে ছাড়বে না চীন। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে বলেও জানান, এই শিক্ষার্থী।

তিনি আরও জানান, এই মুর্হূতে দেশের স্বার্থে আমাদের নিজ মাতৃভূমিতে না ফেরাই উচিত। চীনে আমরা শিক্ষার্থী ছাড়াও আরও হাজার হাজার বাংলাদেশি আছি। আমরা জানি না এই রোগটা কার কাছে চলে এসেছে। কারো সাথে থাকলেই এই রোগের বিস্তার ঘটবে। দেশে গিয়ে আমার থেকে আমার পরিবারের মধ্যে তা ছড়িয়ে পড়তে পারে।

উল্লেখ্য, এই রোগটার একটা অদ্ভুত ব্যাপার হচ্ছে, এটি শরীরে আসার পর থেকে ১৪ দিন অবস্থান করবে এবং কোনো লক্ষণও প্রকাশ করবে না।

সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা থেকে আরও জানা যায়, হুবেই ছাড়াও রাজধানী বেইজিংসহ ২৯টি প্রদেশে এ ভাইরাস ছড়িয়ে পড়েছে। এ ছাড়া জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া, থাইল্যান্ড, যুক্তরাষ্ট্র, সিঙ্গাপুর, ভিয়েতনাম, তাইওয়ান, নেপাল, ফ্রান্স, সৌদি আরব, কানাডাসহ অন্তত ১৬টি দেশে এ ভাইরাসে আক্রান্ত রোগীর সন্ধান মিলেছে।

উদ্ভূত পরিস্থিতিতে নিজ দেশের নাগরিকদের বিদেশ ভ্রমণ স্থগিত করার আহ্বান জানিয়েছে চীন। দেশটির জাতীয় অভিবাসন বিভাগের এক বিবৃতিতে এ ব্যাপারে সতর্ক করা হয়েছে। তবে মৃতদের বেশিরভাগই চীনের হুবেই প্রদেশের বাসিন্দা।

সংশ্লিষ্ট খবর

Back to top button