দেশবাংলা

গাংনী সাব-রেজিস্ট্রারের কার্যালয়ে বেড়েছে সেবার মান

বৈশ্বিক করোনা মহামারীতে জনসমাগম এড়িয়ে রাজস্ব সংগ্রহ নিরবিচ্ছিন্ন রাখা বেশ চ্যালেঞ্জিং। তবে সেই কাজটিই সীমিত সাধ্যের মধ্যে প্রযুক্তির মেলবন্ধনে সম্ভব ও বাস্তবায়ন অব্যাহত রখেছে গাংনী সাব-রেজিস্ট্রারের কার্যালয়। সাব-রেজিস্ট্রারের কার্যালয় একদিকে যেমন শ্রমঘন, অপরদিকে স্বল্প সময়ে যাচাই-বাছাইসহ সেবা-গ্রহীতারা শতভাগ সেবা পাচ্ছেন।

গাংনী উপজেলা সাব-রেজিস্ট্রারের কার্যালয়ে শতাধিক লেখক ও সহকারী, নকল নবিস, কর্মচারী ও সেবা-গ্রহীতাসহ প্রতিনিয়ত সহ¯্রাধিক মানুষের আনাগোনায় মুখরিত ও প্রাণচঞ্চল হয়ে উঠে গাংনী উপজেলার একমাত্র কার্যালয়। বর্তমান পরিস্থিতি মোকাবেলা করে স্বাস্থ্যবিধি মেনে কার্যালয়ের সকল কাজ সুষ্ঠুভাবে পরিচালনায় সাব-রেজিস্ট্রার মোঃ মাহফুজ রানা।

মাহফুজ রানা যোগদানের পর অভিনব সিরিয়াল টোকেন বোর্ড স্থাপন করেছে,ফলে লেখকগণ বাইরে থেকেই দলিল দাখিল করে সিরিয়াল নম্বর স্মারক একটি রিসিট পান। এই রিসিটে উল্লেখিত সিরিয়াল নম্বর লেখক বাইরে দূর থেকে বা সেরেস্তায় বসে দেখতে পান। প্রয়োজনবোধে কাগজপত্র সহ দাতাগণকে নিয়ে, হাত ধুয়ে, মাস্ক পড়ে প্রঙ্গণ গেইট অতিক্রম করে জানালার সামনে এসে দাঁড়ান সেবা গ্রহিতারা। সেখান থেকেই কাগজপত্র, দাতার সম্পাদন স্বীকারোক্তি, টিপছাপ সংগ্রহ করা হয়। কেউ সিরিয়াল মিস করলে তাকে হ্যান্ড মাইকের মাধ্যমে ডাকা হয়।

এতে সেবা-প্রত্যাশী ও লেখকগণের ভীড় এড়িয়ে সুশৃঙ্খলভাবে রেজিস্ট্রি কার্যক্রম ও রাজস্ব আয় ও পরিচালন সম্ভব হচ্ছে। সর্বোপরি, করোনা সংক্রমণের ঝুঁকি হ্রাস-করণে এ এক যুগান্তকারি উদ্যোগ বলে জানান সেবা প্রত্যাশী গাংনীবাসি। সেবা প্রত্যাশী সাহারবাটি গ্রামের পাপ্পু জানান,গাংনী সাব-রেজিস্ট্রার কার্যালয় পরিবেশ ও সেবার মান বৃদ্ধি পেয়েছে। কয়েক মাস আগের অফিস আর বর্তমান অফিসের চেহারা বদলে গেছে। কার্যালয়ের সামনে পরিস্কার পরিচ্ছন্ন ও ফুলের বাগান নির্মান করে সৌদর্য্য বৃদ্ধি করা হয়েছে কার্যালয়ের।

মাইলমারী গ্রামের রেহেনা বেগম জানান, আগে জমি কেনা বেচা করতে রেজিস্ট্রারের অফিসের গেটে অপেক্ষা করতে হতো ঘন্টার পর ঘন্টা। বর্তমানে অফিসে আসার সাথে সাথে এখন নিমিশেই কাজ শেষ হয়ে যায়। সাহারবাটি গ্রামের মুসলিমা খাতুন বলেন, তিনি গত সপ্তায় ৫ কাঠা জমি রেজিস্ট্রি করতে গাংনী কার্যালয়ে যান। আগে সরকারি নির্ধারিত ফিস ব্যাতিত অতিরিক্ত টাকা গুনতে হয়েছে তাকে।

এখন সরকার নির্ধারিত মুল্যে জমি রেজিস্ট্রি করতে পেরেছেন বলে সন্তুষ্টি প্রকাশ করেন। রেজিস্টারিং অফিসার মো. মাহফুজ রানা বলেন, গাংনী সাব-রেজিস্টার কার্যালয়টি মানুষের সেবায় নিয়োজিত হবে এবং দুর্ণীতিমুক্ত একটি অফিস হিসেবে উপহার দিতে চাই। অফিসের অভ্যন্তরীণ বিষয়টি নয় বাহ্যিক ভাবেও সৌন্দর্য বৃদ্ধি ও দৃষ্টি নন্দন করে গাংনী বাসির সেবাই নিয়োজিত হবে সাব-রেস্ট্রিার কার্যালয়।

তবে অনেক কিছুর সাথেই মানুষ অভ্যস্ত হয়ে পড়েছিল। সেখান থেকে মানুষকে বেরিয়ে এসে বর্তমান সরকারের ডিজিটাল সেবা নেয়ার মানষিকতা তৈরী করতে হবে। তিনি আরো বলেন এখানে সরকারি রাজস্ব অনেকাংশে বৃদ্ধি পেয়েছে।

গাংনী পৌর মেয়র আশরাফুল ইসলাম বলেন, গাংনী সাব-রেজিস্ট্রারের কার্যালয়টি দিনদিন সৌদর্র্য্য বৃদ্ধি পাচ্ছে। দৃস্টি নন্দনের সাথে সেবার গুণগত মান বৃদ্ধি পেয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

মেহেরপুর-২গাংনী আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ সাহিদুজ্জামান খোকন বলেন, সাব-রেজিস্ট্রার মাহফুজ রানার সাথে কথা বলে গাংনী বাসিকে সরকারি মুল্যে সেবা প্রদানের নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। বর্তমানে কোন প্রকার অভিযোগ ছাড়াই জমি-জমা রেজিস্ট্রারের কাজ করেছে গাংনীর মানুষ। এখন পর্যন্ত কেউ অভিযোগ তোলেনি। কোন অভিযোগ কানে আসলে দেখা যাবে।

আকতারুজ্জামান, মেহেরপুর প্রতিনিধি

সংশ্লিষ্ট খবর

Back to top button