অন্যান্য

নিম্ন আয়ের মানুষের পাশে দাঁড়ান

‘মতামত’

করোনা ভাইরাসের কারণে যাদের কপালে সবচেয়ে বেশি দুশ্চিন্তার ভাঁজ পড়েছে, তারা হল দিনমজুর ও নিম্ন আয়ের মানুষ। আমাদের অনেকের ঝুঁকিটা স্বাস্থ্যগত। কিন্তু তাদের ঝুঁকিটা শুধু স্বাস্থ্যগত নয়, তার চেয়ে অনেক বেশি সংকটাপূর্ণ। তাদের স্বাস্থ্য ঝুঁকিটাও আমাদের থেকে বেশি।

কেননা তারা থাকেন অস্বাস্থ্যকর, গিঞ্জি ও নোংরা পরিবেশে। যেখানে পর্যাপ্ত ভেন্টেলেশন ও পয়ঃনিষ্কাশনের স্বাস্থ্যকর ব্যবস্থা নেই। ছোট্ট একটি কামরায় অনেক মানুষ গাদাগাদি করে থাকেন। ফলে স্বাভাবিকভাবেই সেখানে করোনা সংক্রমণের ঝুঁকি অনেক বেশি। কিন্তু করোনা মহামাহির কারণে নিম্ন আয়ের এ সুবিধাবঞ্চিত মানুষগুলো স্বাস্থ্যগত ঝুঁকি নিয়ে যতটা উদ্বিগ্ন, তার থেকে বেশি উৎকণ্ঠিত খাদ্য নিয়ে। তাদের একটাই কথা।

‘কাম না করলে খামু কেমনে? বউ বাচ্চারে কী খাওয়ামু। বুড়া বাপ-মারে কেমনে দেখমু। আমগোরে করোনার মারতে অইবো না। বেশি দিন এমন চললে, আমরা এমনেই না খাইয়া মইরা যামুগা।’

বাংলাদেশে এমন নিম্ন আয়ের মানুষের সংখ্যা কত? বিশ্বব্যাংক এর “দারিদ্র্য ও সমৃদ্ধির অংশীদার-২০১৮’ শীর্ষক প্রতিবেদন অনুযায়ী বাংলাদেশের ২ কোটি ৪১ লাখ লোক দৈনিক ৬১ টাকা ৬০ পয়সাও আয় করতে পারেন না। ৮ কোটি ৬২ লাখ লোকের দৈনিক আয় ৩ দশমিক ২ ডলার বা ২৭০ টাকার চেয়ে কম (প্রথম আলো, ২০.০১.২০১৯) ।

কী অবাক হচ্ছেন? বিশ্বব্যাংকের প্রতিবেদন বিশ্বাস হচ্ছে না? আমারও হয় নি। কিন্তু, আমাদের সরকরি প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস) এর ২০১৯ এর পরিসংখ্যানও তো কাছাকাছি তথ্যই দিচ্ছে। বিবিএস এর সর্বশেষ পরিসংখ্যান (২০১৯) অনুযায়ী, বাংলাদেশের ১৬ কোটি ৪৬ লাখ মানুষের মধ্যে সোয়া তিন কোটি মানুষই দারিদ্র্যসীমার নিচে বাস করে।

বিবিএস এর আরেকটি রিপোর্ট অনুযায়ী বাংলাদেশে প্রায় পৌনে ২০ লাখে এমন পরিবার (ব্যক্তি নয়) রয়েছে, যাদের প্রতি মাসের গড় আয় মাত্র ৭৪৬ টাকা (প্রথম আলো, ১৭.১০.২০১৯) । এবার নিশ্চয় বিশ্বাস হয়েছে।

তাই আসুন, দেশের এই ক্রান্তিলগ্নে আমরা নিজেদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি নিম্ন আয়ের মানুষের প্রতি সদয় হই। নিজেদের সাধ্যানুযায়ী তাদের পাঁশে দাঁড়াই। তাদের প্রতি একটু খেয়াল রাখি, যাতে তারা অভুক্ত না থাকে। তাদের স্বাস্থ্য ঝুঁকিটা একটু কমানোর চেষ্টা করি। করোনা সম্পর্কে তাদের বুঝায়। স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে উদ্বুদ্ধ করি। সম্ভব হলে সাবান, মাস্ক, স্যানিটাইজার, খাবার ও ওষুধ দিয়ে তাদের সহযোগিতা করি।

ইতোমধ্যে অনেক ব্যাক্তি ও প্রতিষ্ঠান এ মানবিক কাজগুলো শুরু করেছেন। তাদের সাধুবাদ জানাই। তবে প্রয়োজনের তুলনায় এখনো তা সীমিত ও অপ্রতুল। গুটিকয়েক ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান এ বিপুল নিম্ন আয়ের মানুষের জন্য খুব বেশি কিছু করতে পারবে না। সমাজের উচ্চবিত্ত ও সুবিধাপ্রাপ্ত সবারই উচিত এ ভয়াবহ দুর্যোগে সুবিধাবঞ্চিতদের পাশে দাঁড়ানো।

বাংলাদেশে ধনী মানুষের সংখ্যাও কম নয়। বিশ্বব্যাংকের মতে অতিধনী বৃদ্ধির হারের দিকে বাংলাদেশ বিশ্বে প্রথম। ধনী বৃদ্ধির হারে তৃতীয়। অর্থাৎ বাংলাদেশে বিশাল একটি উচ্চবিত্ত ও মধ্যবিত্ত শ্রেনী রয়েছে। যাদের ক্ষুদ্র সাহায্যও এ অসহায় মানুষগুলোর কষ্ট লাঘবে বড় ভূমিকা রাখবে।

মহাম্মদ মুজাহিদুল ইসলাম
প্রভাষক, লোক প্রশাসন বিভাগ
বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়, রংপুর

সংশ্লিষ্ট খবর

Back to top button
Close