আন্তর্জাতিকইউরোপমধ্যপ্রাচ্যযুক্তরাষ্ট্র

করোনা: বিশ্বজুড়ে কমতে শুরু করেছে মৃত্যুর হার

করোনাভাইরাসে বিশ্বজুড়ে গত ২৪ ঘণ্টায় মৃত্যুহার কমেছে। একদিনে মারা গেছে সাড়ে ৪ হাজার মানুষ, আর নতুন সংক্রমণও আগের চেয়ে কমতির দিকে। এই পর্যন্ত মোট আক্রান্তের সংখ্যা দাড়িয়েছে ৩০ লাখেরও বেশি। বিশ্বজুড়ে মোট প্রাণহানি ছাড়িয়েছে ২ লাখ ১১ হাজার। চিকিৎসায় সুস্থ হয়েছেন ৯ লাখেরও বেশি মানুষ। এদিকে করোনার কারণে, বিশ্বের এক কোটি ৩০ লাখ ‍মানুষের নিয়মিত টিকাদান কর্মসূচী ব্যহত হচ্ছে বলে নতুন তথ্য দিয়েছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা।

কোভিড-১৯ জর্জরিত ইউরোপে কমতে শুরু করেছে মৃত্যুর হার। গত ২৪ ঘণ্টায় ইতালিতে ৩৩৩ এবং স্পেনে ৩৩১ জন মারা গেছেন। ফ্রান্সে একদিনে প্রাণহানি হয়েছে ৪৩৭ জনের। যুক্তরাজ্যে নতুন করে ৩৬০ জনের মৃত্যু হয়েছে। দেশটিতে মোট মৃত্যু এখন ২১ হাজারেরও বেশি। আক্রান্ত ছাড়িয়েছে ১ লাখ ৫৭ হাজার।

ইউরোপের দেশগুলোয় একদিনে দুই হাজারের মতো মানুষের মৃত্যু রেকর্ড করা হয়েছে। ধারণার তুলনায় দ্রুতগতিতে কমছে নতুনভাবে আক্রান্তের সংখ্যা। একারণেই, শিথিল করা হচ্ছে লকডাউন, তুলে দেয়া হচ্ছে বিধিনিষেধ। এই পরিস্থিতিতে, মহামারির তৃতীয় স্তরে নামার ঘোষণা দিলো নিউজিল্যান্ড। প্রধানমন্ত্রী জেসিন্ডা আরডেন দাবি করেন, বন্ধ করা গেছে কমিউনিটি ট্রান্সমিশন। তবে যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন বলেন, আক্রান্ত আর মৃত্যুর হার কমলেও, এখনই লকডাউন শিথিল করা হবে ঝুঁকিপূর্ণ সিদ্ধান্ত।

মৃত্যুর মিছিলে শীর্ষে থাকা যুক্তরাষ্ট্রে আক্রান্তের সংখ্যা ১০ লাখ ছাড়িয়েছে।বিশ্বে মোট আক্রান্তের তিনভাগের একভাগই মার্কিন দেশটিত। তবে কমেছে দৈনিক মৃত্যু হার। একদিনে মারা গেছেন ১ হাজার ৩৮৪ জন। দেশটিতে মোট প্রাণহানি হয়েছে প্রায় ৫৭ হাজার। করোনায় দেশটির বেশ কয়েকটি রাজ্যে লকডাউন শিথিল করলেও নিউইয়র্কে এখনই তা কার্যকর করার সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন না গভর্নর অ্যান্ড্রো কুমো। বরং বেশি আক্রান্ত এলাকায় লকডাউন ১৫ মে পর্যন্ত বাড়ানোর ইঙ্গিত দিলেন তিনি।

এরইমধ্যে, সংবাদ সম্মেলনে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ফের করোনাভাইরাসের জন্য চীনকে দোষারোপ করে বলেছেন, শি জিনপিং সরকার তথ্য গোপন না করলে, বিশ্বজুড়ে ব্যাপক প্রাণহানি ঠেকানো যেতো। এদিকে জার্মানিতে ১ লাখ ৫৮ হাজার ৭৫৮ জন মানুষ আক্রান্ত হয়েছেন। মৃত্যু হয়েছে ৬ হাজার ১২৬ জনের।

বিভিন্ন দেশে করোনাভাইরাসের টিকা উদ্ভাবনের চেষ্টা চলছে। জার্মান সংবাদমাধ্যম ডয়চে ভেলের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভারতের পুনেভিত্তিক সিরাম ইনস্টিটিউট সিদ্ধান্ত নিয়েছে অক্সফোর্ডের টিকা পরীক্ষা সফল হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করবে না। তার আগেই নিজস্ব প্রস্তুতি সেরে ফেলবে। বিবিসি বলছে, ভারতে এখন ছয়টি প্রতিষ্ঠান, করোনাভাইরাস সংক্রমণের টিকা তৈরির জন্য কাজ করছে। এর একটি হলো সিরাম ইনস্টিটিউট অব ইন্ডিয়া।

এদিকে, করোনার কারণে বিশ্বের এক কোটি ৩০ লাখ ‍মানুষের নিয়মিত টিকাদার কর্মসূচী ব্যহত হচ্ছে বলে নতুন তথ্য দিয়েছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা।

সংশ্লিষ্ট খবর

Back to top button
Close