দেশবাংলা

সন্তানকে হত্যা করে গর্ভবতী মায়ের আত্নহত্যা

যশোরের শার্শায় নিজের কন্যা সন্তানকে হত্যার পর, ৭ মাসের অন্তস্বত্তা মা জুলেখা আত্নহত্যা করেছেন। উপজেলার লক্ষনপুর ইউনিয়নের শিকারপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

রবিবার ২ ফেব্রুয়ারি সকাল সাড়ে ৮টার সময় এই হত্যা ও আত্নহত্যার ঘটনাটি ঘটে। একই গ্রামের বাসিন্দা মৃত জুলেখার চাচা তরিকুল ইসলাম(৩০) সূত্রে জানা যায়, গত ৬-৭ মাস পূর্বে  শার্শা লক্ষনপুর ইউনিয়নের রামচন্দ্রপুর গ্রামের আলাউদ্দিন গ্যাদন এর মেয়ে জুলি বেগম (২২) এর ১টি স্বর্ণের চেইন হারিয়ে বা চুরি হয়ে যায়।

শনিবার ১লা ফেব্রুয়ারী সকাল ১০ টার সময় মৃত গর্ভবতী মা জুলেখা খাতুনের কন্যা মৃত আমেনা চকলেট কিনতে আলাউদ্দিনের দোকানে গেলে তার মেয়ে জুলি বেগম আমেনার গলা থেকে তারই চুরি হওয়া স্বর্ণের চেইন মনে করে জোরপূর্বক খুলে নেয়। এবং এলাকার মানুষদের সামনে অপমান করেন।

মৃত গর্ভবতী জুলেখা খাতুন জুলি বেগমকে বলেন, এটি আমার মায়ের গিফট করা চেইন, আমার মা এই স্বর্ণের চেইনটি আমাকে বানিয়ে দিয়েছে। কিন্তু আমার মা ঢাকায় চাকুরী করে বিধায় শুক্রবার ছাড়া এলাকায় আসতে পারবেনা বলে মোবাইল ফোনে তৎক্ষণাত জানায়। প্রমান যথাযথ মনে না হওয়ায় স্বর্ণের চেইন খোয়া যাওয়া অভিযুক্ত জুলি বেগম তার বাসায় ফিরে যান।

আত্নহত্যাকারী জুলেখার স্বামী আল মামুন বলেন, আমার শাশুড়ি রোজার মাসে আমার স্ত্রীকে একটি স্বর্ণের চেইন দিয়েছে, সে ব্যাপারে আমি অবগত আছি। আমার শাশুড়ি প্রমাণের জন্য শুক্রবারে আসার কথা। পরে রাজমিস্ত্রির কাজে যাওয়ার পর আমার ভাইয়ের মোবাইল কলের মাধ্যমে জানতে পারি আমার স্ত্রী আত্মহত্যা করেছে।

নাভারন সার্কেলের এএসপি জুয়েল ইমরান সাংবাদিকদের বলেন, লাশ দুটি ময়নাতদন্তের জন্য যশোর সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে ও প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের জন্য জুলি বেগম  ও তার মাকে পুলিশের হেফাজতে নেয়া হয়েছে।

মোঃ আরিফুল ইসলাম, বেনাপোল প্রতিনিধি

সংশ্লিষ্ট খবর

Back to top button