অপরাধবাংলাদেশ

মৃত্যুর আগে হত্যাকারীদের বিচার দেখে যেতে চান তনুর মা

‘সবাই তনুকে ভুলে গেছে। তবে মা হিসেবে আমি তো ভুলতে পারি না। মৃত্যুর আগে একটাই আশা, মেয়ের হত্যাকারীদের বিচার দেখে যাওয়া।’ আক্ষেপ নিয়ে কথাগুলো বললেন তনুর মা। কলেজ ছাত্রী সোহাগী জাহান তনু হত্যার চার বছর পেরিয়ে গেলেও খুনি শনাক্ত করতে পারেনি আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। অগ্রগতি নেই মামলাতেও।

তনুর মা আনোয়ারা বেগম আরও বলেন, সারা বাসায় মেয়ের স্মৃতি। যেদিকে তাকাই তাকে দেখি। তাকে ভুলতে পারি না। মেয়ের কাপড়গুলো রেখে দিয়েছি। মাঝে মাঝে বের করে দেখি। কাপড়ে মেয়ের গায়ের ঘ্রাণ নিই। আর চোখের পানি ফেলি। দুই বছর ধরে সিআইডি কোন যোগাযোগও করছে না।

তনুর বাবা এবং আমি খুব অসুস্থ হয়ে পড়েছি। আগের মতো বিভিন্ন অফিসে যেতে পারি না। তবে মৃত্যুর আগে মেয়ের হত্যাকাণ্ডের বিচার দেখে যেতে চাই।–বাংলা ট্রিবিউন

এদিকে, মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও সিআইডি কুমিল্লার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জালাল উদ্দীন আহমেদ বলেন, আমরা কাজ করে যাচ্ছি। ডিএনএ পরীক্ষা এবং ম্যাচিং করার বিষয়টি সময় সাপেক্ষ। ডিএনএ’র রিপোর্ট এখনও হাতে পাইনি। রিপোর্ট পেলে আমরা এগিয়ে যেতে পারবো।

এর আগে, থানা পুলিশ ও ডিবি’র পর ২০১৬ সালে মামলাটির তদন্তের দায়িত্ব পায় সিআইডি কুমিল্লা। এরপর ২০১৭ সালের মে মাসে সিআইডি তনুর জামা-কাপড় থেকে নেওয়া নমুনার ডিএনএ পরীক্ষা করে তিন পুরুষের শুক্রানু পাওয়ার কথা জানা যায়।

পরে সন্দেহভাজনদের ডিএনএ ম্যাচিং করার কথা থাকলেও তা করা হয়েছে কিনা এ নিয়ে সিআইডি বিস্তারিত আর কিছু জানায়নি। সর্বশেষ তনুর মায়ের সন্দেহ করা তিন জনকে ২০১৭ সালের ২৫ অক্টোর থেকে ২৭ অক্টোবর পর্যন্ত সিআইডির একটি দল ঢাকা সেনানিবাসে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়।

প্রসঙ্গত, ২০১৬ সালের ২০ মার্চ সন্ধ্যায় কুমিল্লা সেনানিবাসের ভেতরে একটি বাসায় টিউশনি করতে গিয়ে আর ফেরেনি তনু। পরে স্বজনরা খোঁজাখুঁজি করে রাতে বাসার অদূরে সেনানিবাসের ভেতর একটি জঙ্গলে তনুর মরদেহ পায়। পরদিন বাবা কুমিল্লা ক্যান্টনমেন্ট বোর্ডের অফিস সহায়ক ইয়ার হোসেন বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে কোতয়ালী মডেল থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন।

সংশ্লিষ্ট খবর

Back to top button
Close