অন্যান্যবাংলাদেশ

এমন পরিস্থিতির জন্য কেউ প্রস্তুত ছিল না

প্রসঙ্গ করোনা :

দেশের ভেতরে কিংবা বাইরে সারা বিশ্বেই করোনা নিয়ে যে প্রস্তুতি তাতে সার্বিক পরিস্থিতি বলতে যা বুঝায় তা ভালো না। আমাদের মনে হচ্ছে, আমাদের দেশের অবস্থা খারাপ; অন্যদেশের নাগরিকদের মনে হচ্ছে তাদের অবস্থা খারাপ। আসলে বিষয়টি এখন পুরো বিশ্বের জন্যই হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে, এর জন্য কেউ প্রস্তুত ছিল না।

ফলে অবস্থার সাথে সাথে নিজেদের পলিসি বদলের বিষয়টি পলিসি মেকারদের প্রথম থেকে মাথায় আসেনি, আমি সারা বিশ্বের কথাই বলছি। বাংলাদেশের ক্ষেত্রেও একই ঘটনা ঘটেছে। ডিসেম্বর-জানুয়ারি হতে যদি ইউরোপ, আমেরিকা ও ইংল্যান্ড করোনার প্রকোপকে কেবল ‘চাইনিজ সমস্যা’ না ভাবতো, তাহলে আজকে সারা পৃথিবী হয়তো এতোটা ভোগান্তির শিকার হতো না!

এবার আমাদের প্রসঙ্গে যদি বলি, আরও পূর্বেই সচেতন হওয়া দরকার ছিল। মানুষকে সচেতন করা এবং ডাক্তার নার্সদের কঠিন সময় মোকাবেলা করার জন্য যথেষ্ট সরঞ্জমাদি প্রস্তুত করা, টেস্ট কীট , পিপিইসহ সকল কিছু তৈরি করা দরকার ছিল।

আমরা আসলে বিষয়টির গভীরতা অনুধাবন করতে অনেক দেরি করে ফেলেছি। তারপরও বাংলাদেশ এখনো সময় পাচ্ছে, করোনার ভয়াবহতা বাংলাদেশকে যেন না ছুঁয়ে যেতে পারে, সেই প্রচেষ্টা এখন করতে হবে সরকারকে।

যদিও সেই প্রস্তুতি যথাযথ হবার সুযোগ কম, কারণ আমাদের জনসংখ্যার তুলনায় লোকবল ও রিসোর্স দুটোই খুব কম। তারপর সঠিক সময়ে সঠিক সিদ্ধান্ত নেবার ক্ষেত্রেও জটিলতা আছে। সাধ্যের মাঝে যতটুকু করা সম্ভব, করতে হবে। তবে একটা গাইড লাইন থাকতে হবে, পলিসিগুলো সুস্পষ্ট হতে হবে।

নয়তো মাঠ লেভেলে প্রশাসন অনেক ক্ষেত্রে ভুল কিছু করতে পারে- যেমন, এসিল্যান্ড এর ঘটনা। গরীব মানুষজন শাক বিক্রি না করলে তাদের বাচ্চাদের খাওয়াবে কি? সেক্ষেত্রে কি করনীয় হবে, সেটা সরকারকে নির্ধারণ করতে হবে। কান ধরে ছবি তুললেই তো সমাধান হবে না!

দেশের গরীব খেটে খাওয়া মানুষের জন্য খাওয়ার ব্যবস্থা করতে হবে। নয়তো তারা ঘরে আটকে থাকবে না, পেটের ক্ষুধা মেটাতে তারা বের হয়ে আসবেই।

লেখক : ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নৃবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষক রাশেদা রওনক খান 

সংশ্লিষ্ট খবর

Back to top button
Close