
মিয়ানমারের রাখাইন থেকে বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গা জনস্রোতের ৩ বছর আজ। রাখাইনের ২০১৭ সালের ওই নৃশংসতাকে গণহত্যা বলছে জাতিসংঘ। ওই ঘটনায়, কক্সবাজারের বিপুল এলাকাজুড়ে যে সাত লাখ রোহিঙ্গা আশ্রয় নিয়েছিল, গেলো তিন বছরে তাদের একজনকেও ফেরত পাঠানো যায়নি।
এ অবস্থায়, রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া শুরু করতে দ্বিপাক্ষিক পদক্ষেপের পাশাপাশি, আঞ্চলিক ও বহুপাক্ষিক কূটনৈতিক প্রচেষ্টা জোরদারের তাগিদ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।
রাখাইনে মিয়ানমার সেনাবাহিনীর দমন-নিপীড়নে ২০১৭ সালের ২৫ আগস্ট থেকে ঘর-বাড়ি ছেড়ে বাংলাদেশে আসতে থাকে রোহিঙ্গারা। মাত্র কয়েক মাসেই যার সংখ্যা ছাড়িয়ে যায় সাত লাখ। এর আগেও বাংলাদেশে অবস্থান করছিল আরও চার লাখ রোহিঙ্গা শরণার্থী।
রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন শুরু করতে ২০১৭ সালের নভেম্বরে চুক্তি সই করেছিল বাংলাদেশ ও মিয়ানমার। এর পরের বছরের ফেব্রুয়ারিতে প্রত্যাবাসন শুরু করতে পররাষ্ট্রসচিব পর্যায়ে জয়েন্ট ওয়ার্কিং গ্রুপ গঠন করা হয়। গত বছরের ২২ আগস্ট চীনের মধ্যস্থতায় দুই দেশ প্রত্যাবাসনের তারিখ ঠিক করলেও তা বাস্তবায়ন করতে পারেনি।
এর আগে ২০১৮ সালের ১৫ নভেম্বর রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের প্রথম তারিখ ঠিক করেছিল দুই দেশ। দুটি চেষ্টাই শেষ পর্যন্ত ব্যর্থ হয়।
সাবেক কূটনীতিক এবং আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষকরা বলছেন, রোহিঙ্গা ঢলের শুরু থেকেই জাতিসংঘসহ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় বাংলাদেশের পাশে রয়েছে। অথচ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে অনেকটা আড়ালে রেখেই প্রত্যাবাসনের চেষ্টা হয়েছে। রোহিঙ্গা সংকট সমাধানের জন্য দ্বিপক্ষীয় পন্থা বা চীনের মধ্যস্থতা যে কাজ করছে না, এটি এখন অনেকটাই প্রমাণিত।
এ অবস্থায়, রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন শুরু করতে দ্বিপাক্ষিকের পাশাপাশি, আঞ্চলিক ও বহুপাক্ষিক কূটনৈতিক প্রচেষ্টা জোরদার করার পক্ষে মত দেন তারা।
এদিকে, দুই দফায় রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া ব্যর্থ হওয়ায়, বাংলাদেশকে নতুন করে কূটনৈতিক কৌশল নির্ধারণ করতে হবে বলেও মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
আসাদ রিয়েল, বাংলা টিভি



