পূবাইলে স্বামী-স্ত্রীর গলা কেটে হত্যার রহস্য উন্মোচন

গাজীপুরের আলোচিত স্বামী-স্ত্রীর গলা কেটে হত্যার ঘটনা অবশেষে উম্মোচন করলো পুলিশ ব্যুরো ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। দীর্ঘ সময় তদন্ত শেষে এ ঘটনার রহস্য উন্মোচন করা হয়েছে। এ সময় পলাশ নামে প্রধান আসামি গ্রেফতার করেছে পিবিআই।
পিবিআই তদন্তকারী কর্মকর্তা পুলিশ পরিদর্শক মোঃ হাফিজুর রহমান পিপিএম বলেন, গাজীপুর মহানগরের পূবাইলের বসুগাঁও এলাকায় গত বছরের ২৬ সেপ্টেম্বর রাতে নিজ ঘরের ভিতর আবুল কালাম ও তার স্ত্রী পুতুলকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কে বা কারা এলোপাথারীভাবে কুপিয়ে হত্যা করে পালিয়ে যায়।
এ ঘটনায় নিহতের বোন মোসাঃ হেলেনা অজ্ঞাতনামা আসামীদের বিরুদ্ধে এজাহার দায়ের করলে গাজীপুর মহানগরের পূবাইল থানায় মামলা রুজু হয়।
উল্লিখিত চাঞ্চল্যকর এই ঘটনার ২ মাস পর পুলিশ হেডকোয়ার্টার্স ঢাকার নির্দেশে পিবিআই গাজীপুরের উপর মামলা তদন্তভার অর্পণ হলে পিবিআই তদন্তকারী দল তদন্ত শুরু করেন। মামলাটি তদন্তকালে গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে অত্র মামলার ঘটনায় সরাসরি জড়িত নিহত আবুল কালাম এর আপন ভাগ্নি জামাই মোঃ পলাশকে পূবাইল থানাধীন সাপমারা এলাকা থেকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
উক্ত আসামীকে নিবিড়ভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করলে ঘটনায় জড়িত থাকার বিষয়ে নিজেকে জড়িয়ে অন্যান্য আসামীদের নাম ঠিকানা প্রকাশ করে ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে। পরবর্তীতে উক্ত আসামীকে বিজ্ঞ আদালতে প্রেরন করলে ফৌঃকাঃবিঃ এর ১৬৪ ধারা মোতাবেক সেচ্ছায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান করে।
গ্রেফতারকৃত আসামী তার প্রদত্ত জবানবন্দিতে উল্লেখ করে যে, তার শাশুরীর পৈত্রিক সম্পত্তি উপর নির্মিত ঘর ও জমি তার মামা শ্বশুর নিহত আবুল কালাম ও খালা শ্বাশুরী অত্র মামলার বাদীনি মোসাঃ হেলেনা কর্তৃক বিক্রির জন্য বায়না প্রদান করায় উক্ত জমি পরবর্তীতে যাতে জমি ক্রয়কারী রেজিষ্ট্রি করতে না পারে এজন্য গ্রেফতারকৃত আসামী তার
সহযোগী আসামীদের নিয়ে নিহত আবুল কালাম ও তার স্ত্রী পুতুলকে সুকৌশলে রাতের বেলায় ঘুমান্ত অবস্থায় ডাক দিলে ঘুম থেকে উঠে দরজা খোলার পর তাদের চোখে মরিচের গুড়া ছিটিয়ে ০২ বছরের শিশু সন্তানের সামনে ধারালো চাপাতি দিয়ে মাথা ও শরীরের বিভিন্ন জায়গায় রক্তাক্ত জখম করে নির্মমভাবে হত্যা করে।
শিশু সন্তান সাফউয়ান (০২) এর আর্তনাদে প্রতিবেশীগন আনুমানিক ভোর ০৫ টায় কিছু সময় পর মৃত আবুল কালাম এর বসত ঘরে এসে আবুল কালাম ও তার স্ত্রী পুতুল এর রক্তাক্ত ক্ষতবিক্ষত মৃত দেহ দেখতে পায়।
তদন্তকারী কর্মকর্তা পুলিশ পরিদর্শক মোঃ হাফিজুর রহমান (পিপিএম) জানান মামলাটি তদন্তাধীন। ঘটনার সাথে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে জড়িত অন্যান্য আসামীদের গ্রেফতারের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।
তাওহীদ কবির, টঙ্গী প্রতিনিধি



