বিশ্ববাংলা

এক বছরেও সন্ধান মেলেনি মালয়েশিয়ায় অপহৃত মামুনের

দীর্ঘ একবছর পেরিয়ে গেলেও অপহৃত মালয়েশিয়া প্রবাসী আল মামুনের সন্ধান মেলেনি। নেত্রকোনার অধিবাসী আল মামুন জীবিকার তাগিদে মালয়েশিয়ায় পাড়ি জমান। তার পাঠানো রেমিট্যান্সের টাকায় সচ্ছলতার মুখ দেখেছিলো তার পরিবার।

কিন্তু হঠাৎ একদিন কে বা কারা তাকে তার কর্মস্থলের সামনে থেকে অপহরণ করে নিয়ে যায়। সেই থেকে নিখোঁজ মামুন। শোকসন্তপ্ত পরিবারে নেমে এসেছে দারিদ্র্যের ছায়া।

একটু ভালো থাকার আশায় ২০০৭ সালে বৈধভাবে মালয়েশিয়ায় যান আল-মামুন। দীর্ঘদিন সেখানে বৈধভাবে অবস্থান করেন তিনি। হঠাৎ কে বা কারা ২০১৯ সালের ৬ এপ্রিল কুয়ালালামপুরের সেন্ট্রোলবালাই সিথিয়াকনের তার কর্মস্থলের সামনে থেকে অপহরণ করে নিয়ে যায়।

এর দুইদিন পর বিদেশী একটা নম্বর থেকে ফোন করে মামুনের পরিবারের কাছে ৮ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে। পরে মালয়েশিয়ায় থাকা আত্মীয় আনোয়ারের কাছে ব্যাংকের মাধ্যমে সাড়ে ৩ লাখ টাকা পাঠানো হয়।

মামুনের স্ত্রী পারুল, ৬ এপ্রিলের ঘটনা বর্নণা করতে গিয়ে বলেন, সন্ধ্যায় ফোন আসে তার স্বামীর। সে কান্না করতে করতে বলেছিলো আজকের পর থেকে তোমার সাথে আর কথা হবে না। আমি জানতে চাইলাম কেনো।

তিনি উত্তরে বলেছিলেন, আমাকে এখন রেডি করছে কোথাও নিয়ে যাবে। আর ওরা আমার হাতে ফোন দেয় না। তোমার কাছে যে টাকাটা বাকি আছে সেটাও ম্যানেজ করে পাঠাও।

ফোনে সব শুনে থানায় রিপোর্ট করার কথা বললে, এসব ঝামেলা করতে নিষেধ করেন তিনি। কিডন্যাফ কারা করেছে জানতে চাইলে তিনি বলেছিলেন, একজনের নাম ইথান আর আরেকজন ইনসান। এরা দু’জনই মালয়েশিয়ান এবং দুই ভাই।

টাকা নেয়ার ২০ মিনিটের মধ্যে ছেড়ে দেয়ার কথা থাকলেও, সেই ২০ মিনিট আজো আসেনি বলে কান্নায় ভেঙে পড়েন পারুল। অপহ্নত মানুনকে উদ্ধারে দূতাবাসসহ সরকারের সহায়তা চেয়েছেন  এলাকাবাসী।

নেত্রকোনার আটপাড়া থানার বিজয়পুর গ্রামের বাসিন্দা পারুল আখতার স্বামীকে খুঁজে পেতে ২০১৯ সালের ২৫ এপ্রিল ঢাকার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, মালয়েশিয়ার বাংলাদেশ হাইকমিশনসহ, প্রশাসনের দ্বারে দ্বারে দৌড়ঝাঁপ করেও কোনো আশার বাণী না পেয়ে, এখন হতাশায় দিন কাটাচ্ছেন।

অপহৃত প্রবাসী মামুনকে অপহরণকারীদের হাত থেকে রক্ষার আবেদন জানিয়ে, পারুল পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মহাপরিচালকের কাছে লিখিত অভিযোগও করেন। অস্টম শ্রেণীতে পড়া এক ছেলে নাফিদুল ইসলাম ইমনকে নিয়ে কষ্টে জীবন কাটাচ্ছেন পারুল।

এ প্রসঙ্গে মালয়েশিয়াস্থ বাংলাদেশ হাইকমিশনের দায়িত্বশীল এক কর্মকর্তা বলেন, বিষয়টি এখনো মালয়েশিয়া পুলিশের তদন্তাধীন, তাই এ ব্যাপারে মন্তব্য করা ঠিক হবে না। তবে মামুনকে উদ্ধার করতে পুলিশের সাথে সব সময় যোগাযোগ অব্যাহত আছে।

মোহাম্মদ আলী, মালয়েশিয়া প্রতিনিধি

সংশ্লিষ্ট খবর

Back to top button
Close