দীর্ঘদিন পর তুরস্কের হায়া সোফিয়া মসজিদে রুপান্তর

দীর্ঘদিন পর তুরস্কের হায়া সোফিয়াকে আবারও মসজিদে রুপান্তর করা হয়েছে। পশ্চিমা চাপ থাকলেও, ইসলামিক সংগঠনগুলো অনেকদিন ধরেই এটিকে মসজিদে রুপান্তর করার দাবী জানিয়ে আসছিলো। আদালতের রায়ে এটি পুনরায় মসজিদ হিসেবে যাত্রা শুরু করলো।
তুরস্কের রাজধানী ইস্তাম্বুলের প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত হায়া সোফিয়া নামক স্থাপনাটি দীর্ঘ ৯১৬ বছর খ্রিষ্টানদের গীর্জা হিসেবে ব্যাবহৃত হয়েছে। এরপর ১৪৫৩ সালে সুলতান মুহাম্মদ ফাতিহ, তুর্কি বিজয়ের পর খ্রিস্টানদের কাছ থেকে এটিকে কিনে নিয়ে মসজিদে রুপান্তরিত করেন। সেই থেকে শুরু করে ১৯৩৫ সাল পর্যন্ত, প্রায় ৫০০ বছর এটি মসজিদ হিসেবে ব্যাবহৃত হয়েছে। এরপর কামাল আতাতুর্কের সময় এটিকে জাদুঘরে রূপান্তরিত করা হয়। জাদুঘর থাকাকালে ১৯৮৫ সালে, হায়া সোফিয়াকে বিশ্ব ঐতিহ্যের তালিকায় স্থান দেয় ইউনেস্কো।
অনেকদিন ধরেই বেশকিছু ইসলামিক সংগঠন এই স্থাপনাটিকে পুনরায় মসজিদে রুপান্তরের দাবী জানিয়ে, আন্দোলন করে আসছিলো। পশ্চিমা চাপ থাকা সত্বেও, গত ১০ জুলাই উচ্চ আদালতের রায়ে এটিকে মসজিদ হিসেবে ব্যাবহারের অনুমতি দেয়া হয়েছে।
গত শুক্রবার জুমার নামাজের মধ্য দিয়ে হায়া সোফিয়া বা পবিত্র জ্ঞান নামক এই স্থাপনাটি পুনরায় মসজিদ হিসেবে ব্যাবহারের জন্য, উন্মুক্ত করে দেয়া হয়েছে। ঐতিহাসিক এ নামাজে অংশ নেয়ার জন্য গত বৃহস্পতিবার রাত থেকেই, প্রবাসী বাংলাদেশীসহ স্থানীয়রা ভীড় জমায় মসজিদটির পাশে। মুখে মাস্ক এবং আলাদা জায়নামাজসহ, ১১টি চেকপোস্ট দিয়ে মুসল্লিদের হায়া সোফিয়ার চত্বরে, প্রবেশ করতে দেয়া হয়। মসজিদ চত্বরে ১৭টি স্বাস্থ্য পরীক্ষা কেন্দ্র স্থাপন করা হয়।
গত শুক্রবার তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যেব এরদোগানসহ লাখো মুসুল্লি এবং দেশটির গণ্যমান্য ব্যাক্তিবর্গ এ নামাজে অংশ নেন। এ স্থাপনাটিকে পুনরায় মসজিদে রুপান্তর করায়, পশ্চিমে অসন্তোষ সৃষ্টি হলেও সন্তোষ জানিয়েছে মুসলিমরা।
বাংলাটিভি/শহীদ



