দেশবাংলা

আপত্তির মুখে থমকে গেছে চট্টগ্রামের এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের কাজ

বন্দর ও পুলিশের আপত্তির মুখে থমকে গেছে বন্দরনগরী চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের নির্মাণাধীন এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে প্রকল্পের কাজ। বন্দরের আপত্তির মুখে সিডিএ নকশা সংশোধন করে এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের পথ পরিবর্তনের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।

তবে মারাত্মক যানজটের আশঙ্কায় বিকল্প পথ তৈরি না করে এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের কাজ করার ক্ষেত্রে জোরালো আপত্তি আছে পুলিশের। এ অবস্থায় নির্ধারিত সময়ের মধ্যে অতি গুরুত্বপূর্ণ এ প্রকল্পের কাজ শেষ হবে কি না, তা নিয়ে সংশয়ে আছেন খোদ প্রকল্প সংশ্লিষ্টরাই।

চট্টগ্রাম মহানগরীর মূল অংশ থেকে শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের যাত্রাপথের দূরত্ব কমাতে এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে নির্মাণের উদ্যোগ নেয় চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (সিডিএ)। ২০১৭ সালের ১১ জুলাই জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি-একনেকের সভায় ৩ হাজার ২৫০ কোটি ৮৩ লাখ টাকা ব্যয়ে এ প্রকল্পের অনুমোদন দেয়া হয়।

এরআগে, ২০১৯ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারী এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের পিলার পাইলিং কাজের উদ্বোধন করেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। প্রকল্পের কাজ শুরুর আট মাসের মাথায় নিরাপত্তাসহ যানবাহন চলাচলে প্রতিবন্ধকতার আপত্তি তোলে কাজ বন্ধ রাখাতে সিডিএকে চিঠি দেয় বন্দর কর্তৃপক্ষ।

এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে বাস্তবায়ন নিয়ে এ জটিলতার জন্য নগর পরিকল্পনাবিদ, এমনকি সিডিএর কর্মকর্তারাও দুষছেন সংস্থাটির সাবেক চেয়ারম্যান আবদুচ ছালামকে।

প্রকল্প নেয়ার সময় সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থাগুলোর সঙ্গে সমন্বয় না করায় এ জটিলতা তৈরি হয়েছে বলে মনে করছেন ব্যবসায়ী নেতা মাহফুজুল হক শাহ চৌধুরী। তবে সীমিত পরিসরে নির্মাণ কাজ চলছে জানিয়ে চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের প্রধান প্রকৌশলী কাজী হাসান বিন শামস বলেন, পরিবর্তিত নকশায় পুরো কাজ শীঘ্রই শুরু করা হবে।

এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে প্রকল্প নিয়ে শুরু থেকেই আপত্তি ছিল জানিয়ে এ নগর পরিকল্পনাবিদ ইঞ্জিনিয়ার দেলোয়ার মজুমদার বলেন, অব্যবস্থাপনার জন্য চট্টগ্রাম মহানগরীর সড়কের যে সক্ষমতা আছে, সেটার শতভাগ ব্যবহার হচ্ছে না।

নগর পরিকল্পনাবিদসহ বিভিন্ন শ্রেণী-পেশার মানুষের আপত্তি উপেক্ষা করে নেয়া এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের কর্মপরিকল্পনা নিয়ে অসন্তোষ আছে খোদ সিডিএর কর্মকর্তাদের মধ্যেই। ২০২০ সালের জুনে প্রকল্পের কাজ শেষ হওয়ার কথা থাকলেও সৃষ্ট জটিলতার কারণে ২০২৩ সালের জুনে প্রকল্পের কাজ শেষ হবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

আবু মুছা জীবন, চট্টগ্রাম প্রতিনিধি

সংশ্লিষ্ট খবর

Back to top button