৯৯ রোগীর স্বাস্থ্যের ব্যাখ্যা দিলেন চিকিৎসকরা

করোনাভাইরাসের বিরুদ্ধে লড়াই করা মানে একটি অজানা শক্তির বিরুদ্ধে যুদ্ধ করার মতো হয়ে দাঁড়িয়েছে চিকিৎসকদের জন্যে। এই ভাইরাসটি কীভাবে মানব শরীরে আক্রমণ করে? লক্ষণগুলো কী হতে পারে? কাদের গুরুতর আক্রমণ করতে পারে বা মারা যাওয়ার সম্ভাবনা বেশি? কিংবা কিভাবে হতে পারে এর উপযুক্ত চিকিৎসা?
এ পর্যন্ত চিকিৎসকরা এসব প্রশ্নের নিদৃষ্ট কোনো উত্তর কিংবা চিকিৎসা সামনে আনতে পারেননি। তবে প্রথম আক্রান্ত হওয়া ৯৯ জন রোগীর স্বাস্থ্যের পর্যবেক্ষণের ব্যাখ্যা দিলেন চিকিৎসকরা। এরমধ্যে কমপক্ষে ১০% রোগী মারা গেছেন। ৫৭ জন এখনও হাসপাতালে আছে। ৩১ রোগীকে ছেড়ে দেয়া হয়েছে ও ১১জন রোগী মারা গেছেন।
এই ৯৯ জন রোগীর প্রত্যেকেরই নিউমোনিয়া হয়েছিল। তাদের ফুসফুস ফুলে উঠেছে। কারণ ফুসফুসে যে ছোট ছোট প্রকোষ্ঠ থাকে, যার মধ্যে দিয়ে বাইরের বাতাস থেকে আসা অক্সিজেন রক্তে প্রবাহিত হয়, সেই প্রকোষ্ঠগুলোয় পানি জমে গেছে।
তাদের অন্যান্য লক্ষণগুলি, ৯৯জন রোগীর মধ্যে ৮২ জনের জ্বর ছিল। ৮১ জনের ছিল কাশির সমস্যা। শ্বাসকষ্টে ভুগছিল ৩১ জন। পেশী ব্যথায় আক্রান্ত হয়েছিল ১১জন। দ্বিধাগ্রস্ততা বা বিভ্রান্তির মুখে পড়েছিল ৯জন রোগী। তীব্র মাথাব্যথা ছিল আটজনের। পাঁচজনের ছিল গলা ব্যথার সমস্যা।

হাসপাতালে আসার পরে প্রথমে মারা যান, ৬১ বছর বয়সী এক বৃদ্ধ। তিনি গুরুতর নিউমোনিয়ায় ভুগছিলেন। তার তীব্র শ্বাসকষ্ট হয়েছিল, এর অর্থ নিজের দেহকে বাঁচিয়ে রাখার জন্য তার ফুসফুস, অন্যান্য অঙ্গগুলিতে পর্যাপ্ত অক্সিজেন সরবরাহ করতে পারছিল না। হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার ১১ দিনের মাথায় মারা যান ওই ব্যক্তি।
এদিকে, এই ভাইরাসে সবচেয়ে বেশি ক্ষতির মুখে পড়েছেন মধ্যবয়সী পুরুষরা। ৯৯ জন রোগীর বেশিরভাগই মধ্যবয়সী ছিলেন, যাদের গড় গড় বয়স ৫৬ বছর এবং ওই ৯৯জনের মধ্যে ৬৭ জনই পুরুষ।
তবে সাম্প্রতিক পরিসংখ্যানগুলোয় এই রোগে আক্রান্ত হওয়া নারী পুরুষের সংখ্যার ব্যবধান অনেকটাই কমে আসে। চীনের রোগ নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধ কেন্দ্রসমূহ জানিয়েছে যে প্রতি ১ জন নারীর অনুপাতে ১.২ জন পুরুষ সংক্রামিত হয়েছেন।
অন্যদিকে, চীনের এক গবেষণায় বলা হয়েছে, বাজারে বিক্রি হওয়া জীবন্ত প্রাণীগুলো এই ভাইরাস ছড়ানোর পেছনে দায়ী। কেননা, ওই ৯৯জন রোগীর মধ্যে ৪৯ জনেরই বাজারের সাথে সরাসরি সম্পৃক্ততা ছিল।—বিবিসি বাংলা



