অন্তসত্বা নারীর খাদ্যনালী ছিদ্র করে ফেললেন নার্স

পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে জাহানারা বেগম নামের এক অন্তসত্বা নারীর ডায়লেশন এ্যান্ড কিউরাটেজ (ডি এ্যান্ড সি) করতে গিয়ে খাদ্য নালী ছিদ্র ফেলেছেন শিরিন আক্তার নামে এক নার্স।
জীবন সংকটাপন্ন অবস্থায় ওই নারী বর্তমানে বরিশালের বেসরকারী মোখলেছুর রহমান হাসপাতালের গাইনী বিশেষজ্ঞ ডা. মো. শাহ আলম তালুকদারের তত্বাবধানে চিকিৎসাধীন আছেন।
এ ঘটনায় বিচার চেয়ে গতকাল মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) ওই নারীর স্বামী সোহেল হাওলাদার উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। জাহানারা উপজেলার নওমালা ইউনিয়নের বটকাজল গ্রামের সোহেল হাওলাদারের স্ত্রী।
অভিযোগ সুত্রে জানা গেছে, জাহানারা বেগম সম্প্রতি অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়লে গত ২২ সেপ্টেম্বর উপজেলা স্বাস্থ্যকমপ্লেক্সে পরামর্শের জন্য আসেন। এ সময় স্বাস্থ্যকমপ্লেক্সের নার্স শিরীন আক্তার জাহানারাকে ডি এ্যান্ড সি করার পরামর্শ দিলে তিনি রাজী হন। এক পর্যায়ে স্বাস্থ্যকমপ্লেক্সের কোন গাইনী বিশেষজ্ঞের পরামর্শ না নিয়েই নার্স শিরিন আক্তার নিজেই ডি এ্যান্ড সি করেন।
ডি এ্যান্ড সি করার সময় জাহানারা বেগমের পেটের ভিতরের অংশে খাদ্যনালীর একাধিক অংশ ছিদ্্র করে ফেলেন শিরিন আক্তার। খাদ্যনালী ছিদ্্র হওয়ার কারনে জাহানারা বেগমের প্রচুর রক্তক্ষরণ হয় এবং মলমূত্র পেটের সর্বত্র ছড়িয়ে পড়ে। এরপর স্বজনরা জাহানারা বেগমকে মুমুর্ষ অবস্থায় উন্নত চিকিৎসার জন্য বরিশালের মোকলেছুর রহমান হাসপাতালে নিয়ে যান।
মোখলেছুর রহমান হাসপাতালের গাইনি বিশেষজ্ঞ ডা. শাহ আলম তালুকদার বলেন, ‘ডি এ্যান্ড সি করার সময় জাহানারা বেগমের খাদ্যনালীর নীচের একাধিক অংশ ছিদ্্র হয়ে গেছে। তার অবস্থা খুবই সংকটাপন্ন। মলমূত্র ত্যাগ করার জন্য তার পেটের বাইরে একটি ব্যাগ স্থাপন করা হয়েছে। আগামী ৩ মাস পর তাকে ফের অপারেশন করা হবে।’
ওই নারীর স্বামী সোহেল হাওলাদার জানান, চিকিৎসার জন্য জাহানারা বেগমের অনেক টাকা প্রয়োজন। ইতিমধ্যে ঋণ করে ৪০ হাজার টাকা চিকিৎসার জন্য খরচ করেছেন। এখন আর তার সামর্থ নেই।
নার্স শিরীন আক্তার বলেন, ‘আমার ভুল হতেই পারে। এ ব্যাপারে জাহানারা বেগমের স্বজনদের সঙ্গে আমার কথা হয়েছে। এরপরও আমার বিরুদ্ধে কেন অভিযোগ দিল বুঝতে পারছি না।’
বাউফল উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. প্রশান্ত কুমার সাহা বলেন, ‘ আমি এ সংক্রান্ত একটি অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
কৃষ্ণ কর্মকার, বাউফল প্রতিনিধি



