সেন্টমার্টিনে ট্রলার ডুবে ১৫ রোহিঙ্গা নিহত

সেন্টমার্টিনের কাছে বঙ্গোপসাগরে ট্রলারডুবে ১৫ রোহিঙ্গার মৃত্যু হয়েছে। এছাড়া আরো ৭১ রোহিঙ্গাকে জীবিত উদ্ধার করেছে কোস্টগার্ড ও নৌবাহিনী। নিহতদের মধ্যে ১৪ জন নারী ও অপরজন এক শিশু রয়েছে।
উদ্ধারকৃত রোহিঙ্গারা জানায়, দালালের প্ররোচনায় অবৈধপথে মালয়েশিয়া যাওয়ার আশায় মৃত্যু ঝুকি নিয়ে সাগরে পাড়ি দেয় তারা। মঙ্গলবার ভোরে সেন্টমার্টিনের ছেঁড়াদ্বীপের কাছে বঙ্গোপসাগরে ডুবে যাওয়া ট্রলারে শতাধিক যাত্রী ছিল এবং তারা সবাই রোহিঙ্গা।
খবর পেয়ে কোস্টগার্ড দ্রুত উদ্ধার অভিযান চালায়। সকাল থেকে এ পর্যন্ত ৬৫ জনকে জীবিত ও ১৫ জনের মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। ডুবুরিরা ট্রলারটি উদ্ধারে কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। কোস্টগার্ড ছাড়াও নৌ-বাহিনী, বিজিবি ও পুলিশসহ আইনশৃংখলা বাহিনী অংশ নিয়েছে উদ্ধার কাজে।
লে. কমান্ডার এস এম জাহিদুল ইসলাম ঘটনার বিবরণ দিয়ে বলেন, ঘটনাটি ঘটেছে সেন্টমার্টিন দ্বীপের পশ্চিম প্রান্তে জিঞ্জিরা নাম স্থানে সৈকতের কাছেই। সম্ভবত টেকনাফের নোয়াখালী নামক স্থান থেকে এদেরকে নিয়ে ট্রলারটি রওয়ানা দিয়েছিল মধ্যরাতের পরে। আর ট্রলারডুবির ঘটনাটি ভোররাত তিনটের দিকে ঘটেছে বলে অনুমান করা হচ্ছে। নৌবাহিনী অবশ্য ট্রলারডুবির খবর জানতে পারে সকাল ছয়টার দিকে।
লে. কমান্ডার আরও বলেন, স্থানীয়দের ফোন পেয়ে তিনি নৌবাহিনীর সদস্যরা পেট্রোল বোটে করে সেখানে যান। তখনো একটি দেশীয় ট্রলার আধা নিমজ্জিত অবস্থায় ছিলো। বহু মানুষ ট্রলারটি ধরে ভেসে থাকার চেষ্টা করছে। আর আশপাশে মৃতদেহ ভাসছে।
লে. কমান্ডার ইসলাম উদ্ধার কার্যক্রম প্রসঙ্গে বলেন, অনেক সময় পাচারকারীরা নারী ও শিশুদের ট্রলারের ডেকে রেখে দরজায় তালা মেরে দেয়া হয়। যদি এরকম ঘটনা ঘটে থাকলে তাদের জীবিত পাওয়ার আশা নেই। তবে সেটা স্পষ্ট হবে ট্রলারটা পানি থেকে তুলে আনার পরই।
এরই মধ্যে স্থানীয় দুটি ট্রলারের মাধ্যমে নিমজ্জিত ট্রলারটিকে টেনে সোজা করা হয়েছে। নৌবাহিনীর উদ্ধারকারী জাহাজ ‘দুর্জয়’ সেন্টমার্টিনের পথে রয়েছে।
ডেস্ক রিপোর্ট, বাংলাটিভি



