অন্যান্যবাংলাদেশ

বিশ্ব পরিসংখ্যানে সংক্রমণ ও মৃত্যুহারে বাংলাদেশ তুলনামূলক স্থিতিশীল

সারাবিশ্বে করোনাভাইরাসে সংক্রমণ ও মৃত্যুর সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে। তবে, সে তুলনায় বাংলাদেশে অনেকটাই কম আক্রান্ত ও মৃত্যুর হার। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দেশে বয়স্ক মানুষের সংখ্যা কম হওয়ায় মৃত্যুর হার স্থিতিশীল রয়েছে। রোগি মারা যাওয়ার পরিমান আরো কমিয়ে আনতে, সর্বোচ্চ তৎপরতার নেয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।

চীনের উহান থেকে শুরু হওয়া করোনাভাইরাস, এখন তাণ্ডব চালাচ্ছে বিশ্বব্যাপী। প্রথম শনাক্তের পর ৭ মাসে ভাইরাসটি প্রভাব বিস্তার করে ফেলেছে পৃথিবীর কোনায় কোনায়।

বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য বলছে, শুরুর দিন করোনাভাইরাস শনাক্ত হয়েছিল ২৫৬ জন, আর ৯ জুলাই আগের সব রেকর্ড ভেঙে একদিনেই শনাক্ত হয়েছে ২ লাখ ২২ হাজার ৮২৫ রোগি। মরণঘাতি এই ভাইরাসে এখন পর্যন্ত সারা বিশ্বে আক্রান্তের সংখ্যা ছাড়িয়েছে ১ কোটি ২৩ লাখ। তবে আসার কথা হলো এরমধ্যে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন প্রায় ৭৩ লাখ মানুষ।

২২ জানুয়ারি প্রথম একদিনে করোনায় মৃত্যুবরণ করেছিল ১৭ জন। আর ৯ জুন পর্যন্ত তা গিয়ে ঠেকেছে ৫ লাখ ৫৭ হাজার ৪১৬ জনে। একদিনের হিসেবে তবে ১৭ই এপ্রিল সর্বোচ্চ মৃত্যু হয়েছিলে ৮,৪৮৫ জনের। বর্তমানে সারাবিশ্বে করোনায় চিকিৎসাধীন রয়েছেন ৪৬ লাখের বেশি, যার মধ্যে জটিল অবস্থায় থাকার রোগীর সংখ্যা মাত্র ১ শতাংশ। বৈশ্বিক হিসেবে, করোনা এখন পর্যন্ত আক্রান্তদের মাত্র ৭ শতাংশ মানুষ মারা গেছেন।

আইইডিসিআরের তথ্য অনুসারে, বাংলাদেশে মোট ৯ লাখের উপরে নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে। এতে করোনা শনাক্তের সংখ্যা পৌনে দুই লাখের বেশি। চিকিৎসায় সুস্থ হয়েছেন প্রায় ৮৫ হাজার রোগি, মারা গেছে সোয়া দুই হাজারের বেশি। মৃত্যুর তালিকায় থাকা ৪৬ শতাংশ রোগির বয়স ছিলো ৬০ বছরের বেশি।

উন্নত বিশ্বে কোথাও কোথাও মৃত্যুর হার ৭ থেকে ১৮ শতাংশ পর্যন্ত, সেখানে আশার কথা হল বাংলাদেশে করোনারোগি মৃত্যুর হার মাত্র ১.৪০ শতাংশ। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মৃত্যু তুলনামূলক কম হওয়ার কারণ বয়ষের তারতম্য। মৃত্যু কম হলেও, তাকে আরো নিয়ন্ত্রণে আনতে সর্বোচ্চ চেষ্টা করা হচ্ছে বলে জানিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।

সর্বোপরি মানুষের মধ্যে সচেতনতা বাড়লে, হয়তো দ্রুত সময়ের মধ্যে মহামারি করোনাভাইরাসে থেকে প্ররিত্রাণ মিলবে এমনটিই আশা করছেন চিকিৎসা সংশ্লিষ্টরা।

বুলবুল আহমেদ, বাংলাটিভি

সংশ্লিষ্ট খবর

Back to top button
Close