অন্যান্যবাংলাদেশ

রাজধানী ছেড়েছে ৫০ হাজারেরও বেশি মানুষ

করোনার ভয়াল থাবায় দিন দিন জটিল হয়ে উঠছে রাজধানীর জনজীবন। একদিকে বাড়ছে জীবনযাত্রার ব্যয়, অন্যদিকে কমছে আয়। এমন অবস্থায় চরম বিপাকে রাজধানীর মধ্যবিত্ত শ্রেণির মানুষেরা।

টিকে থাকার এই সংগ্রামে হেরে গিয়ে ঢাকা ছেড়ে গ্রামে ফিরছেন এদের অনেকে। কেউ কেউ আবার বাসা বদল করে উঠছেন কম ভাড়ার বাড়িতে। এই পরিস্থিতিতে, এই শ্রেণির জন্যও প্রণোদনার তাগিদ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।

শহরের কোলাহলে একটুখানি সুখের নীড় খুঁজে পেতে ভাড়া বাড়ি নগরের বেশিরভাগ মানুষের প্রধান আশ্রয়। ভাড়া থাকা নিরুপায় মানুষগুলো অনেকটা জিম্মি বাড়িওয়ালাদের কাছে। তবে এই করোনাকালের বাস্তবতায়  বাড়িওয়ালারাও যেন অনেকটা উপায়হীন।

ঢাকার অধিকাংশ বাড়ির মালিকরা সঙ্গে ভাড়াটিয়ার সম্পর্ক বেশি ভালো নয়। তবে এর ব্যতিক্রমও রয়েছে। কিন্তু করোনা পরিস্থিতিতে বাড়ির মালিক আর ভাড়াটিয়া কেউই আশার আলো দেখছেন না।

জীবন-জীবিকার তাগিদে গ্রাম ছেড়ে ১২ বছর আগে রাজধানী ঢাকায় আসেন হাফিজুর রহমান। চাকরি নেন একটি মাদ্রাসায় শিক্ষকতার। এতদিনে পরিবারের সদস্য সংখ্যা ২ থেকে বেড়ে ৪ জন হলেও, প্রশস্ত হয়নি আয়ের পথ। এ অবস্থায়, তিনি বাধ্য হচ্ছেন ঢাকা ছাড়তে।

করোনার এই  মহামারীতে কমে গেছে মধ্যবিত্তের আয়, বেড়ে গেছে জীবনযাত্রার ব্যয়। পরিবার নিয়ে এখন বেঁচে থাকাটাই যেন মধ্যবিত্তের বড় চ্যালেঞ্জ। রাজধানীর প্রায় প্রতিটি বহুতল বাড়িতেই ঝুলছে টু-লেট। পরিসংখ্যান বলছে করোনার থাবায় গত এক বছরে রাজধানী ছেড়েছে ৫০ হাজারেরও বেশি মানুষ। যা এখনো চলমান।

সরকার ঘোষিত খাদ্য ও নগদ অর্থ সহায়তার যে প্রকল্প চালু রয়েছে, তার পরিধি আরো বাড়ানো দরকার বলে মনে করেন গবেষক ও অর্থনীতিবিদ ডক্টর নাজনীন আহমেদ।

অন্যদিকে, বছর ঘুরলেই বাড়ি ভাড়া বেড়ে যায়, বেড়ে যায় সার্ভিস চার্জও। কিন্তু সে তুলনায় বাড়ে না ভাড়াটিয়ার আয়। এমন পরিস্থিতিতে, সামাজিক মর্যাদাটা রক্ষা করাই যেন মধ্যবিত্তের সম্বল।

শাহরিয়ার রাজ, বাংলাটিভি

সংশ্লিষ্ট খবর

Back to top button
Close