দেশবাংলা

প্রধানমন্ত্রীর ত্রান নিজের নামে দিলো জামাত-শিবিরকর্মী

এবার প্রধানমন্ত্রীর বরাদ্দকৃত ত্রাণ নিজের নামে বিতরণ করার অভিযোগ উঠেছে জামাত শিবিরকর্মীর বিরুদ্ধে। আর চাঞ্চল্যকর ঘটনাটি ঘটে রাজধানীঘেষা গাজীপুরে। আর এ ঘটনায় ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে গাজীপুর মহানগরে। গাজীপুর সিটি করপোরেশনের ৪৭ নম্বর ওয়ার্ডের বিভিন্ন এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

অভিযুক্ত ওই জামাত-শিবিরকর্মীর নাম রবিউল্লাহ খান। জামায়াতের একজন সক্রিয় নেতা হয়ে প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ নিজের নামে দিয়ে বাহবা্হ নেয়ার চেষ্টা করছেন রবিউল্লাহ। এতে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। এ ব্যাপারে জামায়াত নেতা রবিউল্লাহ খান বলেন, ত্রাণ তো ত্রাণই। সেটা প্রধানমন্ত্রীর আর আমার একইতো।

জানা যায়, করোনায় ক্ষতিগ্রস্ত দুস্থ, গরিব, অসহায় ও দিনমজুরদের জন্য প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে গাজীপুর সিটি করপোরেশনের ৫৭টি ওয়ার্ডের জন্য ত্রান বরাদ্দ দেওয়া হয়। ওই ত্রানসামগ্রী সঠিক বন্টনের জন্য নগরীর প্রতিটি ওয়ার্ডের আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের সমন্বয়ে ত্রান কমিটি করার নির্দেশ দেওয়া হয়।

কিন্তু ৪৭ নম্বর ওয়ার্ডে ত্রান বিতরণে দলীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে কোন সমন্বয় না করে বিতর্কিত জামাত-শিবিরের কর্মী রবিউল্লাহ খানকে ত্রান দেয়ার দায়িত্ব দেয়া হয়। আর এ সুযোগে নিজের নামে ত্রাণ বিতরণ করে ওই জামায়াত নেতা। এতেই বিপত্তি দেখা যায় আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের মধ্যে। এছাড়াও ত্রান বিতরণে বিভিন্ন অনিয়ম ও লুকোচুরির অভিযোগও তোলা হয়েছে। উপেক্ষিত করা হয়েছে স্থানীয় সরকারি দলের নেতাকর্মীদের। বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে ক্ষোভ বিরাজ করছে।

এদিকে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, অসুস্থতার কারণে চিকিৎসাধীন রয়েছেন ৪৭নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর সাদেক আলি। তার অনুপস্থিতিতে ওয়ার্ড সচিব ও কাউন্সিলরের পরিবারের লোকজন ত্রান বিতরণ কাজ করছেন। ওয়ার্ডে ১৫০০ প্যাকেট খাদ্যসামগ্রী, চারশত রেশন কার্ড ও সাতশত পরিবারের জন্য মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে নগদ সহায়তা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।

নিয়ম অনুযায়ী ওয়ার্ড আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের নিয়ে গঠিত ত্রান কমিটির সঙ্গে সমন্বয় করে এসব ত্রান বিতরণের কথা থাকলেও বাস্তব চিত্র ভিন্ন। গত শনিবার কাউন্সিলর কার্যালয়ে বেশ কয়েকটি অসহায় পরিবারের মাঝে ত্রান সামগ্রী তুলে দেওয়া হয়। প্রধানমন্ত্রীর ওই ত্রান তুলে দেন স্থানীয় জনকল্যাণ ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান জামায়াত নেতা রবিউল্লাহ খান ও শিবির কর্মী শাহ আলম পাটোয়ারী রিগান।

এদিকে শিবির কর্মী শাহ আলম পাটোয়ারী রিগানের ব্যক্তিগত ফেসবুক আইডি থেকে বিভিন্ন সময়ে যুদ্ধাপরাধী দেলোয়ার হোসেন সাঈদির মুক্তি দাবি, বঙ্গবন্ধু, প্রধানমন্ত্রী ও সরকারবিরোধী বিভিন্ন তীর্যক মন্তব্য পোস্ট করা হয়েছে যা এই প্রতিবেদকের কাছে সংরক্ষিত আছে। আর শাহ আলম পাটোয়ারী রিগানকে পৃষ্টপোষকতা করেন রবিউল্লাহ খান।

নাম প্রকাশ না করা শর্তে স্থানীয় নেতাকর্মীরা অভিযোগ করেন, রবিউল্লাহ খান এক সময় জামায়তের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ছিলেন। এখনও তিনি ওয়ার্ডে জামায়াতের কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত। শুধু তাই নয়, রবিউল্লাহ খানের বড় ভাই নুর-ই মোস্তফা খান ৪৭নং ওয়ার্ড বিএনপির বর্তমান সভাপতি। মেঝো ভাই সাইফুল ইসলাম খান আহসান উল্লাহ মাস্টার হত্যা মামলার পলাতক আসামী নুরুল ইসলাম দিপুর ‘ক্যাডার বাহিনীর’ সদস্য।

১৯৯৯ সালে টঙ্গী সরকারি কলেজ ছাত্রলীগ নেতা মেহেদী হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় সাইফুল ইসলাম খানের বিরুদ্ধে মামলা হলে তিনি ইতালি পালিয়ে যান। এসব বিষয়ে ওয়ার্ড যুবলীগের আহবায়ক মনির হোসেন সাগর জানান, যারা কখনও জয় বাংলার স্লোগান দেয়নি, আওয়ামী লীগের জন্য একটা মিছিল করেনি তাদের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীর ত্রান বিতরণ করা হচ্ছে। আবার নিজের নামে প্রচার করছে।

৪৭নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আহসান উল্লাহ বলেন, ওয়ার্ডে প্রধানমন্ত্রীর ত্রান এবং নগদ সহায়তা বিতরণ করা হচ্ছে অথচ আমরা ওয়ার্ড আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের কেউই জানি না। কে ত্রান দিচ্ছে, কারা ত্রান পাচ্ছে, কি পরিমানে ত্রান দেওয়া হচ্ছে কোন ধরনের তথ্য আমাদেরকে জানানো হয়না। দলীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে কোন ধরনের সমন্বয় ছাড়াই জামায়াত-শিবিরের নেতাকর্মীদের দিয়ে ত্রান বিতরণ করা হচ্ছে। ত্রান বিতরণে স্বচ্ছতার ঘাটতি রয়েছে বলেও তিনি অভিযোগ করেন।

প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ বিতরণে অনিয়মের অভিযোগ অস্বীকার করে গাজীপুর সিটি করপোরেশনের ৪৭ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলরের সচিব তারিফুল ইসলাম রুবেল বলেন, ত্রান বিতরণে কোন ধরনের অনিয়ম হয়নি। ওয়ার্ড আওয়ামীলীগের সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক সহ সহযোগী সংগঠনের সকলের সঙ্গে সমন্বয় করা হচ্ছে।

মোঃ তাওহীদ কবির,  টঙ্গী প্রতিনিধি

সংশ্লিষ্ট খবর

Back to top button
Close